বিজ্ঞাপন

ঢাকা পোস্টে সংবাদ প্রকাশে সিইউএফএলের টেন্ডারে সাশ্রয় ৫৭ লাখ টাকা

ঢাকা পোস্টে সংবাদ প্রকাশে সিইউএফএলের টেন্ডারে সাশ্রয় ৫৭ লাখ টাকা

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় রাষ্ট্রায়ত্ত চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) ব্যাগিং, স্ট্যাকিং, ক্লিনিং ও আনুষঙ্গিক কাজের তৃতীয় দফার ই-জিপি (e-GP) টেন্ডারে ১৪টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে। এতে সর্বনিম্ন দর এসেছে ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এর আগে, প্রথম দফায় সর্বনিম্ন দর ছিল ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকায়। ফলে ই-জিপি পদ্ধতিতে টেন্ডার আহ্বানের মাধ্যমে সরকারের প্রায় ৫৭ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

সিইউএফএলের ব্যাগিং, স্ট্যাকিং ও ক্লিনিং কাজের টেন্ডার নিয়ে অনিয়ম, সিন্ডিকেট এবং প্রতিযোগী ঠিকাদারদের বাধা দেওয়ার অভিযোগে ঢাকা পোস্টে সংবাদ প্রকাশের পর বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পায়। এরপর বিতর্কিত দ্বিতীয় দফার টেন্ডার বাতিল করে ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) পদ্ধতিতে তৃতীয় দফার টেন্ডার আহ্বান করা হয়।

গত ২ জুলাই অনুষ্ঠিত তৃতীয় দফার ই-জিপি টেন্ডারে ১৪টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এতে সর্বনিম্ন দরদাতা হয় ইউএমএ (UMA) কনস্ট্রাকশন, যার দর ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

এর আগে সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমানের মনোনীত মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান টেন্ডারে অংশ নিতে পেরেছিল বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, অন্য আটটি প্রতিষ্ঠানকে কারখানায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিইউএফএল কর্তৃপক্ষ পুলিশেরও কোনো ব্যবস্থা করেনি।

প্রথম দফার ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার দরকে ‘অতিরিক্ত’ উল্লেখ করে দ্বিতীয় দফায় পুনরায় টেন্ডার আহ্বান করা হলেও সেখানে সর্বনিম্ন দর দাঁড়ায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

দ্বিতীয় দফায় সর্বনিম্ন দরদাতা মেসার্স আনোয়ারা ট্রান্সপোর্ট তৃতীয় দফার ই-জিপি টেন্ডারে অংশ নেয়নি।

দ্বিতীয় দফায় ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা দর দেওয়া মেসার্স শাহ মোহসেন আউলিয়া এন্টারপ্রাইজ ই-জিপি টেন্ডারে অংশ নিয়ে একই কাজের জন্য এবার ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা দর প্রস্তাব করে।

এতে অভিযোগকারীদের দাবি, সিইউএফএলের কথিত ‘ভাই ভাই সিন্ডিকেট’ তাদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে বেশি দামে কাজ পাইয়ে দিতে ই-জিপি পদ্ধতির পরিবর্তে ম্যানুয়াল ‘ওয়ান বক্স’ পদ্ধতিতে টেন্ডার আহ্বান করেছিল।

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রথম দফার ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার দরকে বেশি উল্লেখ করে দ্বিতীয় দফায় পুনরায় টেন্ডার আহ্বান করা হয়। কিন্তু ব্যয় কমার পরিবর্তে দ্বিতীয় দফায় দর বেড়ে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকায় পৌঁছে, যা প্রথম দফার তুলনায় ৪৩ লাখ টাকা বেশি। এই অস্বাভাবিক উচ্চমূল্যের দরদাতা প্রতিষ্ঠান আনোয়ারা ট্রান্সপোর্টকে ঘিরে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ ওঠে।

ওই টেন্ডারে ১০টি প্রতিষ্ঠান দরপত্রের শিডিউল সংগ্রহ করলেও রহস্যজনকভাবে মাত্র দুটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়। প্রতিষ্ঠান দুইটি হলো— শাহ মোহসেন আউলিয়া এন্টারপ্রাইজ (২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা) এবং আনোয়ারা ট্রান্সপোর্ট (২ কোটি ৩০ লাখ টাকা)।

অভিযোগ রয়েছে, সিন্ডিকেটের ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা অন্য আটটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের কারখানায় প্রবেশে বাধা দেয়। ফলে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নষ্ট করে একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

দরপত্র জমা দেওয়ার ক্ষেত্রেও নিয়ম মানা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। বিধি অনুযায়ী, অন্তত চারটি ভিন্ন স্থানে টেন্ডার বক্স থাকার কথা থাকলেও বিশেষ উদ্দেশ্যে শুধুমাত্র সিইউএফএল কার্যালয়ে দরপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়। এতে কথিত ‘ভাই ভাই সিন্ডিকেট’-এর বাইরে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান সেখানে যেতে সাহস পায়নি বলে অভিযোগ ওঠে।

এ ছাড়া, সংবেদনশীল এই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ মোতায়েনের বিধান থাকলেও পুলিশ ডাকা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, এতে এমডির আশীর্বাদপুষ্ট মেসার্স আনোয়ারা ট্রান্সপোর্ট ও শাহ মোহসেন আউলিয়া এন্টারপ্রাইজের লোকজন পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের কারখানায় প্রবেশে বাধা দেন।

বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে ই-জিপি চালু থাকলেও সিইউএফএলে কেন ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে টেন্ডার নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে কারখানার ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে ঢাকা পোস্টে এটি নিয়ে একাধিক নিউজ হলে বিষয়টি বিসিআইসি তদন্ত করে এবং শেষ পর্যন্ত বিতর্কিত টেন্ডার বাতিল করে ই-জিপি পদ্ধতিতে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে।

এমআর/এসএএস