প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিক ও চিকিৎসাসেবা নিতে বিদেশগামী যাত্রীদের কথা বিবেচনায় রেখে নতুন নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালুর পরিকল্পনা করছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। চেন্নাইয়ের পর বেঙ্গালুরু, মালয়েশিয়ার জোহর বাহরু, ব্রুনাই, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, কুফু (চীন), মদিনাসহ একাধিক গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে এয়ারলাইন্সটি।
রোববার (১৯ জুলাই) কক্সবাজারের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, দক্ষিণ ভারতের চেন্নাইয়ে ফ্লাইট চালুর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ ছিল চিকিৎসাসেবা নিতে যাওয়া বাংলাদেশিদের ভোগান্তি কমানো। আগে অনেক যাত্রীকে ঢাকা থেকে কলকাতা হয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে চেন্নাই যেতে হতো। সরাসরি ফ্লাইট চালুর ফলে সেই দুর্ভোগ কমেছে।
একই কারণে আগামীতে বেঙ্গালুরুতেও ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনার কথা জানান ইউএস-বাংলার এমডি। তিনি বলেন, শিশুদের চিকিৎসা, হৃদ্রোগসহ বিভিন্ন জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বেঙ্গালুরু যান। তাদের যাতায়াত সহজ করতেই এই রুট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মালদ্বীপে ফ্লাইট চালুর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সেখানে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেই আমরা এই রুট চালুর সিদ্ধান্ত নেই। আগে উচ্চ ভাড়ার কারণে অনেক শ্রমিক দুই থেকে তিন বছরেও দেশে ফিরতে পারতেন না। ইউএস-বাংলা তুলনামূলক কম ভাড়ায় ফ্লাইট চালু করার পর তারা প্রায় প্রতি বছর দেশে আসার সুযোগ পাচ্ছেন।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বর্তমানে ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর ও কুয়ালালামপুরে ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা। আগামী বছর এসব রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি মালয়েশিয়ার জোহর বাহরু ও ব্রুনাইয়ে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
পূর্ব এশিয়ার বাজার নিয়েও আগ্রহের কথা জানান ইউএস-বাংলার এমডি। তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়ায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। দুই দেশের মধ্যে প্রয়োজনীয় দ্বিপক্ষীয় উড়োজাহাজ চুক্তি হলে আগামী বছরই দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে ফ্লাইট চালুর আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে প্রবাসীদের দীর্ঘ ট্রানজিটের ভোগান্তি কমবে।
মধ্যপ্রাচ্যের বাজারেও সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানান আবদুল্লাহ আল মামুন। বর্তমানে কাতার, ওমান, দুবাই, শারজাহ, আবুধাবি, জেদ্দা ও রিয়াদে ফ্লাইট পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা। আগামী বছর কুফু (চীন) এবং সৌদি আরবের মদিনায় ফ্লাইট চালুর লক্ষ্য রয়েছে বলেও তিনি জানান।
তিনি বলেন, নতুন রুট চালুর ক্ষেত্রে শুধু বাণিজ্যিক সম্ভাবনা নয়, প্রবাসী বাংলাদেশি ও চিকিৎসাসেবা নিতে বিদেশগামী মানুষের প্রয়োজনকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে ইউএস-বাংলা।
এসময় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ শাখার মহাব্যবস্থাপক (জিএম) কামরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
আরএইচটি/জেডএস
