‘জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশে’র ভিত্তিতে হওয়া গণভোটের তীব্র সমালোচনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, যেকোনো গণভোট আয়োজনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি প্রয়োজন। আইনি ভিত্তি ছাড়া এবং রাজনৈতিক সমঝোতা ব্যতিরেকে যমুনার ভেতরে বসে কায়দা-কানুন করে জারি করা কোনো আদেশের ওপর ভিত্তি করে গণভোট হতে পারে না।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণহত্যার বিচার’ শীর্ষক জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে (৬৮ বিধিতে) আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণভোটের ক্ষেত্রে জনগণের রায়কে অবশ্যই সম্মান দিতে হবে। তবে কীসের ওপর ভিত্তি করে এই গণভোট হবে, তা স্পষ্ট করা জরুরি। সাড়ে তিনখানা প্রশ্নে জুলাই জাতীয় সনদের সাথে সবার একমত থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণভোটের প্রস্তাব দলের পক্ষ থেকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে তিনি নিজেই উত্থাপন করেছিলেন। জুলাই জাতীয় সনদের পক্ষে জনগণ আছে কি নাই, সেই প্রশ্নে একটি আইনগত ভিত্তি রচনা করে গণভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই অবস্থান থেকে অন্যরা সরে গেছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, যমুনার অভ্যন্তরে এবং কিনারে বসে একটা কায়দা-কানুন করে এই আদেশ জারি করানো হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে কোনো আলোচনা না করে এবং কোনো প্রকার সমঝোতা ছাড়া এককভাবে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অবৈধ। যে আদেশের ওপর ভিত্তি করে গণভোটের কথা বলা হচ্ছে, আইনি দৃষ্টিতে সেই আদেশটিই ‘ভয়েড অ্যাব ইনিশিও’ বা শুরু থেকেই বাতিল। কারণ এই ধরনের আদেশ জারি করার কোনো এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির ছিল না এবং এখনও নেই।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও যোগ করেন, সরকার দেশে বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে যেন কোনো ফ্যাসিবাদের উৎপত্তি বা পার্লামেন্টারি ডিক্টেটরশিপ সৃষ্টি না হয়, সেজন্য সমঝোতার ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন করতে চায়। কিন্তু এই মহৎ উদ্যোগে সহযোগিতা না করে বিরোধী দল সংবিধান সংস্কার কমিটি থেকে ওয়াকআউট করেছে। তিনি বিরোধী দলকে তাদের জন্য নির্ধারিত পাঁচটি আসনে এসে গণতান্ত্রিক চর্চায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
এসআর/এমএন
