নবগঠিত দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার সদরদপ্তর পাগলা থানার পাশের ১৬৩ নম্বর জে.এল.ভুক্ত পাগলা মৌজায় স্থাপনের দাবি জানিয়েছে দক্ষিণ গফরগাঁও নাগরিক ঐক্য। একই সঙ্গে বর্তমান গেজেটে নির্ধারিত উত্তি ইউনিয়নের নয়াবাড়ি মৌজায় সদরদপ্তর স্থাপনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান ফুরকান এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত ১ জুলাই প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় পাগলা থানার অধীন আটটি ইউনিয়ন নিয়ে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ নামে নতুন উপজেলা গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে ৮ জুলাই প্রকাশিত গেজেটে উপজেলার সদরদপ্তর উত্তি ইউনিয়নের নয়াবাড়ি মৌজায় স্থাপনের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এ সিদ্ধান্তে দক্ষিণাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, নতুন উপজেলা গঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণের দোরগোড়ায় প্রশাসনিক সেবা পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু, উপজেলার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত পাগলা থানার পরিবর্তে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরের নয়াবাড়ি মৌজায় সদরদপ্তর স্থাপন করা হলে অধিকাংশ ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত ও প্রশাসনিক সেবা গ্রহণে ভোগান্তি কমবে না।
মাহবুবুর রহমান ফুরকান বলেন, পাগলা থানা ভৌগোলিকভাবে আট ইউনিয়নের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। সেখানে আগে থেকেই থানা, বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি সেবাকেন্দ্র, সড়ক ও রেল যোগাযোগসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো রয়েছে। ফলে উপজেলা সদর সেখানে স্থাপন করলে সব ইউনিয়নের মানুষ সমানভাবে সুবিধা পাবেন। কিন্তু স্থানীয় জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত সুবিধার কথা বিবেচনা করে সদরদপ্তরের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জনমত বা গণশুনানির কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি।
তিনি বলেন, বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পাগলা মৌজায় উপজেলা সদর নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি স্থানীয়রা বিনামূল্যে দিতে প্রস্তুত রয়েছেন। পাশাপাশি অস্থায়ী প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বড় আকারের ভবনও বিনা ভাড়ায় ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সরকারের প্রতি চার দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— পাগলা থানার আশপাশে উপজেলা সদর ও সরকারি দপ্তর স্থাপন, ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিরপেক্ষ কমিটির মাধ্যমে স্থান নির্ধারণ এবং জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
দাবি বাস্তবায়ন না হলে, ভবিষ্যতে ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথ ও মহাসড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
এমএইচএন/জেআই
