বিজ্ঞাপন

স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষক, ঋণ খেলাপিদের অযোগ্য ঘোষণার সুপারিশ

স্থানীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষক, ঋণ খেলাপিদের অযোগ্য ঘোষণার সুপারিশ

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রথম কমিশন বৈঠক শেষে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় ধরনের আইনগত পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়। কমিশনের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষক, ঋণ খেলাপি, বিল খেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের প্রার্থিতার অযোগ্য ঘোষণা করার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে কমিশন।

একই সঙ্গে নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি কাঠামোর ভেতরে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কমিশন বৈঠক শেষে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এই প্রস্তাবনাগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন।

সচিব জানান, ২০০৯ সালের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পর্কিত আইনগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে– সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ এবং জেলা পরিষদ- এই পাঁচ স্তরের নির্বাচনে প্রার্থীর যোগ্যতা ও অযোগ্যতার ক্ষেত্রে বেশ কিছু কড়াকড়ি আরোপের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংবিধানের নীতি মেনে লাভজনক পদে থেকে নির্বাচন করা বন্ধ করার পাশাপাশি দ্বৈত নাগরিকত্বধারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ থাকছে না। এর বাইরে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না মর্মে নির্বাচন কমিশন একমত হয়েছে এবং তাদের প্রার্থিতায় অযোগ্য ঘোষণার সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি বলেন, প্রার্থীদের ঋণ খেলাপির বিষ্যেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এবার ব্যক্তিগতভাবে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের বন্ধকদাতা হওয়ার পাশাপাশি যারা ঋণ খেলাপির গ্যারান্টার হিসেবে রয়েছেন, তাদেরকেও অযোগ্য হিসেবে গণ্য করার নীতিগত প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিল, ওয়াসা, কিংবা ভূমি করের মতো জরুরি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের বিল পরিশোধ না করলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক উভয় ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণা করা হবে। এর পাশাপাশি আরপিওর আদলে সব ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে সংজ্ঞায়িত ও অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ তৈরি করা হচ্ছে। নির্বাচনী আইনের এই পরিবর্তনগুলোর সঙ্গে সংগতি রেখে আচরণ বিধিমালাও পরবর্তীতে সংশোধন করা হবে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সচিন জানান, এসব সংস্কার কেবলই নির্বাচন কমিশনের সুপারিশ বা প্রস্তাবনা, যা চূড়ান্ত করার একচ্ছত্র দায়িত্ব স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং জাতীয় সংসদের। আগামী দুই-একদিনের মধ্যে আইন পরিবর্তনের এই খসড়া প্রস্তাবটি স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হবে।

আগামী নির্বাচনের তফসিল বা সময়সীমা নিয়ে এখনই কিছু নির্দিষ্ট না করলেও সচিব জানান, প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত নতুন নিবন্ধিত ভোটারদের নিয়ে নির্বাচনী ড্রাফট তৈরির কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং সরকার যথাসময়ে পদক্ষেপ নিলে ইসি সেই অনুযায়ী কাজ এগিয়ে নেবে বলে জানান তিনি।

এসআর/বিআরইউ