দেশের সাধারণ মানুষের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা আরও উন্নত করতে এবং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন হাসপাতালের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (দ্বিতীয় সংশোধন) আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
নতুন এই সংশোধিত আইনের ফলে এখন থেকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাণিজ্যিক (লাভজনক) বা অলাভজনক কোম্পানি গঠন করতে পারবে।
বিলে বলা হয়, ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের অধীনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোম্পানি বা অলাভজনক সংস্থা গঠন করতে পারবে। এছাড়া যে–কোনো কোম্পানির শেয়ার অর্জন, ধারণ এবং হস্তান্তর করার ক্ষমতা পাবে বিশ্ববিদ্যালয়। এসব বাণিজ্যিক বা অলাভজনক উদ্যোগ থেকে অর্জিত লভ্যাংশ, ইজারা বা লাইসেন্স ফি এবং অন্যান্য আয় সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিলে জমা হবে। এই অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মূলত ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল’- এর পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম চালু করতেই এই সংশোধনী আনা হয়েছে। নির্মাণকাজ শেষ হলেও সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনা কাঠামো ও জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা যাচ্ছিল না। কোম্পানি মডেলের মাধ্যমে এখন দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা, দেশি-বিদেশি নামী চিকিৎসকদের আকৃষ্ট করা এবং উন্নত ক্লিনিক্যাল ট্রেনিংয়ের সুযোগ তৈরি হবে।
বিলটি পাসের আগে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা এর তীব্র বিরোধিতা করেন। তাদের মতে, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাসেবা কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া উচিত নয়। এই বিধানের ফলে স্বাস্থ্যসেবা বেশি বাজারমুখী হয়ে উঠতে পারে, যা সাধারণ মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকারকে ক্ষুণ্ন করবে এবং প্রকারান্তরে সরকারি স্বাস্থ্য খাতকে বেসরকারীকরণের দিকে ঠেলে দেবে।
তবে বিরোধী দলের এই সমালোচনা নাকচ করে দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এটি একটি 'অনন্য' ও যুগান্তকারী উদ্যোগ। সরকার এটি নিশ্চিত করবে, যাতে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ কোনোভাবেই চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হয়। নতুন এই কাঠামোর মাধ্যমে মূলত বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৮ জুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিলটি সংসদে উত্থাপন করলে তা অধিকতর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংসদীয় বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়। সোমবার সংসদীয় বিশেষ কমিটির সুপারিশ ও প্রতিবেদন সংবলিত বিলটি হাউজে উপস্থাপনের পর কণ্ঠভোটে তা চূড়ান্তভাবে পাস হয়।
এসআর/জেআই
