বিজ্ঞাপন

ইতিবাচক আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

মধ্যবিত্তের ফ্ল্যাট কেনা সহজ করতে রিহ্যাবের ৬ প্রস্তাব

মধ্যবিত্তের ফ্ল্যাট কেনা সহজ করতে রিহ্যাবের ৬ প্রস্তাব

মধ্যবিত্তের জন্য নিজস্ব ফ্ল্যাট কেনা সহজ করতে সিংগেল ডিজিট সুদে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ চালু, ফ্ল্যাট নিবন্ধন ব্যয় ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (পিপিপি) সাশ্রয়ী আবাসন নির্মাণসহ ৬ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)।

এসব প্রস্তাব মনোযোগ দিয়ে শুনে যৌক্তিক দাবিগুলো ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে রিহ্যাবের প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন। এ সময় গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, এমপি মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়াসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে ড. আলী আফজাল বলেন, সরকার স্বীকৃত একমাত্র আবাসন খাতের ট্রেডবডি হিসেবে রিহ্যাব গত ৩৫ বছরের বেশি সময় ধরে পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন উন্নয়নে সরকারের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছে। বর্তমানে এ খাতে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং দেশের জিডিপিতে আবাসন খাতের অবদান প্রায় ১৫ শতাংশ। এ ছাড়া সিমেন্ট, রড, ইট, সিরামিক, টাইলস, কাচ, রং, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, স্যানিটারি, ফার্নিচার ও পরিবহনসহ ৩০০টির বেশি লিংকেজ শিল্প এ খাতের ওপর নির্ভরশীল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রিহ্যাবের প্রস্তাবনায় প্রথমেই দেশের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পিত নগরায়ণের স্বার্থে জাতীয় ভূমি জোনিং নীতিমালা প্রণয়ন এবং বর্তমান ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) ও নির্মাণ বিধিমালা যুগোপযোগী করার দাবি জানানো হয়।

এছাড়া নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মধ্যবিত্তের আবাসনের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সিংগেল ডিজিট সুদে দীর্ঘমেয়াদি হাউজিং লোন চালুর আহ্বান জানানো হয়।

রিহ্যাব আরও দাবি জানায়, এশিয়ার অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ফ্ল্যাট নিবন্ধন ব্যয় ৫ শতাংশে নির্ধারণ করা হোক। পাশাপাশি চলতি অর্থবছরে জমির মালিকদের ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ মূলধনী কর প্রত্যাহার এবং বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন ও জমি-ফ্ল্যাট নিবন্ধনসহ সংশ্লিষ্ট সব সেবা সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

ড. আলী আফজাল বলেন, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে আবাসন খাত আরও গতিশীল হবে এবং মধ্যবিত্ত মানুষের নিজস্ব আবাসনের স্বপ্ন পূরণ সহজ হবে। ভবিষ্যতেও সরকারের উন্নয়ন অভিযাত্রায় দায়িত্বশীল অংশীদার হিসেবে কাজ করতে চায় রিহ্যাব।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এ খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এমন একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে আবাসন খাতের উন্নয়ন হবে পরিকল্পিত, টেকসই ও দুর্নীতিমুক্ত।

তিনি বলেন, নগরায়ণ শুধু ঢাকা কেন্দ্রিক হলে চলবে না; দেশের অন্যান্য অঞ্চলকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে কৃষিজমি সংরক্ষণ নিশ্চিত করেই উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার বা রাজউক সরাসরি আবাসন ব্যবসা পরিচালনা করুক– এমনটি তিনি চান না। বরং সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বভিত্তিক (পিপিপি) প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

রিহ্যাবের উপস্থাপিত প্রস্তাবগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনার পর প্রধানমন্ত্রী যৌক্তিক দাবিগুলো ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

সাক্ষাতে রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট, বিভিন্ন রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ আবাসন খাতের উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এসআই/বিআরইউ