রাজধানীর আদাবরের নবোদয় হাউজিং ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার বাদশা হত্যা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত বহিষ্কৃত যুবদল নেতা মনোয়ার হোসেন লেদু ওরফে লেদু হাসানকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাতে মোহাম্মদপুর থানার মোহাম্মদিয়া হাউজিং সোসাইটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে লেদু হাসানকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-২ এর একটি দল।
বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান।
ডিআইজি নয়মুল হাসান জানান, আদাবর থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন লেদু হাসান। তবে রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় তার বিরুদ্ধে নানা অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। র্যাব-২ এর দাবি, এ হত্যাকাণ্ডে মূল হামলাকারীকে অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন লেদু। তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজিসহ ৩২টি মামলা রয়েছে।
তিনি বলেন, গত ১ জুলাই রাজধানীর আদাবর থানাধীন নবোদয় হাউজিং এলাকায় জাপান ও ব্রাজিলের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে সংঘর্ষের জেরে বিএনপি নেতা আবুল বাশার বাদশাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার অন্যতম অভিযুক্ত মনোয়ার হোসেন লেদু।
র্যাব জানায়, এ মামলায় গ্রেপ্তার অন্য আসামিদের আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে উঠে এসেছে, লেদুই মূল হত্যাকারী পারভেজকে হত্যার জন্য অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-২ অধিনায়ক বলেন, লেদুর বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও মাদকসহ মোট ৩২টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে মোহাম্মদপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে ১০টি, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দুটি, দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা এবং একটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। আদাবর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে আটটি, বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে ছয়টি, হত্যা ও হত্যাচেষ্টার দুটি এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া, দারুস সালাম থানায় তার বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, ২০১০ সালের আলোচিত ওহিদুজ্জামান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে লেদু গ্রেপ্তার হয়ে ২০১২ সাল পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন। এ ছাড়া, ২০২১ সালে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৪। ওই অস্ত্র মামলায় তার ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-২ সিও দাবি করেন, মোহাম্মদপুর ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে লেদুর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও কিশোর গ্যাংকে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ জানিয়ে আসছিলেন।
গ্রেপ্তার লেদুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাদশা হত্যা মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান বলে জানান তিনি।
জেইউ/এসএএস
