বিজ্ঞাপন

হাসপাতাল ও ডাটা সেন্টারে বড় বিনিয়োগে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা গ্রুপ

হাসপাতাল ও ডাটা সেন্টারে বড় বিনিয়োগে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা গ্রুপ

এয়ারলাইনস ব্যবসার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ও প্রযুক্তি খাতে বড় পরিসরে বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে ইউএস-বাংলা গ্রুপ। বিশ্বমানের একটি হাসপাতাল, আন্তর্জাতিক মানের ডাটা সেন্টার নির্মাণ এবং আগামী কয়েক বছরে জনবল উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

রোববার (১৯ জুলাই) কক্সবাজারের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, সিঙ্গাপুরের কয়েকটি শীর্ষ হাসপাতালের নকশাকারদের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রায় এক হাজার বিঘা জমির ওপর একটি স্বাস্থ্যসেবা নগরী (হেলথকেয়ার সিটি) গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে আন্তর্জাতিকমানের হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে, যাতে শুধু বাংলাদেশ নয়; নেপাল, ভুটানসহ আশপাশের দেশের মানুষও চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন।

প্রযুক্তি খাতের বিনিয়োগ প্রসঙ্গে আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, পূর্বাচলে আন্তর্জাতিকমানের একটি ডাটা সেন্টার নির্মাণের কাজ চলছে। বাংলাদেশে প্রয়োজনের তুলনায় বিশ্বমানের ডাটা সেন্টারের ঘাটতি রয়েছে। এ কারণে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সেবা নিতে গিয়ে দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতের অর্থনীতি প্রযুক্তিনির্ভর। তাই ইউএস-বাংলা গ্রুপ এভিয়েশনের পাশাপাশি সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মানবসম্পদ উন্নয়ন নিয়েও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন ইউএস-বাংলার এমডি। তিনি বলেন, দুই বছর আগে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর মাধ্যমে মেধাবী ৫০ জন তরুণকে নির্বাচন করে যুক্তরাষ্ট্রে পাইলট প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও ২০০ জনকে বিদেশে প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। আন্তর্জাতিকমানের দক্ষ জনবল তৈরি ছাড়া এভিয়েশন শিল্পে টেকসই অগ্রগতি সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ইউএস-বাংলায় প্রায় ৪০০ পাইলট ও প্রায় ৬০০ কেবিন ক্রু কর্মরত আছেন। ২০২৭ সালের শেষে পাইলটের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০ এবং কেবিন ক্রুর সংখ্যা প্রায় ৩ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আবদুল্লাহ আল মামুন প্রযুক্তি শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, বিশ্বজুড়ে সফটওয়্যার ডেভেলপার ও এভিয়েশন–সংশ্লিষ্ট দক্ষ জনবলের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশের তরুণদের এসব খাতে দক্ষ করে তুলতে পারলে তারা দেশে ও বিদেশে উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।

তিনি বলেন, ইউএস-বাংলা শুধু একটি এয়ারলাইনস হিসেবে নয়; স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তি ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে বিনিয়োগের মাধ্যমে বহুমুখী একটি বাংলাদেশি বৈশ্বিক গ্রুপ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।

এসময় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ শাখার মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

আরএইচটি/জেডএস