দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে সমন্বিত পরিকল্পনা, কার্যকর বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন নগর পরিকল্পনাবিদ, প্রকৌশলী ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা।
সোমবার (২৭ জুলাই) নগরের লালখান বাজারের কপার চিমনি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় চট্টগ্রামের নগর-পরিকল্পনাবিদ প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন মজুমদারের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) স্থাপত্য ও পরিকল্পনা বিভাগের ডিন ড. মোহাম্মদ রাশিদুল হাসান।
আলোচনায় অংশ নেন পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগরের সহকারী পরিচালক রোমানা আক্তার, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নির্বাহী প্রকৌশলী ও জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী আহম্মদ মঈনুদ্দিন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী কাইসার আহমেদ এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক মনিরা পারভীন রূবা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রায় ৫০ লাখ মানুষের আবাসস্থল চট্টগ্রাম একসময় 'প্রাচ্যের রাণী' হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল-নালা দখল ও ভরাট, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সমন্বয়হীন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে বর্তমানে জলাবদ্ধতা নগরবাসীর অন্যতম প্রধান দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।
বক্তারা বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই নগরের অধিকাংশ নিচু এলাকা তলিয়ে যায়। কোথাও কোথাও দিনের পর দিন পানি জমে থাকায় মশা-মাছির উপদ্রব বেড়ে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে। পাশাপাশি কর্মঘণ্টা নষ্ট, যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন, বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিসহ নগর অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বক্তারা আরও বলেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ নয়, খাল পুনরুদ্ধার, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার টেকসই সমাধান সম্ভব। একই সঙ্গে নগরবাসীকেও খাল-নালায় বর্জ্য ফেলা থেকে বিরত থেকে সচেতন ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।
জেআই
