দেশের দুই জেলার দুটি স্টেশনে কুশিয়ারা নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং এরপর ধীরে ধীরে উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের (এফএফডব্লিউসি) প্রকাশিত পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।
পূর্বাভাসে বলা হয়, বর্তমানে কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) ও মারকুলি (সুনামগঞ্জ) স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি বেড়েছে, তবে কুশিয়ারা নদীর পানি স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী একদিন নদীর পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে এবং পরবর্তী দুই দিনে কমতে পারে। ফলে সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থেকে পরে উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে রাজশাহী বিভাগের আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীর পানি বেড়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় আত্রাই নদীর কিছু স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নওগাঁ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া ছোট যমুনা নদীর পানি নওগাঁ এবং আত্রাই নদীর পানি নাটোর ও সিরাজগঞ্জের কিছু স্থানে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে।
চট্টগ্রাম বিভাগের মুহুরী, ফেনী ও হালদা নদীর পানি বেড়েছে, যদিও সেলোনিয়া, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি কমেছে। আগামী একদিনে এসব নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে বান্দরবান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার সাঙ্গু ও মাতামুহুরীসহ কয়েকটি নদী সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।
রংপুর বিভাগের ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি কমলেও তিস্তার পানি স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার কিছু স্থানে এসব নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি স্থিতিশীল থাকলেও গঙ্গা-পদ্মার পানি বেড়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কিছু স্থানে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
এমএইচএন/আরএফ/জেডএস
