বিজ্ঞাপন

সরোয়ার আলমগীর

‘ফটিকছড়িবাসীর ভোটের মর্যাদা রক্ষা হয়েছে, এখন উন্নয়নের পালা’

‘ফটিকছড়িবাসীর ভোটের মর্যাদা রক্ষা হয়েছে, এখন উন্নয়নের পালা’

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আদেশে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনে আপাতত আর কোনো আইনি বাধা নেই সরোয়ার আলমগীরের। একে ফটিকছড়িবাসীর রায়ের বিজয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। সরোয়ার আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অবসানের মধ্য দিয়ে জনগণের রায়ের প্রতি সম্মান পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন আমার একমাত্র লক্ষ্য ফটিকছড়ির উন্নয়ন এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণ।

বুধবার (২৯ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আদেশের পর চট্টগ্রামের বাসভবনে এক প্রতিক্রিয়ায় সরোয়ার আলমগীর এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। একই সঙ্গে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। আজকের এই আদেশে সত্য, ন্যায়বিচার এবং জনগণের রায়ের বিজয় হয়েছে। আদালত আবারও প্রমাণ করেছেন, আইনের শাসন ও জনগণের অধিকারই সর্বোচ্চ।

সরোয়ার আলমগীর বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফটিকছড়ির মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়ে ধানের শীষ প্রতীককে বিজয়ী করেছিলেন। এক লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ জন ভোটার আমাকে তাদের প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমিন সেই রায় মেনে নিতে পারেননি। তিনি নির্বাচন-পূর্ব সময় থেকে শুরু করে গেজেট প্রকাশ, শপথ গ্রহণ এবং সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রতিটি ধাপে একের পর এক আইনি জটিলতা সৃষ্টি করেছেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনের সাড়ে পাঁচ মাস ধরে নতুন নতুন আবেদন করে ফটিকছড়ির মানুষকে তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধির পূর্ণাঙ্গ সেবা থেকে বঞ্চিত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। সংসদে এলাকার দাবি-দাওয়া তুলে ধরা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার পথেও বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। আদালতের আজকের আদেশে স্পষ্ট হয়েছে, ফটিকছড়িবাসীকে প্রতিনিধিত্বহীন করে রাখার সেই অপচেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।

সরোয়ার আলমগীর বলেন, আমি এটিকে ব্যক্তিগত বিজয় হিসেবে দেখি না। এটি ফটিকছড়ির প্রতিটি ভোটারের বিজয়, জনগণের ভোটাধিকারের বিজয় এবং গণতন্ত্রের বিজয়। আজকের এই রায়ের পর আমি ফটিকছড়িবাসীকে বলতে চাই— আপনাদের ভোট বৃথা যায়নি। আপনাদের দেওয়া প্রতিটি ভোটের মর্যাদা রক্ষা করার দায়িত্ব এখন আমার কাঁধে। আপনাদের ভালোবাসার প্রতিদান উন্নয়নের মাধ্যমেই দিতে চাই।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন আইনি জটিলতার কারণে অনেক উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি। সংসদ সদস্য হিসেবে অন্তত ৫ কোটি টাকার বরাদ্দ ফটিকছড়িবাসী পায়নি। যদিও এগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে আমি পুনরায় বরাদ্দ নেওয়ার চেষ্টা করছি। 

তিনি আরও বলেন, এখন আর কোনো বাধা নেই। আমি সংসদে ফটিকছড়ির প্রতিটি মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে কথা বলব। নির্বাচনের সময় মানুষের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা বাস্তবায়নই হবে আমার রাজনীতির প্রধান লক্ষ্য। যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন আর যারা দেননি— আমি সবার সংসদ সদস্য। উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক বিভাজন থাকবে না। ফটিকছড়ির প্রতিটি ইউনিয়ন, প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রতিটি সড়ক এবং প্রতিটি মানুষের সমস্যা সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করব। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিশেষ করে ফটিকছড়িতে একটি ইকোনমিক জোন করা হবে। আমি ইতোমধ্যে বিডার চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি।

সরোয়ার আলমগীর বলেন, খুব শিগগিরই ফটিকছড়ির জনপ্রতিনিধি, আলেম-ওলামা, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, কৃষক, যুবসমাজ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করে একটি সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হবে। জনগণের মতামতের ভিত্তিতেই উন্নয়নের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে।

সংসদ সদস্য বলেন, আমার দরজা সব সময় ফটিকছড়ির মানুষের জন্য খোলা থাকবে। মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আমি ফটিকছড়িকে শুধু একটি সংসদীয় আসন হিসেবে দেখি না, এটি আমার পরিবার। এই পরিবারের প্রতিটি মানুষের সুখ-দুঃখের অংশীদার হয়ে আমৃত্যু পাশে থাকতে চাই। ইনশাআল্লাহ, আমরা সবাই মিলে একটি বৈষম্যহীন, আধুনিক, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ফটিকছড়ি গড়ে তুলব।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে ঋণখেলাপির অভিযোগে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল করে। এরপর তিনি হাইকোর্টে রিট আবেদন করলে ২৭ জানুয়ারি আদালত ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিত করে তাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেন। পরে প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন আপিল বিভাগে আবেদন করলে আদালত মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফটিকছড়ি আসনের নির্বাচনের সরকারি গেজেট প্রকাশ স্থগিতের নির্দেশ দেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরোয়ার আলমগীর ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত নেতা মুহাম্মদ নুরুল আমিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ৬২ হাজার ১৬০ ভোট। তবে আপিল বিভাগের স্থগিতাদেশের কারণে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরও দীর্ঘদিন সরকারি গেজেট প্রকাশ ও শপথ গ্রহণ আটকে ছিল।

পরে ৯ জুলাই হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন। ওই রায়ের পর নির্বাচন কমিশন ফটিকছড়ি আসনের ফলাফলের সরকারি গেজেট প্রকাশ করে। একই দিন সন্ধ্যায় তিনি জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন।

শপথ নেওয়ার পর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আবারও আপিল বিভাগে আবেদন করে সরোয়ার আলমগীরের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন ও সংসদীয় কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ওপর স্থগিতাদেশ চান। তবে ২৯ জুলাই আপিল বিভাগ সেই আবেদন খারিজ করে জানিয়ে দেন, সংসদ সদস্য হিসেবে সরোয়ার আলমগীরের দায়িত্ব পালনে আপাতত কোনো আইনি বাধা নেই।

এমআর/এসএএস