বিজ্ঞাপন

‘অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করতে হবে’

‘অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করতে হবে’

রাজনৈতিক বয়ানগুলোকে সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হতে হবে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করতে হবে বলে জানিয়েছেন ফ্রেডরিখ-এবার্ট-স্টিফটুং (এফইএস)-এর বাংলাদেশের রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ ফেলিক্স গ্রেদেস।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর এক‌টি হো‌টে‌লে ‘ট্রান্সফরমেটিভ চেঞ্জ মেকিং অ্যান্ড পলিটিক্যাল স্ট্র্যাটেজি মেকিং’ শীর্ষক এক কর্মশালায় তিনি এ কথা জানান। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) এফইএস-এর সহযোগিতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় রূপান্তরমূলক ট্রান্সফরমেটিভ চেঞ্জ মেকিং, রাজনৈতিক কৌশল প্রণয়ন এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বয়ান উৎপাদন বিষয়ে আলোচনা হয়। 

অংশগ্রহণকারীরা ইন্টারেক্টিভ আলোচনা ও অংশগ্রহণমূলক অনুশীলনের মাধ্যমে অনুসন্ধান করেন- কীভাবে রাজনৈতিক কর্মীরা অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেন, যা কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে এবং নারীর অর্থবহ রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে শক্তিশালী করবে।

উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সিজিএস-এর নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী এবং এফইএস বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অ্যাডভাইজার সাধন কুমার দাস। কর্মশালাটি পরিচালনা করেন ফেলিক্স গের্ডেস।

পারভেজ করিম আব্বাসী নারীর নির্বাচনী রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর গুরুত্ব এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে তাদের ন্যায্য অবস্থান নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। 

তিনি বলেন, এই উদ্যোগ তরুণ নারী রাজনৈতিক কর্মীদের নেতৃত্বের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করছে, তাদেরকে ধারণাগত জ্ঞান ও ব্যবহারিক রাজনৈতিক দক্ষতায় সমৃদ্ধ করছে। 

তিনি জোর দিয়ে বলেন, অর্থবহ রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি শুধু সংখ্যাগত প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো নয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক নেতৃত্বে নারীর সক্রিয় সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করাও জরুরি।

অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে সাধন কুমার দাস এফইএস-এর কার্যক্রম ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ তুলে ধরেন। 

তিনি ব্যাখ্যা করেন, জার্মান রাজনৈতিক ফাউন্ডেশন হিসেবে এফইএস এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে গণতন্ত্রীকরণ, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কাজ করছে। বাংলাদেশ ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনীতি, ভূ-অর্থনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন, শ্রম অধিকার ও গণতান্ত্রিক শাসন নিয়ে কাজ করছে এবং স্থানীয়ভাবে প্রোথিত রাজনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তরের কৌশলকে সমর্থন করছে।

ফেলিক্স গ্রেদেস অংশগ্রহণকারীদের ট্রান্সফরমেটিভ পলিটিক্যাল চেঞ্জ ও কৌশলগত চিন্তাভাবনা নিয়ে আলোচনায় যুক্ত করেন। 

তিনি বলেন, সমাজের বড় অংশ পরিবর্তনকে গ্রহণ করতে অনাগ্রহী থাকে, কারণ তারা স্থিতাবস্থাকে বজায় রাখতে চায়; তুলনামূলকভাবে ছোট অংশই সামাজিক ও রাজনৈতিক রূপান্তরকে এগিয়ে নেয়। জার্মানির উদাহরণ টেনে তিনি দেখান, কীভাবে ব্যাপক নাগরিক সম্পৃক্ততা গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ও সম্মিলিত পদক্ষেপকে শক্তিশালী করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর তাৎক্ষণিক স্বার্থ আলাদা হলেও সাধারণ কাঠামোগত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তাদেরকে একত্রিত করা সম্ভব। অংশগ্রহণকারীরা একটি ম্যাপিং অনুশীলনের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অভিনেতাকে চিহ্নিত করেন এবং অর্থনৈতিক উদ্বেগ থেকে শুরু করে জনসেবা পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন জনদাবিগুলোকে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক এজেন্ডার সঙ্গে যুক্ত করার উপায় নিয়ে চিন্তা করেন। 

তিনি রাজনৈতিক বয়ানের রূপান্তরের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহিত করেন সমালোচনামূলকভাবে মূল্যায়ন করতে, রাজনৈতিক বয়ানগুলো সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কিনা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করছে কিনা।

সেশনের পুরোটা জুড়ে অংশগ্রহণকারীরা রাজনৈতিক বয়ান, শিক্ষা, জন বাজেট, ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ নিয়ে সক্রিয়ভাবে আলোচনা করেন। 

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে ফেলিক্স গ্রেদেস দেখান, কীভাবে সাধারণ কাঠামোগত ক্ষোভ বিভিন্ন পটভূমির নাগরিকদেরকে পরিবর্তনের সাধারণ দাবিতে একত্রিত করেছিল। 

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, বিভিন্ন মতাদর্শিক ঐতিহ্যের রাজনৈতিক কর্মীরা কীভাবে ভিন্ন সামাজিক লক্ষ্য ও কৌশলের মাধ্যমে সমাজকে সংগঠিত করার চেষ্টা করে। 

জোট গঠন, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক রূপান্তর নিয়ে সমালোচনামূলকভাবে ভাবতে তিনি অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহিত করেন।

এনআই/আরএফ/জেডএস

বিজ্ঞাপন