দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর উত্তরায় শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করায় ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে এইচএসসি পরীক্ষা শেষে উত্তরা বিএনএস টাওয়ারের সামনে দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
এসময় বিমানবন্দর, আবদুল্লাহপুর, টঙ্গী ও গাজীপুরমুখী সড়কে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। অনেক যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছাতে হেঁটে যেতে দেখা যায়।
উত্তরা থেকে ময়মনসিংহগামী ইসলাম পরিবহনের ইতি নামের যাত্রী বলেন, আমি নিজেও একজন শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, আগামীকাল নেত্রকোনায় আমার ভাইভা পরীক্ষা আছে। কিন্তু আমি দুপুর ১২টায় রওনা দিয়ে তিন ঘণ্টা ধরে গাড়ির মধ্যে বসে আছি। রাস্তা বন্ধ করে সাধারণ মানুষের কষ্ট দিয়ে আন্দোলন করার কি আছে? এখানে রাস্তা বন্ধ করা হয়েছে কেন? এখানে কি শিক্ষামন্ত্রী আছে?

বসুমতি পরিবহনের এক যাত্রী জানান, কোনো কিছু হলেই এদেশের মানুষ রাস্তা বন্ধ করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির সৃষ্টি করে।
তিনি বলেন, হাজার হাজার মানুষ আজ রাস্তায় কষ্ট করছে। এই দায়ভার কে নেবে।
উত্তরা হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া আন্দোলনকারী ফারুক জানান, বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেক পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারছে না। এতে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছে। তাই চলমান পরীক্ষা স্থগিত করে নতুন সূচি প্রকাশ না করা পর্যন্ত আমাদের এই আন্দোলন চলবে।
এদিকে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। তারা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বারবার বুঝিয়ে অনুরোধ করছেন।
চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা স্থগিত এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো তারা এ আন্দোলন করছেন। এর আগে, সোমবার (১৪ জুলাই) উত্তরা, ইসিবি চত্বর, সায়েন্সল্যাব মোড়সহ রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন স্থানে একই দাবিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।
এএএম/জেডএস
