বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন নাসির বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ ছাত্রদল নেতা শহীদ ওয়াসিম আকরাম শহীদ হওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে বার্তা দিয়েছিলেন, সেটি কেবল একটি স্ট্যাটাস ছিল না; বরং তা ছিল দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদকে নির্মূল করার জন্য একটি গণঅভ্যুত্থানের ডাক।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে নগরের ষোলশহর রেলস্টেশনের প্রবেশমুখে ‘শহীদ ওয়াসিম আকরাম স্মৃতিস্তম্ভ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
নাসির উদ্দিন নাসির বলেন, ‘আপনারা সবাই জানেন, এই দিন সকালে অর্থাৎ দিনের শুরুতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী আবু সাঈদ শহীদ হয়েছিলেন। তার অল্প কিছুক্ষণ পরেই চট্টগ্রাম কলেজের, আমাদের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ওয়াসিম আকরাম শহীদ হন।’
শহীদ ওয়াসিমের শেষ ফেসবুক বার্তার কথা স্মরণ করে ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ওয়াসিম শহীদ হওয়ার পূর্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে স্ট্যাটাসটি দিয়েছিলেন, ‘‘চলে আসুন ষোলশহরে”; আমরা মনে করি এটি শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি খুদে বার্তা ছিল না। বরং এটি বিগত ১৭ বছর ধরে যে ফ্যাসিবাদ কায়েম হয়েছিল, সেই ফ্যাসিবাদকে ধ্বংস ও নির্মূল করার জন্য একটি গণঅভ্যুত্থানের ডাক ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকের এই দিনে মোট ৬ জন শহীদ হয়েছিলেন, আমরা তাদের সবাইকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। একই সঙ্গে জুলাই এবং আগস্ট মাসে যে দুই হাজারেরও অধিক ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন, তাদের প্রতিও আমরা বিনম্র শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।’
বিচার প্রসঙ্গে ছাত্রদল সেক্রেটারি বলেন, ‘জুলাইয়ে যেসব শহীদরা শহীদ হয়েছেন, তাদের খুনের বিচার প্রক্রিয়া চলমান আছে এবং ইতোমধ্যে ৫টি বিচার সম্পন্ন হয়েছে। আমরা আজকের এই আয়োজন থেকে সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে যেন বাকি বিচার কাজগুলো সম্পূর্ণ করা হয় এবং অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করে শহীদ পরিবারগুলোর জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হয়।’
চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এ ছাড়া, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবা শামসুল আলম, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মুহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞাসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
এমআর/এসএএস
