বিজ্ঞাপন

প্রতিবন্ধী অধিকার বাস্তবায়নে ১০ দফা দাবি

প্রতিবন্ধী অধিকার বাস্তবায়নে ১০ দফা দাবি

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা, প্রবেশগম্যতা, ন্যায়বিচার, দুর্যোগ সুরক্ষা, সহিংসতা প্রতিরোধ, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব এবং সব ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সমান অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ১০ দফা দাবি জানিয়েছে 'প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ছায়া সংসদ' নামের একটি সংগঠন।

সোমবার (২০ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ব্যক্তি আবু হুরায়রা সাদ ও অটিজম বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন তরুণ ইলহামের মা সালমানুর। সংগঠনটি এ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে।

সংগঠনটির দাবিগুলো হচ্ছে—

১. সh ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে হবে। পাশাপাশি জীবনব্যাপী শিক্ষা ও কর্মসংস্থানমুখী কারিগরি প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

২. প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য এমআরআই, ব্লাড স্ক্রিনিংসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিনামূল্যে দিতে হবে। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা ফিতে ৫০ শতাংশ ছাড় নিশ্চিত করতে হবে।

৩. শিক্ষিত প্রতিবন্ধী তরুণদের জন্য প্রতি বছর বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করতে হবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও বাধ্যতামূলক নিয়োগ এবং বিনাসুদে ঋণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।

৪. প্রতিবন্ধী ভাতার পরিমাণ ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়াতে হবে। প্রকৃত উপকারভোগীদের জন্য স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

৫. সরকারি-বেসরকারি ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও গণপরিবহনসহ সব জনসেবামূলক স্থানে সর্বজনীন প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তথ্য ও ডিজিটাল সেবাও প্রতিবন্ধীবান্ধব করতে হবে।

৬. বিচার ব্যবস্থা, আইনগত সহায়তা ও সরকারি সেবায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সব সরকারি সেবা ও তথ্য সহজপ্রাপ্য এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব করতে হবে।

৭. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, উদ্ধার কার্যক্রম ও আশ্রয়কেন্দ্রে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার পরিকল্পনায়ও তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

৮. প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বৈষম্য, নির্যাতন ও সহিংসতা বন্ধে দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাতে হবে। পাশাপাশি বিশেষ আইন-শৃঙ্খলা ইউনিট ও বিশেষ আদালত গঠন করতে হবে।

৯. জাতীয় সংসদে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য অন্তত ১০টি সংরক্ষিত আসন এবং পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন করতে হবে। সিআরপিডি বাস্তবায়নে সব মন্ত্রণালয়ের কর্মপরিকল্পনা, বাজেট নিশ্চিত এবং সিআরপিডিবিরোধী আইন বাতিল করতে হবে।

১০. শুধু শারীরিক বা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতার নয়, সব ধরনের প্রতিবন্ধী ব্যক্তির শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল, মনোসামাজিক, শ্রবণ ও অন্যান্য প্রতিবন্ধিতার ক্ষেত্রেও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন তরুণ তাসীন খান জীমের মা নাজরীন হক, শ্রবণপ্রতিবন্ধী নারী জেসমিন আক্তার, সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম নজু, শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. মিরাজ হোসেন, সেরিব্রাল পালসি বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন তরুণ লেখক সাদমান সানজিম রহমানের মা নাজনীন নাহার, অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু আব্দুল ওহাব মোহাম্মদ সারাফ খানের মা আসমা সুলতানা, অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশু জুসেফ চাকমার বাবা আলো জ্যোতি চাকমা এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি মোহাম্মদ রেজাউল করিম সিদ্দিকী।

এমএইচএন/আরএফ/এসএম