বিজ্ঞাপন

কার্যকর হচ্ছে স্ট্যান্ড রিলিজ

বদলির পরও কর্মস্থলে যোগ দেননি চসিকের প্রকৌশলী দম্পতি

বদলির পরও কর্মস্থলে যোগ দেননি চসিকের প্রকৌশলী দম্পতি

দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) তদন্তাধীন এক প্রকৌশলী দম্পতি বদলির পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেননি। এ কারণে নিয়ম অনুযায়ী তাদের বর্তমান কর্মস্থল থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ (তাৎক্ষণিক অবমুক্ত) করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

সোমবার (২৭ জুলাই) স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখার যুগ্মসচিব মো. রবিউল ইসলাম বলেন, বদলির আদেশ পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কেউ নতুন কর্মস্থলে যোগ না দিলে নিয়ম অনুযায়ী তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। আজ সোমবার থেকে দুই কর্মকর্তার ক্ষেত্রে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।

এর আগে গত ২৩ জুলাই স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে চসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) মোহাম্মদ শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরীকে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনে এবং তার স্ত্রী, নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ফারজানা মুক্তাকে রংপুর সিটি করপোরেশনে বদলি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে তাদের ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় ২৭ জুলাই থেকে তাদের স্ট্যান্ড রিলিজপ্রাপ্ত বলে গণ্য করার কথা উল্লেখ করা হয়।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) সুমনা আল মজীদ বলেন, রোববার পর্যন্ত শাহীন-উল ইসলাম চৌধুরী সেখানে যোগ দেননি। 

স্থানীয় সরকার বিভাগ এ দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গত ৯ জুলাই দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেয়। ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তাদের বদলির আদেশ দেওয়া হয়।

এর আগে গত ২৫ জুন চট্টগ্রামের বাসিন্দা মেহেদী চৌধুরী স্থানীয় সরকার বিভাগে লিখিত অভিযোগ করেন। লিখিত অভিযোগে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, ফাইল বাণিজ্য, ঠিকাদারি কাজে প্রভাব বিস্তার, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রায় ৫০ কোটি টাকার সম্পদ অর্জন এবং বিদেশে অর্থ পাচারের কথা উল্লেখ করা হয়। 

এদিকে, গত ২৩ জুলাই চসিকের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে এ দুই কর্মকর্তার বদলির আদেশ প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। চিঠিতে তিনি বলেন, প্রকৌশলী সংকটের কারণে চলমান উন্নয়নকাজ ব্যাহত হতে পারে। পাশাপাশি দুই সন্তানের পড়াশোনা ও পারিবারিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনারও অনুরোধ করা হয়।

এমআর/আরএফ