বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামে শহীদ ওয়াসিম আকরাম স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

চট্টগ্রামে শহীদ ওয়াসিম আকরাম স্মৃতিস্তম্ভের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে প্রথম শহীদ ছাত্রদল নেতা শহীদ ওয়াসিম আকরামের স্মরণে নগরের ষোলশহর রেলস্টেশনের প্রবেশমুখে ‘শহীদ ওয়াসিম আকরাম স্মৃতিস্তম্ভ’ এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুর দেড়টার দিকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এই স্মৃতিস্তম্ভের নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।  

চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা শামসুল আলম, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মুহাম্মদ জিয়াউদ্দিন এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা। 

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, ‘২৪-এর রক্তাক্ত গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন, আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাদের সকলের ত্যাগ ছিল ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে চলা স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটাতে নিরীহ শিক্ষার্থীদের ওপর যে নির্মম গণহত্যা চালানো হয়েছে, তা আন্তর্জাতিকভাবে জাতিসংঘ দ্বারাও স্বীকৃত।’

তিনি বলেন, ‘শহীদ ওয়াসিম ও অন্য সকল শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে প্রতিটি জেলায় স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমরা বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ দেশে আর কোনোদিন ফ্যাসিবাদী খুনি হাসিনা বা তার দলের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার সুযোগ দেওয়া হবে না। একইসঙ্গে এই গণহত্যার নির্দেশদাতা ও পালনকারীদের দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় এনে বিচার কার্যকর করা হবে।’ 

অনুষ্ঠানে শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা শামসুল আলম বলেন, ‘আজকে আমি আমার হাজারো সন্তানকে এখানে দেখতে পাচ্ছি। বৈষম্য দূর করার জন্যই আমাদের সন্তানরা আন্দোলন করেছিল, কিন্তু আজকে আমি এখানে কিছু বৈষম্য দেখতে পাচ্ছি। আমার আকুল আবেদন, কেউ যেন নিজেদের মধ্যে বৈষম্য তৈরি না করেন। একটি সেতু বা ভবন তৈরিতে যেমন পিলার, রড, সিমেন্ট সবকিছু একসঙ্গে লাগে, তেমনি দেশ গড়তে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। আমরা যদি একসঙ্গে কাজ না করি, তবে ভেঙে পড়ব।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির বলেন, ‘১৬ জুলাই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। রংপুরে আবু সাঈদ শহীদ হওয়ার ঠিক পরপরই চট্টগ্রামে ওয়াসিম আকরাম শহীদ হন। জুলাই বিপ্লবের শহীদদের খুনের বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আমরা সরকারের কাছে দ্রুততম সময়ে এই বিচার কাজ সম্পন্ন ও তা কার্যকরের দাবি জানাচ্ছি।’

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মুহাম্মদ জিয়াউদ্দিন বলেন, যে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার লক্ষ্যে ছাত্র-জনতা জীবন দিয়েছে, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রশাসন সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাবে। 

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ শিক্ষার্থীরা। 

এমএসএ