বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে দাবি

ইউসুফ নয়, ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ার ঘোষণায় হত্যার টার্গেট ছিল বাবু

ইউসুফ নয়, ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়ার ঘোষণায় হত্যার টার্গেট ছিল বাবু

রাজধানীর মিরপুরের কাফরুল এলাকায় গুলি করে যুবদলের কর্মী ইউসুফকে হত্যার ঘটনার নেপথ্যে এলাকার আধিপত্য ও বিভিন্ন ব্যবসার দ্বন্দ্বের কথা জানিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। এর মধ্যে আজ সংবাদ সম্মেলন ডেকে ভিন্ন তথ্য তুলে ধরেছেন নিজেকে ভুক্তভোগী ও নিরাপত্তাহীন হিসেবে উল্লেখ করা কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবু।

ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছাপোষণে এই হামলা ও হত্যার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে তিনিই ছিলেন মূল টার্গেট। ভাগ্যক্রমে তিনি বেঁচে যান বলে দাবি করেন তিনি। 

তার দাবি, ওই ঘটনায় কাফরুল থানার বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির দেওয়ান জনি মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতা। আবির, হাফিজ, জিয়ারুল এই তিন ঘাতকেরসঙ্গে সাব্বির দেওয়ান জনির ছবি পাওয়া গেছে। তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সব বের হয়ে আসবে। 

বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর সেগুনবাগিচা বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে (ক্র্যাব) আয়োজিত পল্লবীতে যুবদল নেতা ইউসূফ হত্যার সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন হাফিজুল ইসলাম বাবু।

বাবু বলেন, গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় এক নারকীয় গুলির ঘটনা ঘটে। এই হামলায় নিহত হন কাফরুল থানা যুবদলের কর্মী ইউসুফ এবং গুলিতে গুরুতর আহত হন আরও দুজন। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

তিনি বলেন, ওই হামলার মূল লক্ষ্যই ছিলাম আমি। আমাকে চিরতরে সরিয়ে দিতে ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে শুটার নিয়োগ করা হয়েছিল। কিন্তু আমি অলৌকিকভাবে বেঁচে যাই।

গত সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এই মামলা সংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করে, স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার, ময়লার টেন্ডার, ফুটপাতের দোকান, ডিস-ইন্টারনেট ব্যবসা কিংবা জমি দখলকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই বক্তব্যের সঙ্গে প্রকৃত সত্যের কোনো মিল নেই বলে দাবি করেন হাফিজুল ইসলাম বাবু।

কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব দাবি করা বাবু বলেন, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৪ নম্বর ওয়ার্ডে আমি কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলাম। আমার এই প্রার্থিতার আগ্রহই আমার ও আমার সহকর্মীদের জীবনের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারি, সেই উদ্দেশ্যে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে আমাকে হত্যার নীল নকশা তৈরি করা হয়। মূল চক্রান্তকারী নিজে আড়ালে থেকে হাফিজুর রহমান হাফিজকে (সিএনজি হাফিজ) সামনে রেখে এই কিলিং মিশন পরিচালনা করেছে। মূল ঘটনা ও অপরাধীদের আড়াল করতে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ও আধিপত্যের গল্প সাজিয়ে পুরো বিষয়টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

পরে কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া গ্রেপ্তার আসামিদের সঙ্গে কাফরুল থানার বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির দেওয়ান জনির বেশ কয়েকটি ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, হাফিজকে সামনে রেখে মূল ঘাতককে আড়াল করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন পায়তারা চলছে। এতক্ষণ যে ছবিগুলো দেখেছি তিনজন ঘাতকের সঙ্গে একই নেতার ছবি। তাহলে কি সেই নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করাটা আইনের দায়িত্ব নয়? এখনো কি আইন সেই নেতাকে জিজ্ঞেস করেছে? সেই নেতাকে জিজ্ঞেস না করে আইন কি করলো? হাফিজকে মূল আসামি করে প্রেস ব্রিফিং করে দিল। হাফিজ তো গ্রেপ্তারও হলো না এখনো। তাহলে এতো তড়িঘড়ি করে প্রেস ব্রিফিং এর মানে কি বলে প্রশ্ন তোলেন হাফিজুল ইসলাম বাবু। 

নিজের জীবনের শঙ্কা প্রকাশ করে ভুক্তভোগী বাবু বলেন, আমি এখনো শঙ্কিত আছি।

তিনি বলেন, এখন এমন এক সিচুয়েশনে পড়েছি, হত্যাকারীর নাম মুখে আনাটাও আমার জন্য নাকি অপরাধ। আমি অবশ্যই আমার জীবন নিয়ে আমি শঙ্কায় আছি। রাষ্ট্রের কাছে এবং প্রশাসনের কাছে আমার নিরাপত্তার জোর দাবি জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, কাফরুল থানার বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির দেওয়ান জনি এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতা বলে আমি ধারণা করছি। আবির, হাফিজ, জিয়ারুল এই তিন ঘাতকেরসঙ্গে সাব্বির দেওয়ান জনির ছবি পাওয়া গেছে। আপনাদের তদন্তে অবশ্যই বের হয়ে আসবে অন্যান্য ঘাতকদের সঙ্গে ছবি আছে কিনা। 

মূল নির্দেশদাতা ও পরিকল্পনাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবিও জানান তিনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, কাফরুল থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির দেওয়ান জনি।

তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের ভিত্তিতে বিচার দাবি করেন ও এই ঘটনায় যে বা যারাই জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, এটা কাউন্সিলর নির্বাচন ইস্যু না। তাছাড়া এলাকায় আরও ৭/৮ জন কাউন্সিলর প্রার্থী রয়েছেন। কে মনোনয়ন পাবেন সেটা তো এখনি বলা সম্ভবও না। এই ঘটনায় ইতোমধ্যে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্ত চলছে, তদন্তে যার নাম আসবে সেই অপরাধী হিসেবে বিচারের আওতায় আসবে। আমার নাম আসলে দেশের প্রচলিত আইন অনুসারে যে সাজা হয় তা মেনে নিতে আমি প্রস্তুত। আমি তো দেশেই আছি। আমার দাবি একটাই-যার অপরাধ বা যে অপরাধী সেই শাস্তি পাক।

জেইউ/এমএসএ