গত বছরের মতো এবারও ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালিতে প্রবেশের চেষ্টাকারী দেশের তালিকায় প্রথম অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। গত কয়েক বছর ধরেই এই তালিকায় এই শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। তবে ২০২৬ সালে এসে ইতালির পাশাপাশি সাগরপথে গ্রীসে প্রবেশের তালিকাতেও এখন শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ, যা নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে।
এ বছরের মার্চে লিবিয়া থেকে গ্রীসে যাওয়ার পথে অন্তত ১৮ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়, তাদের ১২ জনই সুনামগঞ্জের। ২১ মার্চ লিবিয়ার তোবরুক থেকে ইউরোপের স্বপ্নে বিভোর বাংলাদেশিদের নিয়ে রওনা হয় একটি নৌকা। দিক হারিয়ে ছয় দিন খাদ্য ও পানিশূন্য অবস্থায় ভেসে ছিল নৌকাটি। পরে পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। এরপরও এমন মৃত্যুযাত্রা থামেনি।
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে এভাবে ইতালি ও গ্রীসে প্রবেশ করতে গিয়ে লিবিয়ার বিভিন্ন ক্যাম্পে বন্দি থেকে অসংখ্য বাংলাদেশি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তাদের জিম্মি করে পরিবারের কাছ থেকে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়েছে। এত কিছুর পরও ইউরোপের স্বপ্নে লিবিয়া যাওয়ার এই প্রবণতা থামছে না।
ইউরোপের সীমান্তরক্ষী বাহিনী ফ্রন্টেক্সের তথ্যের বরাত দিয়ে ব্র্যাক জানিয়েছে, ২০২৫ সালে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ২০ হাজার ২৫৯ জন বাংলাদেশি ইউরোপে প্রবেশ করেছেন। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই ৪ হাজার ২৪৯ জন বাংলাদেশি একইপথে ইতালি প্রবেশ করেছেন। একই সময়ে লিবিয়া থেকে সাগরপথে গ্রীসে গেছেন ৩ হাজার ৬০৮ জন বাংলাদেশি।
বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম বলছে, এভাবে যারা ইউরোপে যাচ্ছে, তাদের বেশিরভাগের বয়স ২৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। মাদারীপুর, শরীয়তপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জসহ বাংলাদেশের অন্তত ১০-১২টি জেলার মানুষ এভাবে ইউরোপে যেতে মরিয়া। এসব ক্ষেত্রে এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতারিত বা নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা দেশে ফিরে মামলা করলেও মূল আসামিরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মানবপাচারসংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মানবপাচার আইনে ১ হাজার ১২৬টি নতুন মামলা হয়েছে। পুরোনো মামলাসহ ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ২৮৪টি মামলা ঝুলে আছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩০৬টি মামলা বিচারাধীন এবং ১ হাজার ৯৭৮টি মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। পুলিশ ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ এসব মামলার তদন্ত করছে।
অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচারের এই পরিস্থিতির মধ্যেই গত কয়েক বছরে নতুন এক সংকট হয়ে উঠেছে সাইবার স্ক্যাম। মানবপাচার ও অনিয়মিত অভিবাসনে যেমন তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে, তেমনি বাংলাদেশের অনেক মানুষ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে গিয়ে সাইবার স্ক্যামের শিকার হচ্ছেন। ব্র্যাকের এক গবেষণা বলছে, বিদেশে চাকরির কথা বলে নেওয়া হলেও তাদের ৯৮ শতাংশ কোনো চাকরি পাননি। বরং তাদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে ৯০ শতাংশকে বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতিমূলক কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। কেউ এতে রাজি না হলে ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
এমন পরিস্থিতিতে আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) পালিত হবে আন্তর্জাতিক মানব পাচারবিরোধী দিবস। ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৩০ জুলাইকে আন্তর্জাতিক মানব পাচারবিরোধী দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় "প্রতারণার ফাঁদে বন্দি"।
প্রতারণার ফাঁদ, চাকরির প্রলোভন থেকে সাইবার দাসত্ব
লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপে যাওয়া কিংবা সাইবার স্ক্যামের ঘটনায় এখন পাচারকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রযুক্তির সহায়তা নিচ্ছে। ইউরোপে যাওয়ার জন্য হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামে বিভিন্ন গ্রুপ খোলা হচ্ছে। আবার শতাধিক ফেসবুক গ্রুপে সাগরপথে ইতালিতে পৌঁছানো নৌকার ছবি ও যোগাযোগ নম্বর দিয়ে অন্যদের প্রলুব্ধ করা হচ্ছে। অন্যদিকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে চাকরির নানা প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। শুধু প্রলোভন বা প্রতারণা নয়, জোর করে বন্দি করে অনেককে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ ধরনের অপরাধকেন্দ্রকে বলা হচ্ছে স্ক্যাম সেন্টার। এসব সেন্টারে নতুন ধরনের এক দাসত্ব তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে গত দেড় বছরে অনেক তরুণ-তরুণী বৈধ চাকরির আশায় কম্বোডিয়া কিংবা মিয়ানমারের এসব সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে আটকা পড়েছেন। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, গত দেড় বছরে ১৫ হাজার ৯২১ জন বাংলাদেশি কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে কম্বোডিয়ায় গেছেন। কিন্তু তাদের অধিকাংশই কোনো চাকরি পাননি। অনেককে স্ক্যাম সেন্টারে বন্দি করে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কাজে যুক্ত করা হয়েছে। কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানের ফলে এ বছরের জুন মাসেই সেখান থেকে ৫৮৩ জন বাংলাদেশি ভুক্তভোগী দেশে ফিরেছেন। তাদের অধিকাংশের বয়স ১৮ থেকে ৩৪ বছরের মধ্যে।
ফিরে আসা ব্যক্তিদের ৯৮ শতাংশ জানিয়েছেন, তাদের চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তারা কোনো চাকরি পাননি। ৯০ শতাংশ বলেছেন, জোর করে প্রতারণা বা স্ক্যামের কাজে তাদের যুক্ত করা হয়েছিল। ৮৮ শতাংশ জানিয়েছেন, তাদের চলাফেরার স্বাধীনতা ছিল না। ৮৬ শতাংশের পাসপোর্ট ও কাগজপত্র কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ২৭ শতাংশ ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং ৩৮ শতাংশ মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
ফিরে আসা বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, একদলকে বিএমইটির ছাড়পত্র নিয়ে এবং আরেকদলকে ভ্রমণ ভিসায় কম্বোডিয়ায় নেওয়া হয়েছিল। এরপর সেখানে থাকা কিছু বাংলাদেশি নাগরিক তাদের চীনা-নিয়ন্ত্রিত স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করে দেন। এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার পরিচয় ছিল না আমার নাম; আমার পরিচয় ছিল একটি কোড। তিনি জানান, বৈধ কাগজপত্র নিয়ে বিদেশে রওনা হওয়ার আগে তাকে একটি কোডওয়ার্ড মুখস্থ করিয়ে দেওয়া হয় এবং বলা হয়, ইমিগ্রেশনে নিজের নাম নয়, সেই কোড বলতে হবে। পরে তিনি বুঝতে পারেন, এটি ছিল সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যদের মধ্যে সমন্বয়ের একটি গোপন সংকেত।
এক ভুক্তভোগী জানান, একটি রিক্রুটিং এজেন্সি ও দালাল চক্র তাকে কম্বোডিয়ায় একটি প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরির প্রতিশ্রুতি দেয়। এ জন্য তার কাছ থেকে ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয় এবং বিএমইটির ছাড়পত্রও সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু কম্বোডিয়ায় পৌঁছে তিনি মাত্র এক মাসের ভিজিট ভিসা পান। বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রহণ করে বাংলাদেশি দালালরা। পরে আর কোনো বৈধ কর্মভিসা দেওয়া হয়নি। বরং টাকার বিনিময়ে তাকে একটি সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ডে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
আরেক ভুক্তভোগী জানান, তাদের দিয়ে বিদেশি নাগরিকদের লক্ষ্য করে অনলাইনে প্রতারণা করতে বাধ্য করা হতো। নির্ধারিত টার্গেট পূরণ করতে না পারলে মারধর, শারীরিক নির্যাতন এবং বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হতো। স্ক্যাম কম্পাউন্ডের ভেতরেই নির্যাতনের জন্য আলাদা টর্চার সেল ছিল। সম্প্রতি কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে স্ক্যাম চক্রের সদস্যরা পালিয়ে গেলে সেখান থেকে তারা মুক্তি পান।
এর আগে, চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি মিয়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে আটজন এবং ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আরও ১৮ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছিলেন। তাদেরও ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে থাইল্যান্ড সীমান্ত হয়ে মিয়ানমারে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক সাইবার প্রতারণার কাজে নিয়োজিত করা হয়।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, সাইবার স্ক্যাম এখন মানবপাচারের ভয়াবহ এক রূপ। কম্পিউটার অপারেটর, কল সেন্টার এক্সিকিউটিভ, কাস্টমার সার্ভিসসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় পদের চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে ভূয়া ওয়েবসাইট, ই-মেইল, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মাধ্যমে নিয়োগের প্রলোভন দেখানো হয়। পরে চাকরিপ্রার্থীদের স্ক্যাম কম্পাউন্ডে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে অনলাইন প্রতারণার কাজে বাধ্য করা হয়। কেউ রাজি না হলে বা নির্ধারিত টার্গেট পূরণে ব্যর্থ হলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। এ কারণে থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার, লাওস ও ভিয়েতনামে চাকরির উদ্দেশ্যে যাওয়ার আগে চাকরির সত্যতা, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এবং ভিসার ধরন সম্পর্কে ভালোভাবে যাচাই করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তথ্য নিশ্চিত করা জরুরি।
ব্র্যাক জানিয়েছে, এর আগে এ বছরের ২২ জানুয়ারি মিয়ানমারের একটি সাইবার স্ক্যাম সেন্টার থেকে আটজন এবং ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছিলেন। তাদেরও ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে থাইল্যান্ডের সীমান্তবর্তী মায়াওয়াডি এলাকা হয়ে জোরপূর্বক মিয়ানমারে প্রবেশ করানো হয়েছিল। সেখানে পৌঁছানোর পরই তাদের পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে বিদেশের মাটিতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়।
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার শীর্ষে বাংলাদেশিরা, লিবিয়ায় ভয়াবহ নির্যাতন
ইউরোপের সীমান্তরক্ষী বাহিনীগুলোর সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ফ্রন্টেক্সের তথ্য অনুযায়ী, লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টাকারীদের মধ্যে বাংলাদেশিরাই সবচেয়ে বেশি। এই পথটি সেন্ট্রাল মেডিটেরেনিয়ান রুট নামে পরিচিত। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এই পথে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার বাংলাদেশি ইউরোপে প্রবেশ করেছেন। এভাবে প্রবেশ করতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। পাশাপাশি ইতালি বা গ্রীসে পৌঁছানোর পথে নির্যাতন, জিম্মি করে অর্থ আদায় এবং মানবেতর পরিস্থিতিতে আটকে রাখার ঘটনাও নিয়মিত ঘটছে। অনেকেই শেষ পর্যন্ত লিবিয়ায় আটক হয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন। গত ছয় বছরে প্রায় ১৫ হাজার বাংলাদেশিকে এভাবে লিবিয়া থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
ব্র্যাকের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ইতালি বা গ্রীসে যাওয়ার চেষ্টা করা বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ ও কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা। যাত্রাপথ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ঢাকা থেকে মিসর, দুবাই বা তুরস্ক হয়ে সবচেয়ে বেশি মানুষ লিবিয়ায় গেছেন। ভালো চাকরির প্রলোভন দেখানো হলেও ৭৫ শতাংশ কোনো চাকরি বা কাজ পাননি। উল্টো তাদের বন্দিদশায় থাকতে হয়েছে। এর মধ্যে ৯৩ শতাংশ ক্যাম্পে বন্দি ছিলেন এবং ৭৯ শতাংশ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর ৬৯ শতাংশ মুক্তভাবে চলাফেরার স্বাধীনতা হারিয়েছেন। অধিকাংশই পর্যাপ্ত খাবারও পাননি। এত কিছুর পরও ইউরোপের স্বপ্নে লিবিয়া যাওয়ার এই প্রবণতা থামছে না।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, গত কয়েক বছর ধরে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশিরা শীর্ষে রয়েছে। এবার গ্রীসে যাওয়ার দিক থেকেও বাংলাদেশ প্রথম। এভাবে ইতালি বা গ্রীসে যাওয়ার পথে অনেক প্রাণহানি ঘটছে। পাশাপাশি লিবিয়ায় বহু মানুষ ভয়াবহ নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন। ক্যাম্পে বন্দি রেখে তাদের নির্যাতন করা হয় এবং পরে পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়। বিদেশে কাজ বা শ্রম অভিবাসনের নামে এই মানবপাচার অত্যন্ত ভয়াবহ সমস্যা। পাচারকারীরা এখন তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করছে, কিন্তু সেই তুলনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পিছিয়ে রয়েছে। আবার পাচারসংক্রান্ত মামলাগুলোরও যথাযথ বিচার হচ্ছে না। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে বাংলাদেশিরা
বাংলাদেশ থেকে শুধু সাগরপথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা বা সাইবার স্ক্যামের শিকার হওয়ার ঘটনাই ঘটছে না; কাজের প্রলোভন দেখিয়ে অনেক বাংলাদেশিকে রাশিয়ায় নিয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। আবার কেউ কেউ স্বেচ্ছায়ও সেখানে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। রাশিয়ায় যুদ্ধে আহত কয়েকজন বাংলাদেশি উদ্ধারের জন্য ব্র্যাকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। একই সঙ্গে রাশিয়া থেকে স্বজনদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্যও একাধিক আবেদন এসেছে ব্র্যাকের কাছে।
পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশে থাকা কিছু এজেন্সি ও দালাল চক্র নিরাপত্তারক্ষী, নির্মাণশ্রমিক, ওয়েল্ডার, পরিচ্ছন্নতাকর্মী বা কারখানার চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে ৮ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করে বৈধ ভিসায় রাশিয়ায় নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের রুশ ভাষায় লেখা বিভিন্ন নথিতে স্বাক্ষর করানো হয়, যার অর্থ তারা বুঝতে পারেন না। এরপর কয়েক সপ্তাহের সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে সরাসরি ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক তরুণের পরিবার জানিয়েছে, তাকে ওয়েল্ডারের চাকরির কথা বলে রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয় এবং পরে পরিবারের কাছে তার মৃত্যুর খবর আসে।
২০২২ সালে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া ক্রমাগত নতুন সৈন্য সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। উন্নত জীবনের স্বপ্ন, ইউরোপে কাজের প্রলোভন কিংবা রাশিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির আশ্বাসে যেমন অনেক বাংলাদেশি সেখানে গেছেন, তেমনি আবার কাজের কথা বলে নিয়ে গিয়ে কাজ না দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগও উঠেছে। মানবাধিকার সংস্থা ফোর্টিফাই রাইটস এবং ইউক্রেনভিত্তিক ট্রুথ হাউন্ডস-এর যৌথ তদন্তেও এসব অভিযোগ উঠে এসেছে। এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে প্রায় অর্ধশত বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভারত, কেনিয়া এবং বিভিন্ন আফ্রিকান দেশের নাগরিকদেরও একই কৌশলে রাশিয়ার যুদ্ধে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে জাতিসংঘের একটি বিশেষ তদন্ত কমিটিও তদন্ত শুরু করেছে।
কাজের নামে বাড়ছে নারী পাচার
বিদেশে পোশাক কারখানা, গৃহকর্মী বা বিউটি পার্লারে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে অনেক নারীকে জোরপূর্বক ডান্স ক্লাব ও যৌন ব্যবসায় যুক্ত করার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে দুবাই ও মালয়েশিয়ায় ভ্রমণ ভিসায় নারী পাঠিয়ে এ ধরনের প্রতারণার ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। গৃহকর্মী হিসেবে সৌদি আরবে পাঠানোর পরও অনেক নারীকে জোরপূর্বক অনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার অভিযোগ রয়েছে। এমনই একজন লিজা আক্তার।
ছোটবেলায় বাবা-মাকে হারান পটুয়াখালীর লিজা আক্তার। বিয়ের পর স্বামী তাকে ছেড়ে চলে যান। দুই সন্তানের ভবিষ্যতের আশায় প্রায় দুই বছর আগে তিনি সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে চারবার হাতবদল ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার হন। ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় এ বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরে আসেন তিনি। এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন তাকে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামে পাঠায়। সম্প্রতি তিনি একটি সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। সেই সন্তানের ভবিষ্যৎ ও নিজের জীবন নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে লিজার।
দিলরুবা আক্তার নামে এক ভুক্তভোগী জানান, গৃহকর্মীর কাজের প্রলোভনে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়ে তিনি মানবপাচারের শিকার হন। সেখানে তাকে একটি ক্লাবে আটকে রেখে জোরপূর্বক যৌনপেশায় যুক্ত করা হয়। আট মাস ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হলেও তিনি কোনো বেতন পাননি। পরে কৌশলে সেখান থেকে বের হতে পারলেও মিথ্যা অভিযোগে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
নারায়ণগঞ্জের বিধবা সাহারা বেগম তার ১৭ বছর বয়সী মেয়ে জান্নাতকে দুবাইয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজের প্রলোভনে বিদেশে পাঠান। সেখানে গিয়ে জান্নাত নির্যাতন ও জোরপূর্বক শোষণের শিকার হয়। মেয়ের ফোন পেয়ে সাহারা বেগম থানায় অভিযোগ করেন এবং পরে ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারের সহায়তা নেন। র্যাব অভিযুক্ত দালালদের গ্রেপ্তার করলেও নানা চাপের কারণে মামলাটি জটিল হয়ে পড়ে। বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং জান্নাত ন্যায়ের প্রত্যাশায় লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
নোয়াখালীর পহেলী আক্তার পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করার আশায় বিদেশে কাজ করতে যান। তাকে দুবাইয়ের একটি বিউটি পার্লারে চাকরির প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তার পাসপোর্ট ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং তাকে নাইটক্লাবে কাজ করতে বাধ্য করা হয়। অমানবিক নির্যাতনের মধ্যে প্রায় নয় মাস বন্দিদশায় থাকার পর পরিবারের উদ্যোগে ব্র্যাকের সহায়তায় তিনি দেশে ফিরতে সক্ষম হন। দেশে ফিরে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে মানব পাচার আইনে মামলা করলে পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।
বঙ্গোপসাগর দিয়ে মানবপাচারের শিকার রোহিঙ্গারা, সঙ্গে আছে বাংলাদেশিরাও
বাংলাদেশ থেকে সাগরপথে রোহিঙ্গাদের পাচারও থেমে নেই। ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত এই চার বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় সোয়া লাখ মানুষ পাচারের শিকার হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন রোহিঙ্গা। সে সময় মালয়েশিয়ার সীমান্তবর্তী থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার জঙ্গলে একাধিক গণকবরের সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর প্রায় দুই বছর মানবপাচারের প্রবণতা কিছুটা কমে আসে। কিন্তু ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর আবারও মানবপাচারের প্রবণতা বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ে ও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এখন রোহিঙ্গাদের সমুদ্র উপকূল দিয়ে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হচ্ছে। একইভাবে বাংলাদেশিদেরও কাজের প্রলোভন দেখিয়ে মালয়েশিয়ায় পাচার করা হচ্ছে। গত আট বছরে কক্সবাজার উপকূল দিয়ে মালয়েশিয়াগামী সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের বড় অংশই রোহিঙ্গা। এসব ঘটনায় শতাধিক মামলা দায়ের হলেও পাচার বন্ধ হয়নি। বরং মানবপাচারের জন্য লোক সংগ্রহের উদ্দেশ্যে টেকনাফে নিয়মিত অপহরণের ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মানবপাচারের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মধ্যে রয়েছে হোয়াইক্যং, হ্নীলা, মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া, টেকনাফ সদর এবং সাবরাংয়ের শাহপরীর দ্বীপ গ্রাম। গত তিন বছরে টেকনাফে অন্তত তিন শতাধিক মানুষ অপহরণের শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি বাংলাদেশিরাও রয়েছেন। অনেকে মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসতে পারলেও পরে মানবপাচারের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অপহরণের পর সাগরপথে মানবপাচারের শিকারদের একজন টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের কচুবনিয়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ সাবের (৩২)। একসময় মাছ শিকার করেই চলত তার সংসার। কিন্তু চার বছর আগে অপহরণকারীদের হাতে জিম্মি হওয়ার পর তার জীবন বদলে যায়। সাবের বলেন, হাত-পা বেঁধে চোখ ঢেকে আমাকে শামলাপুরের একটি পাহাড়ি আস্তানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিন দিন আটকে রেখে মুক্তিপণের জন্য অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে মেরিন ড্রাইভ উপকূল থেকে ছোট নৌকায় করে গভীর সাগরে নিয়ে একটি বড় ট্রলারে তোলা হয়। সেখানে প্রায় ৩০০ মানুষ গাদাগাদি করে ছিল। এরপর মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড হয়ে মালয়েশিয়ায় নেওয়া হয়।
চার বছর পর, ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর দেশে ফেরেন সাবের। তবে নির্যাতনের আঘাতে তার মাথা ও চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন আগের মতো কাজ করতে পারেন না। কষ্টে চলছে তার সংসার।
প্রতি বছর লক্ষাধিক বাংলাদেশি ফিরছে শূন্য হাতে, হয়েছে নতুন আইন, তবু বিচার মিলছে না মানবপাচারের মামলায়
বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর কতো মানুষ মানবাপাচার বা অভিবাসী চোরাচালানের শিকার হন তার সঠিক পরিসংখ্যান নেই। তবে প্রতিবছর ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৮০ থেকে ৯০ হাজার মানুষ বিভিন্ন জেলখানা বা বন্দিশালা থেকে ডিপোর্টি হিসেবে ফিরছে। ২০০৮ থেকে ২০২৫ সময়ে এভাবে সাড়ে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ফিরেছে। এছাড়া সাগরপথে বিদেশে যাওয়ার সময় অনেকে প্রাণ হারান। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের জেলখানায় বন্দি আছেন আরও অনেকে।
২০১২ সালে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমনে সরকার আইন প্রণয়ন করার পর থেকে মানবপাচার আইনে নিয়মিত মামলা হলেও অধিকাংশ মামলার বিচার শেষ হচ্ছে না। আবার যেসব মামলার বিচার শেষ হচ্ছে, সেসব ক্ষেত্রেও অনেক আসামি খালাস পেয়ে যাচ্ছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মানবপাচারসংক্রান্ত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত মোট ৫ হাজার ২৮৪টি মামলা ঝুলে আছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৯৭৮টি মামলা এখনো তদন্তাধীন এবং ৩ হাজার ৩০৬টি মামলা বিচারাধীন। এ বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জানুয়ারিতে নতুন করে ৭১টি, ফেব্রুয়ারিতে ৬৬টি, মার্চে ১১০টি, এপ্রিলে ১৩০টি এবং মে মাসে ১২৩টি মামলা হয়েছে। এই সময়ে মাত্র ১৭টি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। ২০২৫ সালে বা চলতি বছর এখন পর্যন্ত কোনো মামলায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির তথ্য পাওয়া যায়নি; অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আসামিরা খালাস পেয়েছেন।
এদিকে মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে সরকার 'মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬' প্রণয়ন করেছে। নতুন আইনে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে অভিবাসী চোরাচালান'-সংক্রান্ত অপরাধকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এই আইনেও একক ও সংঘবদ্ধ মানবপাচারের ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও মৃত্যুদণ্ডের সর্বোচ্চ শাস্তি বহাল রাখা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন আইনটি মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান-সংক্রান্ত অপরাধের মামলা সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে এবং যৌন শোষণ, জোরপূর্বক শ্রম, অপরাধমূলক শোষণ, দাসত্বসহ অন্যান্য গুরুতর পাচারের শিকার ব্যক্তিদের জন্য আরও কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের আইন কাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে ভূমিকা রাখবে।
তবে শুধু আইন করলেই হবে না, এর কার্যকর বাস্তবায়নও জরুরি বলে মনে করেন ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান। তিনি বলেন, মানবপাচার বা অভিবাসী চোরাচালানের মতো অপরাধ দমন করতে হলে শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। সাধারণ মানুষের সচেতনতাও অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর মানবপাচার ও সাইবার স্ক্যামের ক্ষেত্রে সচেতনতা আরও বেশি প্রয়োজন। মানবপাচারের ঘটনায় মূল অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং পাচারের সঙ্গে জড়িতদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মানবপাচারপ্রবণ জেলাগুলোতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। বর্তমানে বিদেশে কাজের প্রলোভন দেখিয়ে পাচারের ঘটনা বাড়ছে। এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে সমন্বিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো একসঙ্গে কাজ করলে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সহজ হবে। তবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের দৃঢ় অঙ্গীকার ছাড়া মানবপাচার, অর্থ পাচার ও মাদকের মতো আন্তঃসম্পর্কিত অপরাধ নির্মূল করা কঠিন।
এনআই/এনটি
