চট্টগ্রাম নগরের ব্যস্ততম মেহেদীবাগ এলাকার মূল সড়কের পাশে একটি ১০ তলা আবাসিক-কাম-বাণিজ্যিক ভবনে সিডিএর অনুমোদন ছাড়াই হাসপাতাল চালুর প্রস্তুতি চলছে। এরিস্টো কেয়ার নামে হাসপাতালটির নির্মাণকাজ প্রায় শেষ। কয়েক দিনের মধ্যেই উদ্বোধনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে হাসপাতাল পরিচালনার জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) অনুমোদন তো নেই, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রও নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া, ভবনটির অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগও রয়েছে।
সিডিএ সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২১ আগস্ট ভবনটি আবাসিক-কাম-বাণিজ্যিক ভবন হিসেবে নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে ২০২৩ সালের ৫ অক্টোবর জমির মালিক মঞ্জুরুল ইসলাম গংয়ের সঙ্গে ভবনটিতে হাসপাতাল পরিচালনার জন্য চুক্তিবদ্ধ হন ডা. তৌফিক হোসেন ও ডা. ফজল করিম বাবুল। কিন্তু হাসপাতাল হিসেবে ভবনটি ব্যবহারের জন্য সিডিএর কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।
সিডিএর নথি অনুযায়ী, অনুমোদিত নকশায় ভবনটিতে ২০টি পিলার থাকার কথা থাকলেও নির্মাণ করা হয়েছে ১৭টি। একইভাবে একটি লিফটের অনুমোদন থাকলেও স্থাপন করা হয়েছে তিনটি। ভবনের নিচে পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও নেই। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের মতে, অনুমোদিত নকশা থেকে এ ধরনের বিচ্যুতি ভবনের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
এসব অনিয়মের কারণে ভবন মালিককে একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে সিডিএ। ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট প্রথম শোকজ করা হয়। পরে চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি আবারও নোটিশ দিয়ে হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কোনো কার্যক্রম পরিচালনা না করতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সব ধরনের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভবনটিতে মোবাইল কোর্টও চালানো হয়। কিন্তু এসব পদক্ষেপের পরও নির্মাণকাজ শেষ করে এখন হাসপাতালটি উদ্বোধনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সিডিএর অথরাইজড অফিসার-২ প্রকৌশলী তানজিব হোসেন বলেন, এই ভবনে হাসপাতাল করার কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। একাধিকবার নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং মোবাইল কোর্ট চালানো হয়েছে। হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর স্থাপনার অনুমোদনের ক্ষেত্রে সিডিএ চেয়ারম্যান জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, হাসপাতালটির কোনো পরিবেশগত ছাড়পত্রও নেই। চট্টগ্রাম মহানগর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মুক্তাদির হাসান বলেন, এরিস্টো কেয়ার হাসপাতালের নামে পরিবেশ ছাড়পত্র ইস্যু করা হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এরিস্টো কেয়ার হাসপাতালের উদ্যোক্তা ডা. শরীফ মো. তৌফিক হোসেন বলেন, তিনি বর্তমানে ভারতে তার মায়ের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত। এ বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না।
ভবনের মালিক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, এসব বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। ভবনটি হাসপাতাল পরিচালনার জন্য ভাড়া দিয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক ডা. ফজলে রাব্বি বলেন, ভবনটি পরিদর্শন করা হয়েছে। ভবন নির্মাণসংক্রান্ত অনুমোদনের বিষয়টি সিডিএর এখতিয়ার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর হাসপাতালের অবকাঠামো ও চিকিৎসাসেবা-সংক্রান্ত বিষয় পরিদর্শন করে প্রতিবেদন ঢাকায় পাঠিয়েছে।
এমআর/এসএএস
