বিজ্ঞাপন

মানবাধিকার সুরক্ষায় প্রস্তুত দেশের ৪০ তরুণ : ইউএনডিপি

মানবাধিকার সুরক্ষায় প্রস্তুত দেশের ৪০ তরুণ : ইউএনডিপি

বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ৪০ জন তরুণ মানবাধিকার ফেলো আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। এই বিশেষ ফেলোশিপের মাধ্যমে তারা মানবাধিকার বিষয়ে গভীর জ্ঞান ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি, নিজ নিজ এলাকায় অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখার উপযুক্ত হিসেবে প্রস্তুত হয়েছেন। তরুণদের এই যাত্রা দেশে শান্তি, ন্যায়বিচার ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গঠনের লক্ষ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ১৬ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে ইউএনডিপি।

রোববার (২৬ জুলাই) জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) ঢাকা অফিস থেকে এ তথ্য জানানো হয়।  

ইউএনডিপি জানায়, সুইজারল্যান্ড সরকারের আর্থিক ও কৌশলগত সহায়তায় জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) এই ফেলোশিপ পরিচালনা করে। ফেলোশিপটির মূল লক্ষ্য ছিল তরুণ সমাজে মানবাধিকার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো, যে–কোনো অধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে তা নিরাপদে কোথায় ও কীভাবে জানাতে হবে সে সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেওয়া এবং বিভিন্ন নাগরিক উদ্যোগে সরাসরি অংশ নিতে তরুণদের উদ্বুদ্ধ করা। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের সবকটি জেলায় সফলভাবে ২৪১টি ওরিয়েন্টেশন সেশন পরিচালনা করা হয়, যার মাধ্যমে ৪ হাজার ১২৯ জন তরুণের কাছে মানবাধিকারের গুরুত্বপূর্ণ বরাত ও শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

সংস্থাটি জানায়, ২৫ জুলাই গাজীপুরে সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ফেলোশিপের সফল সমাপ্তি ঘটে। সমাপনী অনুষ্ঠানে দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা ফেলো, দক্ষ প্রশিক্ষক এবং ইউএনডিপির ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা পুরো কর্মসূচির অর্জনগুলো পর্যালোচনা করেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাজের অভিজ্ঞতা ও বাস্তব গল্প তুলে ধরেন এবং তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই মানবাধিকার শিক্ষা কার্যক্রম কীভাবে সারা দেশে আরও বিস্তৃত করা যায় তা নিয়ে উন্মুক্ত মতবিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয় এবং ফেলোশিপের অর্জিত প্রভাব ও ভবিষ্যতের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

মানবাধিকারের মৌলিক ধারণা তৈরির উদ্দেশ্যে আয়োজিত প্রাথমিক ওরিয়েন্টেশন সেশনের মাধ্যমেই মূলত এই কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয়েছিল, যেখানে ২৮৭ জন তরুণ অংশ নেন। পরবর্তীতে কঠোর বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৫১ জন আবেদনকারীর মধ্য থেকে চূড়ান্ত ৪০ জন ফেলোকে নির্বাচন করা হয়। তারা প্রথমে একটি নিবিড় ‘প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং পরবর্তীতে প্রশিক্ষক হিসেবে সারাদেশে ২৪১টি অনলাইন ওরিয়েন্টেশন সেশন পরিচালনা করেন। এর মাধ্যমেই দেশের ৪ হাজার ১২৯ জন তরুণের মধ্যে সচেতন করা সম্ভব হয়েছে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে ইউএনডিপি বাংলাদেশের সুশাসন বিভাগের সিনিয়র প্রোগ্রাম অ্যাডভাইজার ড্রাগান পপোভিচ তরুণদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। 

তিনি বলেন, এই ফেলোরা প্রমাণ করে দিয়েছেন তরুণরা কেবল মানবাধিকার শিক্ষার গ্রহীতা নন, তারা নিজেরাও অন্যদের শেখাতে পারেন এবং সমাজে অধিকার সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারেন। অর্জিত জ্ঞানকে নেতৃত্ব ও স্থানীয় অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করতে পারলে যে সমাজে মানবাধিকারের চর্চা আরও শক্তিশালী হয়, ফেলোদের বাস্তব কাজ তারই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

অনুষ্ঠানে অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে আসা এক ফেলো। তিনি জানান, এই ফেলোশিপ তাদের শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান দেয়নি, দিয়েছে আত্মবিশ্বাস ও মাঠপর্যায়ে কাজ করার বাস্তব দক্ষতা। এর ফলে এখন তারা সোচ্চার হতে পারছেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছেন এবং কেউ মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হলে কোথায় আইনি বা কৌশলগত সহায়তা পাওয়া যাবে তা সাধারণ মানুষকে জানাতে সক্ষম হচ্ছেন।

এই উদ্ভাবনী উদ্যোগটি মূলত, মানবাধিকার রক্ষাকারীদের পাশে দাঁড়ানো এবং তরুণ কর্মী, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম ও জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করার ক্ষেত্রে ইউএনডিপির একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টারই অংশ। 

সুইজারল্যান্ডের সহায়তায় পরিচালিত ‘স্ট্রেনদেনিং ইনস্টিটিউশনস, পলিসিজ অ্যান্ড সার্ভিসেস’ প্রকল্পের মাধ্যমে বাস্তবায়িত এই উদ্যোগ বাংলাদেশে জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো এবং সার্বিকভাবে জেন্ডার সমতা, শান্তি ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। 

সমাপনী অনুষ্ঠানে ইউএনডিপির প্রজেক্ট ম্যানেজার মাহমুদুল হাসান এবং ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যানালিস্ট সুসান সুহাও উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন।

এসআর/জেআই 

বিজ্ঞাপন