বিজ্ঞাপন

সংবিধান কমিটি গঠন নিয়ে উত্তপ্ত সংসদ

বিরোধীদলের ওয়াকআউট, পাস হলো মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বিল

বিরোধীদলের ওয়াকআউট, পাস হলো মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বিল

জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনী কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত, নাটকীয় পরিস্থিতি ও সংসদ থেকে ওয়াকআউটের ঘটনা ঘটেছে। গণভোটে বিজয়ী মানুষের রায় ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের দাবি তুলে বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধী সদস্যরা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একে ‘অসাংবিধানিক’ ও ‘আবেগসর্বস্ব রাজনীতি’ বলে কড়া জবাব দেন। এই রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই সংসদে সরকারি হাসপাতালের তীব্র জনবল সংকট মেটাতে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা এসেছে।

এছাড়া সাইবার স্পেসে মাদক অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে নতুন বিল পাস এবং বিরোধী দলের তীব্র আপত্তির মুখে কোম্পানি আইনের অধীনে ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (দ্বিতীয় সংশোধন) বিল’ পাস করা হয়েছে।

সরকারি হাসপাতালগুলোর তীব্র জনবল সংকট কাটাতে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, দেশের চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। 

মন্ত্রী সংসদে স্বাস্থ্য খাতের শূন্য পদের বিস্তারিত পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, চিকিৎসকদের জন্য অনুমোদিত ৪১ হাজার ৮০৬টি পদের মধ্যে ৯ হাজার ৪০৭টি পদই বর্তমানে শূন্য। নার্সদের ক্ষেত্রে ৪৯ হাজার ৮৭৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৪৫ হাজার ৩০২ জন, যার ফলে শূন্য পদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫৭৭টি। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের ক্ষেত্রে। এখানে অনুমোদিত ৬৫ হাজার ২৩০টি পদের বিপরীতে ১৮ হাজার ৯৪৭টি পদই ফাঁকা পড়ে আছে। এই সংকট মোকাবিলায় চিকিৎসকদের জন্য ৪৫তম, ৪৬তম, ৪৭তম ও ৫০তম বিসিএসের মাধ্যমে ৪ হাজার ১শ’র বেশি সহকারী সার্জন নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পাশাপাশি দশম গ্রেডের মিডওয়াইফ পদের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পর এখন পুলিশ ভেরিফিকেশন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলছে, যা শেষ হওয়া মাত্রই তাদের চূড়ান্ত পদায়ন করা হবে বলে মন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করেন।

একই অধিবেশনে দেশের মানসিক স্বাস্থ্য খাতের আরেকটি উদ্বেগজনক ও সংকটাপন্ন চিত্র ফুটে উঠেছে। কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার ১৬.৮ শতাংশ এবং শিশু-কিশোরদের ১২.৬ শতাংশ কোনো না কোনো মানসিক রোগে ভুগলেও তাদের ৯২ শতাংশের বেশি মানুষ কোনো ধরনের চিকিৎসার আওতায় নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হৃদরোগ ও ক্যান্সার মৃত্যুর প্রধান কারণ হলেও মানুষের দীর্ঘমেয়াদি অক্ষমতা ও কর্মক্ষমতা হ্রাসের ক্ষেত্রে বিষণ্নতা ও উদ্বেগের মতো মানসিক ব্যাধিই এখন বিশ্বে সবচেয়ে বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিশাল জনসংখ্যার বিপরীতে দেশে প্রতি এক লাখ মানুষের জন্য মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন মাত্র ১.১৭ জন এবং পুরো দেশে নিবন্ধিত সরকারি মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা মাত্র ৩৫০ জনের মতো। এই পরিস্থিতি উত্তরণে সরকার ‘মানসিক স্বাস্থ্য আইন, ২০১৮’ এবং কৌশলপত্র বাস্তবায়ন করছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আলাদা পরিচালক পদ সৃষ্টির প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় ১০টি জেলায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ ও ৪টি জেলায় আত্মহত্যা প্রতিরোধ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্যের আরেকটি বড় হুমকি, ভেজাল ও নকল ওষুধ উৎপাদন-বিপণনের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতি ঘোষণা করেছে। সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাজার থেকে সব ধরনের নিম্নমানের ও নকল ওষুধ চিরতরে বন্ধ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সহায়তায় দেশজুড়ে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ) নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও ল্যাবরেটরিতে ওষুধের মান যাচাই করছে। দুর্গম এলাকার অবৈধ কারখানাগুলোকে নজরদারিতে এনে বিপুল পরিমাণ ক্ষতিকর ওষুধ জব্দ ও ধ্বংস করা হচ্ছে। অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের, মোটা অঙ্কের জরিমানা আদায় এবং অপরাধের গুরুত্ব বুঝে প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স সাময়িক বা স্থায়ীভাবে বাতিল করা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মাঠপর্যায়ে ঝুঁকিভিত্তিক নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি আসল ও নকল ওষুধ চেনার জন্য দেশব্যাপী ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

দেশের অর্থনৈতিক ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এক বিরাট সুখবর দিয়েছেন নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি সংসদে জানান, আগামী ২০২৯ সালের মধ্যে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের নির্মাণকাজ শেষ করে তা চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এই বন্দরটি চালু হলে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১৬ মিটার গভীরতার নৌ-চ্যানেলে প্রায় ১ লাখ ডেডওয়েট টনের মালবাহী জাহাজ এবং ৮ হাজার ২০০ টিইইউ ধারণক্ষমতার বিশাল মাদার ভেসেল সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারবে, যা বর্তমান চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতার তুলনায় প্রায় চার গুণ বেশি। বর্তমানে গভীরতা কম থাকায় মাদার ভেসেলগুলো সরাসরি আসতে না পারায় সিঙ্গাপুর বা কলম্বোর মতো বিদেশি ট্রান্সশিপমেন্ট বন্দরের ওপর নির্ভর করতে হয়, যা খরচ ও সময় দুটোই বাড়িয়ে দেয়। মাতারবাড়ী বন্দর চালু হলে এই আঞ্চলিক নির্ভরতা কমবে এবং এটি দক্ষিণ এশিয়ার একটি অন্যতম বাণিজ্য হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে ইউরোপ ও আমেরিকার সাথে সরাসরি শিপিং লাইন চালু, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা ও বে-টার্মিনাল নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে।

নৌ-পরিবহনমন্ত্রী আরেকটি প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রাম বন্দরের লালদিয়াচর কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনায় ডেনমার্কভিত্তিক এপিএম টার্মিনালসের সাথে সম্পাদিত কনসেশন চুক্তি বহাল রাখার বিষয়ে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি জানান, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) আইন ও নীতিমালা নিখুঁতভাবে মেনে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় জি-টু-জি কাঠামোর অধীনে এই চুক্তি করা হয়েছে, যা বাতিল বা পুনঃচুক্তির কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের (আইএফসি) আইনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৩ বছর, যা প্রয়োজনে আরও ১৫ বছর বাড়ানো যাবে। ডেনমার্কের এই প্রতিষ্ঠানটি প্রকল্পে ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে, যার ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশে বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উন্নত প্রযুক্তির স্থানান্তর ঘটবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম দেশের সড়ক নিরাপত্তা ও যানজট নিরসনে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজি-বাইক পুরোপুরি বন্ধ না করে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনার ঘোষণা দিয়েছেন। সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তারের জরুরি নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এই তথ্য জানান। এর আগে সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তার দেশে পরিবহন খাত থেকে নির্গত হওয়া বার্ষিক ১১.৬ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড কমাতে এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় গণপরিবহনকে বৈদ্যুতিক বা পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে রূপান্তর, সৌর বিদ্যুৎ ও সবুজ হাইড্রোজেনের ব্যবহার বাড়ানোর প্রস্তাব করেন। একই সাথে তিনি ঢাকার যানজটের জন্য ব্যাটারিচালিত রিকশাকে দায়ী করলেও চালক ও যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা বিবেচনা করে এটি নিয়ন্ত্রণের অনুরোধ জানান। জবাবে মন্ত্রী বলেন, মহানগরীর অভ্যন্তরে এই যানগুলো সিটি কর্পোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করলেও সার্বিক শৃঙ্খলার স্বার্থে সরকারের উচ্চপর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে এবং খুব শীঘ্রই সারা দেশের জন্য একটি সুসমন্বিত ও সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন জারি করা হবে।

ধর্মীয় উগ্রবাদ ও সামাজিক বিভাজন প্রতিরোধে দেশের তরুণ সমাজকে সচেতন করতে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে একটি নতুন ও বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে জানান, সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর এলাকায় অসাম্প্রদায়িক চেতনা অক্ষুণ্ন রাখতে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোকে মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে আলেম ও ইমামদের সহায়তায় জুমার খুতবা ও নিয়মিত সেমিনারে উগ্রবাদের কুফল সম্পর্কে তরুণদের সচেতন করা হচ্ছে। পাশাপাশি হিন্দু ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমেও পুরোহিত ও যুবকদের জন্য নৈতিকতা বিষয়ক কর্মশালা চালানো হচ্ছে এবং বিভিন্ন ধর্মের নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে আন্তঃধর্মীয় সংলাপের আয়োজন করা হচ্ছে।

তবে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্মিত এই মডেল মসজিদ প্রকল্পেই ‘মেগা দুর্নীতি’ হয়েছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ধর্মমন্ত্রীর পক্ষে সংসদে জবাব দিতে গিয়ে তিনি মডেল মসজিদ নির্মাণের প্রকল্প ব্যয় উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ১৩ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১ কোটি টাকায় উন্নীত করার ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক বলে মন্তব্য করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ইসলামের নাম ভাঙিয়ে যারা এই অর্থ লোপাট ও দুর্নীতি করেছে, তাদের চিহ্নিত করতে প্রতিটি মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ ও ব্যয়ের ওপর আলাদাভাবে কঠোর তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে। নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদীন ফারুক এবং ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল নিজ নিজ এলাকার মডেল মসজিদের অত্যন্ত নিম্নমান, ছাদ ফেটে পানি পড়া এবং দুর্গম স্থানে মসজিদ নির্মাণের মতো দুরবস্থার চিত্র সংসদে তুলে ধরলে মন্ত্রী এই তদন্তে অন্যান্য সংস্থাকেও যুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া মন্ত্রী আরও জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী দেশের সব ধর্মের ১৩ হাজার ৯৪৯ জন ধর্মীয় নেতাকে সম্মানী প্রদান করা হয়েছে এবং দেশের ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫০ একর নিবন্ধিত ওয়াকফ সম্পত্তির মধ্যে অবৈধ দখলে থাকা ২৭ একর সম্পত্তি উদ্ধার করা হয়েছে।

অধিবেশনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের কাজের পরিধি ও নির্বাচনী এলাকা নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার মুখে সংবিধানের স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য আখতার হোসেন পয়েন্ট অব অর্ডারে অভিযোগ করেন যে, সরকারি দলের সংরক্ষিত নারী এমপিরা নির্দিষ্ট সংসদীয় আসনকে তাদের ‘অতিরিক্ত দায়িত্ব’ উল্লেখ করে মূল নির্বাচিত এমপিদের অবমূল্যায়ন করছেন এবং এর মাধ্যমে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে কি না তার ব্যাখ্যা চান।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ৩০০ আসনের সংসদ সদস্যদের নির্দিষ্ট আঞ্চলিক সীমানা থাকলেও সংরক্ষিত ৫০ জন নারী আসনের সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকা হলো সমগ্র বাংলাদেশ। তারা কোনো সুনির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ নন এবং আইন অনুযায়ী তারা মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত সরকারি বরাদ্দ দেশের যেকোনো প্রান্তে উপ-বরাদ্দ দিতে সম্পূর্ণ স্বাধীন। সুতরাং কোনো সংরক্ষিত এমপির নিজেকে নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ দাবি করা সঠিক নয়।

এদিকে অধিবেশনের একপর্যায়ে জাতীয় সংসদ ভবনের পবিত্র মসজিদ ও বিভিন্ন কক্ষের ছাদ চুইয়ে অনবরত বৃষ্টির পানি পড়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন সরকারি দলের হুইপ জি কে গউছ। তিনি জানান, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট পাস করার এই পবিত্র সংসদের তলার মসজিদে পানি পড়ার কারণে বালতি সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই বক্তব্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে গিয়ে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল রসিকতার ছলে নিজের ঘরের করুণ চিত্র তুলে ধরে বলেন, বৃষ্টির দিনে তার নিজের শোবার ঘরের ছাদেও পানি পড়ে এবং মেঝেতে বাটি দিয়ে সেই পানি আটকে রাখতে হয়। এই আলোচনার পর সংসদ কার্য পরিচালনাকারী চিফ হুইপ ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী উভয়ই সংসদকে আশ্বস্ত করে জানান, গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে ছাদ মেরামতের সর্বাত্মক বন্দোবস্ত গ্রহণ করেছেন এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই জরাজীর্ণ সমস্যার একটি স্থায়ী ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করা হবে।

অন্যদিকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মাদক চোরাচালান দমনে সরকারের সদিচ্ছা এবং আইনের কার্যকারিতা নিয়ে জাতীয় সংসদে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা করেছেন সংসদ সদস্যরা। 'মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংশোধন বিল ২০২৬' পাসের জন্য উত্থাপনের পর বিলটির ওপর জনমত যাচাই-বাছাইয়ের আলোচনায় অংশ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা অভিযোগ করেন, মাদক মামলায় শুধু চুনোপুঁটি বা বহনকারীরাই বারবার গ্রেফতার হচ্ছে, অথচ মূল হোতারা সবসময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের রিপোর্টে মাদক ব্যবসার মূল হোতা হিসেবে যাদের নাম উঠে আসে, তারা বা তাদের পরিবারের সদস্যরা উল্টো আইনপ্রণেতা হয়ে সংসদে বসছেন। টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে যাদের হাত ধরে মাদক দেশে প্রবেশ করছে, সেই মূল অপরাধীদের আইনের আওতায় না এনে ২৫ গ্রামের বেশি মাদকের জন্য যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদণ্ডের মতো কেবল কঠোর আইন করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলে তিনি ক্ষোভ জানান।

এর আগে গত ২৭ জুন বাজেট অধিবেশনে মাদক চোরাচালান নিয়ে একই ধরণের প্রশ্ন তোলেন সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, আগে মাদকের প্রসঙ্গে সুনির্দিষ্ট একজনের নাম আসলেও এখন সেখানকার দায়িত্ব কে নিয়েছে তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভালো করেই চেনার কথা। সীমান্ত দিয়ে এতদিনেও মাদক আসা বন্ধ না হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক মন্তব্য করে তিনি জোর দিয়ে বলেন, আইন প্রয়োগের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও সৎ সাহস না থাকলে কেবল আইন দিয়ে কোনো অপরাধ দমন করা সম্ভব নয়।

এদিকে দেশের সাধারণ মানুষের উন্নত চিকিৎসার শেষ আশ্রয়স্থল সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং সেখানে যেকোনো ধরনের ব্যবসায়িক বা লাভজনক উদ্যোগ যুক্ত করার তীব্র বিরোধিতা করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান। সংসদ অধিবেশনে ‘বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ^বিদ্যালয় (দ্বিতীয় সংশোধন) বিল, ২০২৬’-এর ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে এই প্রস্তাবিত বিলটি অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দেশের একমাত্র উচ্চতর সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মূলত নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষরাই আসেন, যাদের বেসরকারি নামী হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সামর্থ্য নেই। এই জায়গায় জয়েন্ট স্টক কোম্পানির আদলে যদি কোনো ‘প্রফিট বেজড’ বা মুনাফাভিত্তিক উদ্যোগের অনুপ্রবেশ ঘটে, তবে তা সাধারণ মানুষের ওপর বিশাল আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দেবে এবং এর মেকানিজমে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে না পারলে বর্তমানের ন্যূনতম চিকিৎসাব্যবস্থাও পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে। সম্পূর্ণ অলাভজনক বা দাতব্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে তাতে আপত্তি নেই উল্লেখ করে তিনি তড়িঘড়ি না করে বিলটি প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং আগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করে বিলটির সার্বিক দিক গভীরভাবে বিবেচনা করার আহ্বান জানান।

সোমবারের অধিবেশনে প্রযুক্তির অপব্যবহার রুখতে এবং সাইবার স্পেস ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অবৈধ মাদক ব্যবসার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে উত্থাপন করলে জনমত যাচাই, সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে প্রেরণ এবং সংশোধনী প্রস্তাব নিষ্পত্তির পর তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

পাস হওয়া নতুন এই আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাইবার স্পেস, ডিজিটাল ডিভাইস, ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল অ্যাপ বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো ভার্চুয়াল অ্যাসেট ব্যবহার করে মাদক কেনা, বিক্রি, সরবরাহ, বিজ্ঞাপন বা কোনো অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত এই অপরাধের বিচার করতে অভিযুক্তের কাছ থেকে সরাসরি মাদক উদ্ধার হওয়া বাধ্যতামূলক নয় এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে যেকোনো মেয়াদের কারাদণ্ড থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বা সংঘবদ্ধ চক্রের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা এবং অপরাধে ব্যবহৃত ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট ও ই-ওয়ালেট জব্দের নির্দেশ দিতে পারবে ট্রাইব্যুনাল। সংশোধিত আইনে মাদকপ্রবণ এলাকায় পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান পুনর্বহালের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ দমনে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও ডগ স্কোয়াড গঠনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কাউকেই কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

বিরোধী দলের এই তীব্র বিরোধিতার মুখেই সংসদ অধিবেশনে কণ্ঠভোটে ‘বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (দ্বিতীয় সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। পাস হওয়া এই সংশোধিত আইন অনুযায়ী, উচ্চতর চিকিৎসার এই বিদ্যাপীঠটি শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের অধীনে লাভজনক বা অলাভজনক কোম্পানি গঠন করতে পারবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টি যেকোনো কোম্পানির শেয়ার অর্জন, ধারণ ও হস্তান্তর করার আইনি বৈধতা পেল, যার লভ্যাংশ বা আয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাসেবা ও গবেষণার তহবিলে জমা হবে।

বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানানো হয়, মূলত নির্মাণকাজ শেষ হওয়া সত্ত্বেও সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনা কাঠামো ও জনবলের অভাবে ‘বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল’ পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা যাচ্ছিল না। এই জটিলতা কাটাতে হাসপাতালটিকে একটি কোম্পানির অধীনে পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার ফলে একটি সুনির্দিষ্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম তৈরি হবে, দ্রুত চিকিৎসক-কর্মকর্তা নিয়োগ করা যাবে এবং দেশি-বিদেশি নামী বিশেষজ্ঞদের আকৃষ্ট করে চিকিৎসা শিক্ষা ও উন্নত ক্লিনিক্যাল ট্রেইনিং জোরদার করা সম্ভব হবে। বিরোধী আইনপ্রণেতারা এই পদক্ষেপকে জনস্বাস্থ্য খাতকে বেসরকারীকরণ বা বাণিজ্যিকীকরণের চেষ্টা বলে সমালোচনা করলেও তা প্রত্যাখ্যান করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এই উদ্যোগকে ১৮ কোটি মানুষের মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের একটি 'অনন্য' প্রয়াস উল্লেখ করে মন্ত্রী সংসদকে আশ্বস্ত করেন যে, নতুন এই কাঠামোর মাধ্যমে বিশেষায়িত সেবার পরিধি বাড়লেও দেশের দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষরা যাতে আগের মতোই সাশ্রয়ী মূল্যে চিকিৎসা পান, তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করবে সরকার। এর আগে গত ২৮ জুন বিলটি সংসদে উত্থাপনের পর তা অধিকতর যাচাইয়ের জন্য সংসদীয় বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল এবং কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই সোমবার তা চূড়ান্তভাবে পাস হয়।

এদিকে জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনী কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বিতর্ক, নাটকীয় পরিস্থিতি ও সংসদ থেকে ওয়াকআউটের ঘটনা ঘটেছে। ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে অধিবেশনে এই কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে এর তীব্র বিরোধিতা করে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান।

ওয়াকআউটের আগে অধিবেশনে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, বিরোধী দল নীতিগতভাবে এই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি এবং তারা গণভোটে বিজয়ী ৬৮ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষের রায় ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে জনগণের কাছে ওয়াদাবদ্ধ। তিনি দাবি করেন, তারা সংসদ সদস্য হিসেবে এবং অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দুটি শপথ নিয়েছেন এবং তাদের দুটি শপথই বহাল ও কার্যকর আছে। জনগণের এই বিপুল রায়কে অগ্রাহ্য করে সংস্কার পরিষদকে বাইপাস করার জন্য এই সংসদীয় কমিটি গঠন করা হলে তা তারা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করছেন। জনগণের রায়কে সম্মান না জানানোর প্রতিবাদে তিনি বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন।

বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পর এর কড়া জবাব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ একে 'অসাংবিধানিক' ও 'আবেগসর্বস্ব রাজনীতি' হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের মানুষের মূল প্রত্যাশা হলো শেখ হাসিনার আমলের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করা, যা এই সংসদীয় কমিটি গঠন ও সংবিধান সংশোধন ছাড়া সম্ভব নয়।

বিরোধীদলীয় নেতার দুটি শপথের দাবির জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, সংবিধানে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে আলাদা শপথের কোনো সুযোগ নেই এবং সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৮ ও তৃতীয় তফসিল লঙ্ঘন করে ছাপানো ওই দ্বিতীয় শপথের ফর্মটি সম্পূর্ণ ‘নাল অ্যান্ড ভয়েড’ বা বাতিল। গণভোটের আদেশকে ‘ফ্রড অন কনস্টিটিউশন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬৫ ও ৭ অনুযায়ী আইন প্রণয়ন ও সংবিধান সংশোধনের পূর্ণ এক্তিয়ার ও সার্বভৌম ক্ষমতা কেবল এই সংসদেরই রয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদের সিংহভাগ সমঝোতা সরকার মানলেও বাকি আধা খানি অংশ সংবিধানের ওপর অবৈধ হাত বাড়িয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, অবিলম্বে এই সংবিধান সংশোধনী কমিটি কাজ শুরু করবে এবং দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান, আইনজীবী, সম্পাদক, বুদ্ধিজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের সাথে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে সকল স্টেকহোল্ডারদের সুপারিশের ভিত্তিতে এই মহান সংসদে ‘১৮তম সংবিধান সংশোধনী বিল’ উত্থাপন করা হবে।

এসআর/এমএন