বাংলাদেশের পরিবহন ও যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে টেকসই বিনিয়োগ ও কারিগরি সহায়তা বাড়ানোর বিষয়ে সেতু বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করেছে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি)-এর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। বৈঠকে ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, সাবওয়ে ও দ্বিতীয় যমুনা সেতুসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফের দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে এআইআইবির চার সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ব্যাংকটির পাবলিক সেক্টর ক্লায়েন্টস ডিপার্টমেন্ট (অঞ্চল-১) এর মহাপরিচালক রজত মিশ্র।
বৈঠকের শুরুতে সেতু বিভাগের সচিব প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশের মেগা অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি পদ্মা সেতু, যমুনা সেতু এবং ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের আর্থ-সামাজিক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বমানের অবকাঠামো নির্মাণের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
আলোচনায় এআইআইবির অর্থায়নে পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। বিশেষ করে যানজট নিরসন, আধুনিক টোল ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগের বিষয়ে উভয় পক্ষ ইতিবাচক আগ্রহ প্রকাশ করে।
সেতু বিভাগের সচিব বলেন, ঋণের শর্তাবলি বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও টেকসই হওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের অঙ্গীকার।
এআইআইবির প্রতিনিধি দলের প্রধান রজত মিশ্র বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ একটি উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে এবং এআইআইবি দেশটির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে আগ্রহী।
বৈঠকে সেতু বিভাগের সচিব জানান, সম্ভাব্য বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করতে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কারিগরি পর্যায়ে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া বিনিয়োগের শর্ত ও সম্ভাব্য খাত সম্পর্কে একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত প্রস্তাবনা দিতে এআইআইবিকে অনুরোধ করা হয়েছে। প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে সরকারের অনুমোদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এমএইচএন/জেডএস
