বিজ্ঞাপন

৮১টি বাংলাদেশি মিশনে ‘জুট কর্নার’, রপ্তানি বাড়াতে নতুন উদ্যোগ

৮১টি বাংলাদেশি মিশনে ‘জুট কর্নার’, রপ্তানি বাড়াতে নতুন উদ্যোগ

সরকারের প্রথম পাঁচ মাসে বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা এবং পাটকে আবার দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত করাকেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। এ লক্ষ্য সামনে রেখে রাষ্ট্রায়ত্ত পাট ও বস্ত্রকলে বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উন্নত জাতের পাটবীজ উদ্ভাবন, পাটপণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং রপ্তানি সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি। তবে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে এখনও মামলাজট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং বিনিয়োগসংক্রান্ত নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

এসব বিষয় নিয়ে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলমের মুখোমুখি হয়েছেন ঢাকা পোস্ট-এর চিফ অব পলিটিক্যাল অ্যান্ড স্টেট অ্যাফেয়ার্স আদিত্য রিমন। সাক্ষাৎকারটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

ঢাকা পোস্ট: ১৮০ দিনের কর্মসূচির মধ্যে ১৫০ দিন পার হয়েছে। এ সময়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতি কতটুকু?

শরীফুল আলম : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী ইশতেহারে প্রান্তিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বন্ধ মিল-কারখানা চালু, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা, খাল খনন, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনীতি শক্তিশালী করা, বৃক্ষরোপণ, জলবায়ু ও পরিবেশ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন। সরকার গঠনের মাত্র নয় দিনের মধ্যে প্রায় ১৩ লাখ কৃষকের প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

এর ধারাবাহিকতায় ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি মন্ত্রণালয় নির্ধারিত লক্ষ্য অনুযায়ী কাজ করছে। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পাঁচ মাস পর আমাদের মূল্যায়ন হচ্ছে, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীর নির্দেশনায় আমাদের মন্ত্রণালয়ের জন্য কিছু নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সেগুলো বাস্তবায়নে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

dhakapost

ঢাকা পোস্ট: আপনার মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার কী ছিল?

শরীফুল আলম: আমাদের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার ছিল বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন (বিজেএমসি) এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) অধীন বন্ধ মিলগুলো পুনরায় চালু করা। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে এসব মিল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। লুটপাট করে খেয়ে গেছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আবার উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে হবে।

অনেক মিল মামলা-সংক্রান্ত জটিলতায় রয়েছে। সেগুলোর নিষ্পত্তি করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশি শিল্পগোষ্ঠী ও বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা হয়েছে। চীনসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদলও এসেছে। তাদের কাছে বিনিয়োগের প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের স্বনামধন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও এসব মিলে বিনিয়োগে আগ্রহী করার চেষ্টা করছি।

ঢাকা পোস্ট: বন্ধ মিল চালুর ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কী ধরনের অগ্রগতি হয়েছে?

শরীফুল আলম: বিজেএমসির প্রায় ২৫টি এবং বিটিএমসিরও প্রায় ২৫টি মিল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে ১৪টি মিলের জন্য বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এসবের মধ্যে ৯টি মিলে উৎপাদনও শুরু হয়েছে।

আমাদের সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিজেএমসির চারটি মিল বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনও পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি মিলের বিষয়ে টিকে গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। বাকি তিনটির চুক্তিও চলতি মাসের মধ্যেই সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি।

অনেক মিল মামলা-সংক্রান্ত জটিলতায় রয়েছে। সেগুলোরও দ্রুত নিষ্পত্তি হবে বলে আশা করছি। বিটিএমসির ক্ষেত্রেও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) এবং লিজের মাধ্যমে বন্ধ মিলগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিছু প্রকল্প বর্তমানে টেন্ডার পর্যায়ে রয়েছে, আবার কিছু প্রকল্প উচ্চপর্যায়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

ঢাকা পোস্ট: এসব মিল চালুর ফলে কত মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে?

শরীফুল আলম: এখন পর্যন্ত বিজেএমসির মিলগুলোতে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ জনের কর্মসংস্থান হয়েছে। বিটিএমসির চালু হওয়া মিলগুলোতেও প্রায় ৭ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

আমরা আশা করছি, চলতি বছরের মধ্যেই বিজেএমসির আরও চারটি এবং বিটিএমসির আরও তিনটি মিল বেসরকারি বিনিয়োগের আওতায় আসবে। চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর বিনিয়োগকারীদের আমরা তিন বছরের গ্রেস পিরিয়ড দিয়ে থাকি। কারণ পুরোনো ভবন সংস্কার, নতুন কারখানা নির্মাণ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতি আমদানি ও স্থাপনে সময়ের প্রয়োজন হয়।

এ ছাড়া আগামী পাঁচ থেকে ছয় মাসের মধ্যে আরও সাত থেকে আটটি মিলের চুক্তি সম্পন্ন করা সম্ভব হবে আশা করছি। সব মিল চালু করা গেলে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আমাদের ধারণা।

dhakapost

ঢাকা পোস্ট: পাটের পুনর্জাগরনে সরকারের পরিকল্পনা কী?

শরীফুল আলম: সোনালি আঁশের সেই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এ লক্ষ্যে কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তির ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া, বীজের সংকট দূর করা এবং পাট জাগ দেওয়ার জন্য পানির সংকট নিরসনে গুরুত্ব দিচ্ছি।

প্রতি বছর দেশে প্রায় ৬ হাজার টন পাটবীজের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ও কৃষি মন্ত্রণালয় মিলে প্রায় ১ হাজার ৫০০ টন উৎপাদন করে। বাকি বীজ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়।

আমাদের উৎপাদিত পাটবীজ থেকে গাছ পরিপক্ব হয়ে কাটার উপযোগী হতে ১১০ থেকে ১২০ দিন সময় লাগে। অন্যদিকে বিদেশি জাতের বীজ থেকে উৎপাদিত পাট প্রায় ১০০ দিনের মধ্যেই কাটার উপযোগী হয়ে যায়। এই অতিরিক্ত ২০ দিনের কারণে দুই ফসলি জমির অনেক কৃষক পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন। এ সমস্যা সমাধানে আমরা গবেষণার মাধ্যমে স্বল্পমেয়াদি নতুন জাতের পাটবীজ উদ্ভাবনের কাজ করছি, যাতে দেশীয় বীজ থেকেও ১০০ দিনের মধ্যে পাট কাটার উপযোগী হয়। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) উদ্ভাবিত ‘তোষা-৯’ নামে একটি নতুন জাত পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই এর আশানুরূপ ফল পাওয়া যাবে। 

ঢাকা পোস্ট: পাটপণ্যের বাধ্যতামূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে?

শরীফুল আলম: পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো এবং প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর লক্ষ্যে আমরা পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছি। সরকারি দপ্তরগুলোতে টিস্যু বক্স, ফাইল এবং বিভিন্ন অফিস সরঞ্জামে পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

আমরা ব্যাংকগুলোর সঙ্গেও আলোচনা করেছি, যাতে বড় অঙ্কের অর্থ পরিবহনের ক্ষেত্রে প্লাস্টিকের পরিবর্তে পাটের ব্যাগ ব্যবহার করা হয়। একই সঙ্গে শপিংমল, সুপারশপ এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে পাটজাত ব্যাগ ব্যবহারে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাটপণ্যের ব্যবহার যত বাড়বে, ততই পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে তার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশীয় পাটশিল্পও আরও শক্তিশালী হবে।

ঢাকা পোস্ট: আন্তর্জাতিক বাজারে পাটজাত পণ্যের প্রচারে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে?

শরীফুল আলম: আন্তর্জাতিক বাজারে পাটজাত পণ্যের প্রচার ও রপ্তানি বাড়াতে আমরা বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নিয়েছি। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পাটজাত পণ্য প্রদর্শনের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা (স্পেস) বরাদ্দ চেয়ে প্রস্তাব দিয়েছি, যাতে দেশি-বিদেশি যাত্রীরা বাংলাদেশের পাটজাত পণ্যের সঙ্গে পরিচিত হতে পারেন।

সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমাদের একটি বৈঠক হয়েছে। সেখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের ৮১টি দূতাবাস ও মিশনে ‘বাংলাদেশ প্রোডাক্ট কর্নার’ স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছি। ওই কর্নারে উল্লেখযোগ্যভাবে পাটজাত পণ্য প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশি পাটপণ্য আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরা, ব্যবহার বাড়ানো এবং নতুন রপ্তানি বাজার সৃষ্টি করা উদ্দেশ্য।

এ ছাড়া চলতি বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে দেশে একটি আন্তর্জাতিক জুট এক্সপো আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় যৌথভাবে বিদেশি ব্যবসায়ী ক্রেতাদের (বায়ার) এ আয়োজনে আমন্ত্রণ জানাবে। পাশাপাশি কোন দেশে কোন ধরনের পণ্যের চাহিদা রয়েছে, সেই তালিকা তৈরি করে সম্ভাব্য নতুন ক্রেতাদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে। আমাদের লক্ষ্য, বিদ্যমান বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন আন্তর্জাতিক বাজার সৃষ্টি করা।

ঢাকা পোস্ট: শিক্ষার্থীদের জন্য জুট ব্যাগ বিতরণের পরিকল্পনা সম্পর্কে বলুন...

শরীফুল আলম: প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমরা স্কুল পর্যায়ে স্কুল ব্যাগ বিতরণ করছি। পাটজাত পণ্যের জুটন ব্যাগগুলো দেওয়ার চেষ্টা করছি। আমাদের বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং  প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়—এই তিন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে প্রায় ১ কোটি ৩৫ লাখ ব্যাগ বিতরণ করবো। প্রতিটা স্কুলের ক্লাস ওয়ান থেকে ফাইভ পর্যন্ত। 

প্রথমে প্রতিটি উপজেলার একটি বিদ্যালয়ে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ব্যাগ বিতরণ শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে প্রতি মাসে এক লাখ ব্যাগ বিতরণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাইলট প্রকল্প সফল হলে সারাদেশে একযোগে কর্মসূচি বাস্তবায়ন হবে। এতে শিশুদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব পণ্য ব্যবহারের সচেতনতা তৈরি হবে। পাট পণ্যের ব্যবহারের চাহিদাও বাড়বে। এ বিষয়ে কৃষকেদের উৎসাহ দিলে পাটের  উৎপাদন বাড়বে। সোনালী আঁশের যে ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে মানুষ চাষে উব্ধুদ্ধ হবে। যখন পাটের কাষামালের সংকট তৈরি বা চাহিদা বাড়বে হবে, তখন পাটের উৎপাদনও বাড়বে।

ঢাকা পোস্ট: পাট পণ্যের ন্যাযমূল্য না পাওয়াসহ নানা কারণে কৃষকরা পাট উৎপাদন থেকে সরে আসছে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা কী?

শরীফুল আলম: এটা সত্য, অনেক সময় ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষক বিমুখ হচ্ছেন। মধ্যস্বত্বভোগীরা লাভবান হয়। এটা অন্যতম বড় সমস্যা। পাটের মূল্য গত বছর থেকে ফিরে আসছে, ৫ হাজার টাকা মণ হয়ছে। আরেকটা সমস্যা আবার পানির অভাবে পাট জাক বা পচানোর সমস্যায় পড়তে হয়। এ কারণেই সরকার খাল খনন কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। খাল খননের ফলে পানির অভাব দূর হবে কৃষকদের। একই সঙ্গে কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও সার দেওয়া হচ্ছে। এই প্রকল্প শেষ হয়েছে। আগামী বছর থেকেও কৃষকদের সহায়তায় এ প্রকল্প অব্যাহত থাকবে। বীজ ও সার ফ্রি দেবো আমরা।

ঢাকা পোস্ট: বস্ত্রশিল্পে পাটের ব্যবহার বাড়াতে কী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে?

শরীফুল আলম: বর্তমানে জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারের মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ১৩৫টি দেশে পাটজাত পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। জারা, এইচঅ্যান্ডএম, ওয়ালমার্ট, প্রাইমার্কসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্র্যান্ডে বাংলাদেশি পাটজাত পণ্য যাচ্ছে। কটনের সঙ্গে পাট মিশিয়ে নতুন ধরনের ফেব্রিকও তৈরি হচ্ছে। বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলো এ খাতে বিনিয়োগ করছে। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সঙ্গে আলোচনা করে গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল খাতে পাটের ব্যবহার আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা পোস্ট: সরকারের এই ৫ মাসে কাজ করতে গিয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা উন্নয়নকাজে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে কি?

শরীফুল আলম: দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, মামলাজট, জনবল সংকট এবং নীতিগত সীমাবদ্ধতা বড় চ্যালেঞ্জ। তবে, আমরা অনেক ক্ষেত্রে বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে আইন ও নীতিমালায় পরিবর্তন আনছি। সব সমস্যা একদিনে তৈরি হয়নি, তাই সমাধানেও সময় লাগবে। আমরা আশাবাদী, আগামী এক বছরের মধ্যেই মানুষ ইতিবাচক ফল দেখতে পাবে। আমি মনে করি, নেতৃত্ব ঠিক থাকলে আমলাতন্ত্র বড় বাধা নয়। কোনো প্রতিষ্ঠানে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব। আমাদের লক্ষ্য ব্যক্তিস্বার্থ নয়, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করা।

ঢাকা পোস্ট: মাঠপর্যায়ে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে?

শরীফুল আলম: ফরিদপুর থেকে পাট চাষিদের নিয়ে উঠান বৈঠক শুরু করছি। এরপর তাঁতশিল্প, নকশিকাঁথা এবং অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের কাছেও যাচ্ছি। যারা উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, তাদের সমস্যার কথা শুনে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণই আমাদের লক্ষ্য। আগামী বছরে পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১৪ লাখ ৮০ হাজার টন থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ১৫ লাখ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এভাবেই বাংলাদেশের পাট, তাঁত ও ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে নতুন করে পুনর্জাগরণের পথে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা কাজ করছি। 

এএইচআর/এসএম