মাতারবাড়ীতে প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে পরিবেশবান্ধব ডকইয়ার্ড ও জাহাজ নির্মাণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এখন প্রকল্পটির কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়নের জন্য প্রস্তাবটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। সম্পূর্ণ বেসরকারি অর্থায়নে সরকারি জমির মালিকানা অক্ষুণ্ন রেখে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের চ্যানেল ও পরিচালন সক্ষমতা অক্ষুণ্ন রাখা, বড় আকারের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের মেরামত সুবিধা নিশ্চিত করা এবং দেশের নীল অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যেই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ আঞ্চলিক সামুদ্রিক সেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ পাবে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬ অনুযায়ী ডকইয়ার্ড শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত হলেও প্রকল্পটির কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় গত ৭ জুন অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় শিল্প মন্ত্রণালয় অনাপত্তি দেয়। এরপর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের জন্য পিপিপি কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠায়।
প্রকল্পটির প্রধান বিনিয়োগকারী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিষ্ঠান এআইএস মেরিন ইনভেস্টমেন্টস প্রাইভেট লিমিটেড কাজ করবে। প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত ২০০ একর জমি ও স্থাবর সম্পদের মালিকানা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছেই থাকবে। চুক্তির মেয়াদ শেষে নির্মিত সব অবকাঠামো রাষ্ট্রীয় মালিকানায় হস্তান্তর করা হবে।
প্রকল্পের আওতায় ৬০০ মিটার দীর্ঘ ও ৯৫ মিটার প্রশস্ত একটি শুষ্ক ডক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে চলাচলকারী বড় আকারের আন্তর্জাতিক জাহাজ দেশে থেকেই মেরামত করা সম্ভব হবে। বর্তমানে এ ধরনের জাহাজ মেরামতের জন্য সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত কিংবা চীনের বন্দরে যেতে হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে দেশের সামুদ্রিক অর্থনীতির যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, এই প্রকল্প সেই সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করবে। সরকারি জমির মালিকানা সংরক্ষণ করে সম্পূর্ণ বেসরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নীতিগত অনুমোদনের পর এখন পিপিপি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়নের কাজ এগিয়ে চলছে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পরবর্তী ধাপে প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বন্দরের কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক পরিবেশগত মানদণ্ড অনুসরণ করে প্রকল্পটি নির্মাণ করা হবে। এতে কম দূষণকারী জ্বালানি প্রযুক্তি, আধুনিক বর্জ্যপানি শোধন ব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে, প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ জনের সরাসরি এবং প্রায় ২ হাজার ৬০০ জনের পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে মহেশখালী ও মাতারবাড়ীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা শিল্প, জ্বালানি, বন্দর ও সরবরাহব্যবস্থা খাতের বিকাশেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
এমআর/জেআই
