বিজ্ঞাপন

৩৭ লাখ পরিবারের তথ্য নিবন্ধন সম্পন্ন

নিরাপত্তা জোরদার ও পুলিশি সেবা দিতে বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়ার তথ্য চায় ডিএমপি

নিরাপত্তা জোরদার ও পুলিশি সেবা দিতে বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়ার তথ্য চায় ডিএমপি

রাজধানীর নিরাপত্তা জোরদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশি সেবা আরও কার্যকর করতে ‘সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিআইএমএস)’-এ বাড়িওয়ালা, ভাড়াটিয়া ও মেস সদস্যদের তথ্য নিবন্ধনের আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি)।

বর্তমানে ‘সিআইএমএস’ ডাটাবেজে প্রায় ৩৬ লাখ ৭৩ হাজার ২৩৮টি পরিবারের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। এতে ৫০ লাখের বেশি নাগরিকের তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএমপি। 

প্রায় দুই কোটি নাগরিকের বসবাসের ঢাকার নিরাপত্তায় তথ্য সংরক্ষণে হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিতের লক্ষ্যেই এ আহ্বান বলে জানিয়েছেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী।

নিয়াজ মেহেদী জানান, ঢাকা নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশি সেবা আরও কার্যকর করতে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সফলভাবে পরিচালনা করছে সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিআইএমএস)। এই ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রাজধানীর বাড়িওয়ালা, ভাড়াটিয়া ও মেস সদস্যদের মৌলিক তথ্য নিবন্ধন, সংরক্ষণ ও হালনাগাদ করা হচ্ছে।

ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজধানীতে বসবাসরত নাগরিকদের মৌলিক তথ্য নিবন্ধন, সংরক্ষণ ও হালনাগাদ করতে ডিএমপি সফলভাবে ‘সিআইএমএস’ পরিচালনা করছে। ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই কার্যক্রমে সবার অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর রমনা থানা থেকে সফটওয়্যারভিত্তিক ‘সিআইএমএস’ কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হয়। ২০১৭ সালে এটি রাজধানীর সব থানায় সম্প্রসারিত হয় এবং ২০১৯ সালে নাগরিকদের নিবন্ধন সহজ করতে চালু করা হয় ‘সিআইএমএস’ মোবাইল অ্যাপ।

বর্তমানে ‘সিআইএমএস’ ডাটাবেজে প্রায় ৩৬ লাখ ৭৩ হাজার ২৩৮টি পরিবারের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। এতে ৫০ লাখের বেশি নাগরিকের তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে।

এব্যাপারে নিয়াজ মেহেদী বলেন, ‘সিআইএমএস’-এ সংরক্ষিত হালনাগাদ তথ্য বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করে। পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধ, তদন্ত, হারিয়ে যাওয়া ব্যক্তি শনাক্ত, সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরিচয় যাচাই এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত তথ্য ব্যবহারে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

তিনি জানান, ঢাকা মহানগরের প্রতিটি থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে ‘সিআইএমএস’ নিবন্ধন ফরম পাওয়া যায়। নাগরিকরা ফরম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দিতে পারবেন। ঠিকানা পরিবর্তন হলে নতুন এলাকার থানায় পুনরায় নিবন্ধন করতে হবে।

ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘সিআইএমএস’-এ নিবন্ধনের মাধ্যমে বাড়িওয়ালারা ভাড়াটিয়ার পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেন। এতে অপরাধী বা প্রতারকদের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ কমে এবং বাড়িওয়ালারাও অযথা হয়রানির ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকেন। অন্যদিকে ভাড়াটিয়ারা সংশ্লিষ্ট বিট অফিসারের সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করতে পারেন এবং প্রয়োজনে দ্রুত পুলিশি সহায়তা পান।

নিয়াজ মেহেদী আরও বলেন, ‘সিআইএমএস’ ডাটাবেজ অপরাধ তদন্তেও কার্যকর ভূমিকা রাখছে। নিবন্ধিত তথ্যের মাধ্যমে পলাতক অপরাধী শনাক্ত, সন্দেহভাজন ব্যক্তির তথ্য যাচাই এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এতে বিট পুলিশিং আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং জনগণ ও পুলিশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রাজধানীর সব বাড়িওয়ালা, ভাড়াটিয়া ও মেস সদস্যকে ‘সিআইএমএস’-এ নিবন্ধন সম্পন্ন করে নিরাপদ, স্মার্ট ও অপরাধমুক্ত ঢাকা গড়ে তুলতে সহযোগিতার আহ্বান ডিএমপির।

জেইউ/বিআরইউ