বিকেল তিনটায় বহুল প্রতীক্ষিত চাকরির ইন্টারভিউ। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই উত্তরার সড়কে আটকে গেলেন মাহমুদুল হাসান। চারদিকে যানজট। সামনেই শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি। পথ ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেও কোনো সাড়া পাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত ইন্টারভিউতে পৌঁছাতে পারবেন কি না সেই শঙ্কা নিয়েই দাঁড়িয়ে থাকতে হয় তাকে।
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিতসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির কারণে বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর দেড়টার পর রাজধানীর উত্তরার বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন চাকরিপ্রার্থী, ব্যবসায়ী, বিদেশগামী যাত্রীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
যানজটে আটকে পড়া মাহমুদুল হাসান বলেন, বিকেল তিনটার সময় আমার চাকরির ইন্টারভিউ। আমি ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছিলাম। অনেক ঘুরে এখানে এসেছি। এখন আর বের হতে পারছি না। আমি অনুরোধ করলাম। কিন্তু কেউ আমার কথা শুনল না। ইন্টারভিউতে যেতে না পারলে চাকরি পাওয়ার সুযোগটাই হাতছাড়া হয়ে যাবে।
একই দুর্ভোগের কথা জানান কাঁচামালবাহী গাড়ির চালক শের আলী। তিনি জানান, প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে একই জায়গায় আটকে আছেন। এতে নির্ধারিত সময়ে পণ্য বাজারে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।

শের আলী বলেন, আমাদের ক্ষতি হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতি হচ্ছে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বসে আছি। গাড়িতে কাঁচামাল লোড করা। বাজারে দিতে হবে। এভাবে আটকে থাকলে লোকসান হবে।
যানজটে আটকে পড়া এক বিদেশগামী যাত্রীও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এক কর্মসূচির সমস্যার কারণে লাখো মানুষ দুর্ভোগে পড়ছেন। সামনে যত দূর দেখা যায়, শুধু গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। আমরা বসে বসে অপেক্ষা করা ছাড়া কিছুই করতে পারছি না।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি ঘিরে উত্তরার বিএনএস সেন্টার, আজমপুর, জসীমউদ্দীন ও আশপাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে অফিসগামী মানুষ, ব্যবসায়ী, বিমানবন্দরগামী যাত্রী ও সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, টানা বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেও গত সোমবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন। তাদের দাবি, পরীক্ষা স্থগিত, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
এমআরআর/জেডএস
