বিজ্ঞাপন

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ

মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও এই সরকারকে সমর্থন দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি

মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও এই সরকারকে সমর্থন দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বর্তমান সরকারের প্রতি সবসময় সমর্থন দিয়ে গেছেন।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, আমার মনে হয় তিনি (মো. সাহাবুদ্দিন) মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও বর্তমানে জনগণের ভোটে যে সরকার নির্বাচিত হয়েছেন তার প্রতি সমর্থন এবং শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন সবসময়। আমি তার মঙ্গল কামনা করি।

এর আগে সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করেছেন বলে জানান হাফিজ উদ্দিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদের দফা তিন অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মোহম্মদ সাহাবুদ্দিন তার স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র আজ ২৪ জুলাই ৫টা ১ মিনিটে আমার নিকট পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন। ফলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি এবং রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছি।

কেন তিনি পদত্যাগ করেছেন এটি নিশ্চয়ই জানার কৌতুহল আপনাদের মধ্যে রয়েছে মন্তব্য করে হাফিজ উদ্দিন জানান, তিনি (রাষ্ট্রপতি) লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে তিনি গুরুতর অসুস্থ, হৃদরোগ উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় তিনি ভুগছেন। তার হৃদযন্ত্রের বাইপাস সার্জারি হয়েছেন। ইদানীং স্বাস্থ্য পরীক্ষার অটোনমিক নিউরোপ্যাথি নামে রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে তিনি মাঝে মাঝে অচেতন হয়ে পড়েন। এসব রোগের প্রাদুর্ভাব এবং শারীরিক ও মানসিক অসমর্থতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সংবিধানের পদের দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। তার দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন। এ কারণে তিনি স্বাস্থ্যগত কারণে পদত্যাগ করেছেন এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে এই পদত্যাগপত্র আমি গ্রহণ করেছি।

তিনি আরও বলেন, সংবিধানে ইতোমধ্যে আপনারা জানেন যেদিন আমি স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছি সেদিনই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবেও শপথ নিয়েছি, যদি প্রয়োজন হয়। একইভাবে আমাদের ডেপুটি স্পিকারও যখন শপথ গ্রহণ করেন, তখন স্পিকার হিসেবে শপথের অংশে বর্ণিত থাকে। বলা থাকে যখন স্পিকারের চেয়ার শূন্য থাকবে তখন ডেপুটি স্পিকার স্পিকারের দায়িত্ব পালন করবেন।

হাফিজ উদ্দিন জানান,  সুতরাং আজকে বাংলাদেশের নানা ধরনের কথাবার্তা আমি দুপুরে এসেই শুনছি। তিনি শারীরিক অসমর্থের কারণে পদত্যাগ করেছেন আমি তার মঙ্গল এবং সুস্বাস্থ্য কামনা করি।

সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ একটি গুরুতর ঘটনা, এর সাথে দেশের ভালো মন্দ জড়িত। রাষ্ট্রপতি একজন মানুষ। তিনি অসুস্থ হতেই পারেন এবং তিনি রোগের নামও প্রকাশ করেছেন। লিখিতভাবে জানিয়েছেন তিনি কী কী রোগে ভুগছেন এবং মাঝে মাঝে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এর জন্য ডাক্তারের সার্টিফিকেটের কোনো প্রয়োজন নেই। তিনি যেখানে নিজেই এটি দাবি করেছেন। সুতরাং আমরা আশা করি এই পদত্যাগের ফলে সকল বার্তা পরিষ্কার হলো।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি দেশের একজন সম্মানিত ব্যক্তি, তিনি পদত্যাগ করতেই পারেন এবং এই চেয়ারটা কখনো শূন্য থাকে না। আমি জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছি, এটিই বাস্তবতা। আশা করি সব ধরনের কনফিউশন এখন থেকে দূর হয়ে যাবে।

এ সময় এক সাংবাদিক জানতে চান, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দাবি জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি শুধু পদত্যাগ করলে হবে না সাতদিনের মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করতে হবে-- এ বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, এ ব্যাপারে আমার কোনো মন্তব্য নাই।

এএইচআর/এমএসআই/এমএন