চট্টগ্রামের আলোচিত জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে পুলিশ। এলাকার অসহায় ও নিম্নআয়ের পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি তাদের খোঁজখবর নেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
শনিবার (১৮ জুলাই) জঙ্গল সলিমপুরের এস এম পাইলট উচ্চবিদ্যালয় ও আলিনগর উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি (অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. মনিরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশাসন ও অর্থ) মো. নাজিমুল হক, অতিরিক্ত ডিআইজি (ক্রাইম) নাজমুল হাসান, এবং চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম।
এ সময় পুলিশ কর্মকর্তারা দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলেন। দুর্যোগ-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশ সব সময় জনগণের পাশে থাকবে বলেও আশ্বাস দেন তারা।
অনুষ্ঠানে ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো বাংলাদেশ পুলিশের অন্যতম অঙ্গীকার। তিনি বলেন, জনকল্যাণমূলক ও মানবিক এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক দায়বদ্ধতা পালনেও তারা কাজ করে যাচ্ছে। দুর্যোগ ও দুর্দিনে মানুষের পাশে থেকে সহায়তার এ কার্যক্রমও তারই অংশ।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে সরকারি খাসজমি দখল, অপরাধী সিন্ডিকেটের আধিপত্য এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় আলোচিত। প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর পাহাড়ি এ এলাকায় বছরের পর বছর প্রশাসনের কার্যকর উপস্থিতি সীমিত থাকায় একসময় এটিকে অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
গত ১৯ জানুয়ারি চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাতে গিয়ে র্যাবের একটি দল হামলার মুখে পড়ে। ওইদিন মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে শত শত লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনায় র্যাবের উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভুঁইয়া নিহত হন। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে প্রায় চার হাজার সদস্যের একটি যৌথ বাহিনী জঙ্গল সলিমপুরে বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করে। ওই অভিযানে এলাকাজুড়ে তল্লাশি চালানো হয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমানে জঙ্গল সলিমপুরে যাতায়াতের জন্য সড়ক বানাচ্ছে সেনাবাহিনী।
এমআর/এমএন
