জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্বজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এ সময় তিনি তাদের অভাব-অভিযোগ, পারিবারিক সমস্যা ও বর্তমান অবস্থার কথা শোনেন এবং যেকোনো প্রয়োজনে জেলা প্রশাসনের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
বুধবার (২৯ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদ পরিবারের সদস্যদের উপহার সামগ্রী দেওয়া হয়।
সভায় জেলা প্রশাসক প্রতিটি পরিবারের সদস্যের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন। স্বজন হারানোর পর তাদের সংসার কীভাবে চলছে, সন্তানদের পড়াশোনা, আর্থিক অবস্থা, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য সমস্যা সম্পর্কে খোঁজ নেন। পাশাপাশি কোনো সমস্যায় পড়লে সরাসরি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
মতবিনিময় শেষে অধিকাংশ পরিবার চলে গেলেও জেলা প্রশাসক কার্যালয় ত্যাগ করেননি। চট্টগ্রামের প্রথম এবং দেশের দ্বিতীয় জুলাই শহীদ হিসেবে পরিচিত ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামের বোন সাবরিনা ইয়াসমিন সোমা নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পরে সেখানে পৌঁছান। ততক্ষণে মূল আয়োজন শেষ হয়ে গেলেও জেলা প্রশাসক তার জন্য অপেক্ষা করেন। পরে নিজ কার্যালয়ে তাকে স্বাগত জানিয়ে পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নেন।
সাবরিনা ইয়াসমিন সোমা বলেন, তিনি নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে পৌঁছেছিলেন। কিন্তু জেলা প্রশাসক তার জন্য অপেক্ষা করেছেন। পরে তার সঙ্গে কথা বলে পরিবারের সবার খোঁজখবর নিয়েছেন এবং যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
মতবিনিময়ে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ঈদগাহ বউবাজার এলাকার শহীদ আলমের স্ত্রী নয়ন বেগম। জেলা প্রশাসক তার সংসারের বর্তমান অবস্থা, সন্তানদের লেখাপড়া এবং পরিবারের কোনো বিশেষ সমস্যা রয়েছে কি না, তা জানতে চান।
ঈদগাহ ঝরনাপাড়া এলাকার শহীদ ইউসুফের স্ত্রী সাজেদা আক্তারের সঙ্গেও কথা বলেন জেলা প্রশাসক। স্বামীকে হারানোর পর সংসার পরিচালনা, সন্তানদের পড়াশোনা এবং পরিবারের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নেন তিনি।
সাজেদা আক্তার বলেন, জেলা প্রশাসক তাদের বর্তমান অবস্থা জানতে চেয়েছেন। কোনো সমস্যায় পড়লে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছেন। পাশাপাশি পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন।
লোহাগাড়ার আমিরাবাদ এলাকার শহীদ ইশমামুল হকের ভাই মুহিবুল হক পরিবারের নিরাপত্তাহীনতাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা জেলা প্রশাসকের কাছে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তারা খোলামেলাভাবে নিজেদের সমস্যার কথা বলতে পেরেছেন। জেলা প্রশাসক মনোযোগ দিয়ে সব কথা শুনেছেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
চকবাজার-বাকলিয়া এলাকার শহীদ শহীদুল ইসলামের স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগমও পরিবারের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক তাদের সব কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
এ ছাড়া মতবিনিময়ে উপস্থিত ছিলেন শহীদ ওমর বিন নুরুল আবছারের মা রুবি আক্তার, শহীদ মাহামদুর রহমান সৈকতের চাচা আমজাদ হোসেন, শহীদ জামালের স্ত্রী তসলিমা বেগম এবং শহীদ মাহিনের মা রহিমা। তারা পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা, নিরাপত্তা, সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা সমস্যার কথা জেলা প্রশাসকের কাছে তুলে ধরেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, জুলাই শহীদদের পরিবারের সদস্যরা কোনোভাবেই একা নন। জেলা প্রশাসন সবসময় তাদের পাশে থাকবে। যেকোনো সমস্যা বা জরুরি প্রয়োজন দেখা দিলে তারা যেন সরাসরি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
এনটি
