বাংলাদেশে ডেঙ্গুর সরকারি পরিসংখ্যান প্রকৃত পরিস্থিতির পুরো চিত্র তুলে ধরে না বলে মন্তব্য করেছেন যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেম উদ্দিন ফরিদ।
তিনি বলেন, দেশে মাত্র ১৩ শতাংশ মানুষ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা এবং ২৭ শতাংশ মানুষ বেসরকারি হাসপাতাল বা স্বীকৃত চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে চিকিৎসা নেন। বাকি ৬০ শতাংশ মানুষ অনিবন্ধিত ও অনিয়ন্ত্রিত স্বাস্থ্যসেবাদাতাদের কাছ থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। ফলে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর তথ্য সরকারি পরিসংখ্যানে খুব কমই আসে। এ কারণে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর সরকারি হিসাব হচ্ছে ‘টিপ অব দ্য আইসবার্গ’।
সোমবার (২০ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম হলে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম আয়োজিত ডেঙ্গু-জ্বর সচেতনতামূলক সাইন্টিফিক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. মোসলেম উদ্দিন বলেন, সরকারি হিসাবে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ৫০০ মানুষ ডেঙ্গুতে মারা যান এবং ১ লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হন। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি। একই সঙ্গে ডেঙ্গু আক্রান্তদের দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক দুর্বলতা, কর্মক্ষমতা হ্রাস এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্নের মতো জটিলতা হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিলে ডেঙ্গুর কারণে বছরে দেশের ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। এখনও অনেকের মধ্যে মশারি ব্যবহার করলেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব— এমন ভুল ধারণা রয়েছে। অথচ এডিস মশা দিনের বেলায় কামড়ায়। তাই দিনের বেলায় মশার কামড় থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফুলের টব, নির্মাণাধীন ভবন, রাস্তার পাশের গর্তসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি অপসারণে গুরুত্ব দিতে হবে।
সংসদ সদস্য বলেন, শুধু মাঝে মধ্যে কীটনাশক স্প্রে করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এডিস মশার লার্ভা ধ্বংসে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। কারণ লার্ভা দীর্ঘ সময় শুকনো অবস্থায় টিকে থাকতে পারে এবং উপযুক্ত পরিবেশ পেলেই দ্রুত আবার মশায় পরিণত হয়। তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশার জীবনচক্র ভাঙতে হবে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় সব রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন হয় না। তবে জনগণের মধ্যে স্বাস্থ্যশিক্ষা, জলাশয় ও লার্ভা ধ্বংস এবং স্বাস্থ্যসেবাদাতাদের, বিশেষ করে অনিবন্ধিত স্বাস্থ্যকর্মীদের সচেতনতার আওতায় আনতে হবে। এই তিনটি বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে ডেঙ্গুজনিত মৃত্যু, আক্রান্তের সংখ্যা এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে।
সেমিনারে আরও বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরামের (এনডিএফ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. জাহাঙ্গীর-উল-আলম (সোহেল) প্রমুখ।
এমএইচএন/আরএফ/এসএম
