রাজধানী ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তি এবং ঐতিহাসিক ১ আগস্ট ‘ঢাকা দিবস’ উপলক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে আগামী ৩১ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা’ শীর্ষক বর্ণাঢ্য কর্মসূচি নিয়েছে।
ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, পরিবেশ সচেতনতা এবং নগর ব্র্যান্ডিংকে বিশ্ব দরবারে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে এ মেগা উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে।
রাজধানী ঢাকার ৪১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সপ্তাহব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজন করতে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সর্বনিম্ন ৫০ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত স্পন্সরশিপ চাওয়া হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) পক্ষ থেকে।
জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সিএসআর তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিক চিঠিতে টাকার নির্দিষ্ট অঙ্ক উল্লেখ করা ছিল না। তবে ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রতিষ্ঠানভেদে ৫০ লাখ থেকে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত স্পন্সরশিপের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
গত সপ্তাহে ডিএসসিসি ১৩ জুলাই তারিখের চিঠি দিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ‘ঢাকা ডে ২০২৬’ আয়োজনের পৃষ্ঠপোষকতা চায়।
একাধিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা বলেছেন, ব্যাংকের অর্থ মূলত আমানতকারী ও শেয়ারহোল্ডারদের সম্পদ। ফলে যেকোনো ধরনের ব্যয়ের ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদ, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা এবং সিএসআর নীতিমালা অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। কোনো সরকারি সংস্থার অনুরোধ এলেই সেই অর্থ ব্যয় করা সম্ভব নয়। সরকারি সংস্থা হিসেবে সিটি করপোরেশনের নিজস্ব বাজেট, উন্নয়ন প্রকল্প ও রাজস্ব উৎস রয়েছে। উৎসব আয়োজনের প্রয়োজন হলে সেই ব্যয়ও নিজস্ব অর্থ থেকেই হওয়া উচিত।
এর আগে গত ১৩ জুলাই নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম জানান, রাজধানী ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তি এবং ঐতিহাসিক ১ আগস্ট ‘ঢাকা দিবস’ উপলক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে আগামী ৩১ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী ‘হৃদয়ে ঢাকা’ শীর্ষক বর্ণাঢ্য কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই উদ্যোগের মূল প্রতিপাদ্য— ‘হৃদয়ে ঢাকা’। এটি কেবল একটি উৎসব নয়, বরং ঢাকার ঐতিহ্য পুনর্জাগরণ ও পরিচ্ছন্ন-সবুজ নগরী গড়ার একটি দীর্ঘমেয়াদি নাগরিক আন্দোলন। ৩১ জুলাই ভোরে অনুষ্ঠিত হবে ‘ঢাকা হেরিটেজ সাইকেল র্যালি’ এবং বিকেলে হাতি, ঘোড়ার গাড়ি, পালকিসহ ঐতিহ্যবাহী অনুষঙ্গ নিয়ে বর্ণাঢ্য ‘ঢাকা শোভাযাত্রা’।
এ ছাড়া, ১ আগস্ট ঢাকা দিবসের ভোরে থাকছে ‘ঢাকা হেরিটেজ ম্যারাথন’। বিকেল ৪টায় লালবাগ কেল্লায় উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। একই সঙ্গে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ বাস্তবায়নে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা করা হবে।
পাশাপাশি, ২ আগস্ট লালবাগ কেল্লায় ঘুড়ি উৎসব, বিশেষ ‘ঢাকা আড্ডা’ এবং সন্ধ্যায় ঐতিহ্যবাহী কাওয়ালীসহ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া, ৩ আগস্ট বুড়িগঙ্গা নদীতে (খোলামোড়া ঘাট থেকে ওয়াইজ ঘাট) ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হবে।
অন্যদিকে ১ থেকে ৭ আগস্ট সপ্তাহজুড়ে মধুমিতা সিনেমা হলে ঢাকাকে নিয়ে নির্মিত পুরোনো চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, বিটিভিতে বিশেষ নাটক ও অনুষ্ঠান প্রচার, শিল্পকলা একাডেমিতে মঞ্চনাটক, আর্ট ক্যাম্প ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, রাজধানীর বিপণিবিতানগুলোতে ‘দি গ্রেট ঢাকা সেল’ এবং সদরঘাট থেকে ঐতিহ্যবাহী নৌযানে ‘হেরিটেজ ক্রুজ’ এর বিশেষ ভ্রমণ আয়োজন করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ১৬১০ সালে সুবাহ বাংলার রাজধানী হিসেবে ঢাকার যাত্রা শুরু। আর ১৮৬৪ সালের ১ আগস্ট ঢাকা পৌরসভা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শুরু হয় আধুনিক নগর প্রশাসনের পথচলা। কালের বিবর্তনে যা আজ ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। তাই ১লা আগস্টকে আমরা ‘ঢাকা দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান— বাংলাদেশের প্রতিটি গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের সাক্ষী এই ঢাকা। সেই ঐতিহ্য ধারণ করেই একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও আধুনিক রাজধানী গড়ে তোলাই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লক্ষ্য।
প্রতিকূল আবহাওয়া পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে প্রশাসক বলেন, দেশের সার্বিক আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে নির্ধারিত সময়েই উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। তবে পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি সাপেক্ষে সূচি পরিবর্তন হতে পারে। তবে এই প্রাণের উৎসব অবশ্যই উদযাপিত হবে।
এএসএস/এসএএস
