চাকরিপ্রার্থীদের জন্য দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কর্মসংস্থান অধিদপ্তর গঠনের পর এর আওতায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এ এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হবে। শিগগিরই এ সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জুন মাসের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় সভার কার্যপত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে। মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারের সভাপতিত্বে গত ২১ জুলাই মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বেকারত্ব নিরসন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কর্মসংস্থান অধিদপ্তর গঠনের মাধ্যমে এই কেন্দ্রগুলো পরিচালিত হবে এবং এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব শিগগিরই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হচ্ছে।
কার্যপত্রে বলা হয়েছে, কর্মসংস্থান অধিদপ্তর গঠনের লক্ষ্যে গত ২৮ জুন দেশের বিশিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে তৃতীয় পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রাপ্ত মতামত ও সুপারিশের আলোকে কর্মসংস্থান অধিদপ্তর গঠন সংক্রান্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, সভার পরামর্শ মোতাবেক কর্মসংস্থান অধিদপ্তর গঠন এবং এর আওতায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শিগগিরিই প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রেরণ করা হবে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টারে চাকরি প্রার্থীদের মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শূন্যপদে নিয়োগে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। আর যাদের দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে, তাদের উপযুক্ত দক্ষতা অর্জনের জন্য যথাযথ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
এদিকে, একই কার্যপত্রে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়েছে।
এই কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। এ ছাড়া যেসব আবেদনকারীর কাজের দক্ষতার ঘাটতি থাকবে, তাদেরকে উপযুক্ত দক্ষতা অর্জনের জন্য সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে শ্রম মন্ত্রণালয়।
কার্যপত্র অনুযায়ী, বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ (সংশোধিত ২০২২) পুনরায় সংশোধনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ লক্ষ্যে ৬ জুলাই বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫ (সংশোধিত ২০২২) সংশোধন সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রাপ্ত মতামত ও সুপারিশের আলোকে বিধিমালার সংশোধনী প্রস্তাব পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত জরার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলো সরকারপক্ষে পরিচালনার লক্ষ্যে বেসরকারি প্যানেল আইনজীবী নিয়োগের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘প্রস্তাব উন্মুক্তকরণ কমিটি’র সভা ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্যানেল আইনজীবী হিসেবে নিয়োগের জন্য মোট ২২টি আবেদন প্রাপ্ত হয়। পরবর্তীতে প্রাপ্ত আবেদনগুলো মূল্যায়নের জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটির সভা আহ্বান করা হলেও নির্বাচনকালীন সময়ে কমিটির কয়েকজন সদস্য নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত থাকায় সভাটি স্থগিত করা হয়। বিষয়টি নিষ্পত্তির লক্ষ্যে শীঘ্রই প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটির সভা আয়োজন করা হবে বলে সভায় জানানো হয়েছে।
শূন্যপদ পূরণের বিষয়ে কার্যপত্রে বলা হয়েছে, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের চারটি ক্যাটাগরির মোট ২৭টি শূন্যপদের বিপরীতে নিয়োগপ্রাপ্ত ২৩ জন প্রার্থী ১৫ জুন যোগদান করেছেন। যোগদানকৃত প্রার্থীদের মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন শাখা ও অধিশাখায় পদায়ন করা হয়েছে। অবশিষ্ট শূন্যপদ পূরণের কার্যক্রম বিধি মোতাবেক চলমান রয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন থেকে ৪৪তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) এর মাধ্যমে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তিনটি শূন্যপদের বিপরীতে তিনজন প্রার্থীকে সুপারিশ করা হয়েছে। এ সুপারিশের প্রেক্ষিতে প্রার্থীদের নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
ডি-নথি বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে কার্যপত্রে বলা হয়েছে, শতভাগ ডি-নথি ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের সব শাখা ও অধিশাখায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আইসিটি সেলে পাওয়া অধিকাংশ পত্র ডি-নথির মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়। এছাড়া অন্যান্য শাখা ও অধিশাখার প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা নিয়মিতভাবে করা হচ্ছে।
জুন মাসে হার্ডকপিতে পাওয়া সব ডাক (১০০ শতাংশ) ফ্রন্ট ডেস্ক কর্তৃক ডি-নথিতে আপলোড করে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। একই সময়ে মন্ত্রণালয়ের ২৯টি শাখা ও অধিশাখা থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ডি-নথিতে মোট ৫৬৯টি নথি নিষ্পত্তি হয়েছে এবং হার্ড ফাইলে কোনো নথি নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে ডি-নথিতে নথি নিষ্পত্তির হার ১০০ শতাংশ। পাশাপাশি ডি-নথিতে নথি ও পত্র নিষ্পত্তির অগ্রগতি নিয়মিতভাবে আইসিটি সেলকে অবহিত করা হচ্ছে এবং শাখা ও অধিশাখা থেকে প্রাপ্ত হার্ডফাইলে নথি নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত তথ্য ছক আকারে সমন্বয় সভায় উপস্থাপন করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন
এছাড়াও কার্যপত্রে আরও বলা হয়েছে, অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (জিআরএস)-এ প্রাপ্ত অভিযোগগুলো যথাসময়ে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে এবং প্রতি মাসে নিয়মিতভাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রতিবেদন পাঠানো হচ্ছে। জুন মাসে নতুন ২১টি অভিযোগ পাওয়া যায়। আগের মাসের ৮টি অভিযোগসহ মোট অভিযোগের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৯টি।
এর মধ্যে ১৪টি অভিযোগ সংশ্লিষ্ট অন্য দপ্তরে পাঠানো হয়েছে এবং একটি অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়েছে। অবশিষ্ট ১৪টি অভিযোগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যেগুলোর নির্ধারিত সময় এখনো অতিক্রম হয়নি।
কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ই-সার্ভিস কার্যক্রম বাস্তবায়ন চলমান রয়েছে এবং যথাসময়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে।
একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক শ্রমিক এবং তাদের সন্তানদের শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আর্থিক সহায়তা প্রদান, শিশুশ্রম নিরসন এবং শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের আইসিটি সেল নিয়মিতভাবে তথ্য বাতায়ন হালনাগাদ করছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে ঢাকা পোস্টকে বলেন, চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সব জেলা-উপজেলায় ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার’ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এজন্য শিগগিরই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হবে।
তিনি আরও বলেন, এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টারের মূল উদ্দেশ্যে হচ্ছে চাকরিপ্রার্থী ও কর্মসংস্থানের সুযোগের মধ্যে সংযোগ তৈরি করা। এখানে চাকরি প্রার্থীদের মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদে নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
এসএইচআর/এমএন
