বিজ্ঞাপন

২ লাখ ৫৮ হাজার পরিবারের ভাগ্যবদল করবে পিকেএসএফ

২ লাখ ৫৮ হাজার পরিবারের ভাগ্যবদল করবে পিকেএসএফ

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা, নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং পরিবেশবান্ধব উদ্যোক্তা উন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে গ্রোথ ফর ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল এন্টারপ্রাইজশিপ অ্যান্ড নিউট্রিশন (গ্রিন) প্রকল্পের উদ্বোধন করেছে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। এ প্রকল্পের আওতায় দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর প্রায় ২ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি পরিবার প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর ঢাকায় পিকেএসএফ ভবনে আয়োজিত এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্পটির সূচনা ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ফজলুল কাদের। আয়োজনের শুরুতে গ্রিন প্রকল্প গ্রহণের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আকন্দ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম। 

পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ও কাজের পরিধি নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা দেন উপ-মহাব্যবস্থাপক ও প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. হাবিবুর রহমান। এছাড়া পিকেএসএফের অন্যান্য কার্যক্রম ও কৌশলগত দিক নিয়ে আলোচনা করেন সংস্থাটির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক একিউএম গোলাম মাওলা, মো. মশিয়ার রহমান এবং মুহম্মদ হাসান খালেদ।

পিকেএসএফ জানায়, এ বৃহৎ প্রকল্পের আওতায় দেশের হাওর, উপকূলীয় এলাকা, বরেন্দ্র অঞ্চল ও চরাঞ্চলসহ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর প্রায় ২ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি পরিবার প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবে। জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী, নারী, যুব, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, সামাজিকভাবে প্রান্তিক মানুষ এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকল্পটি সাজানো হয়েছে। 

এটি মূলত জলবায়ু-সহনশীল খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা, সবুজ প্রযুক্তির প্রসার, টেকসই উদ্যোক্তা উন্নয়ন, অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক সেবা নিশ্চিতকরণ এবং পিকেএসএফের সহযোগী সংস্থাসমূহের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদারে সমন্বিতভাবে কাজ করবে।

প্রকল্পের আর্থিক রূপরেখার বিষয়ে পিকেএসএফ জানায়, ২০২৬ সাল থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত এ মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য এ প্রকল্পে মোট ২১১.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হবে। এ বৃহৎ তহবিলের একটি বড় অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ) দেবে ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাকি প্রয়োজনীয় অর্থ পিকেএসএফ এবং তাদের সহযোগী সংস্থাসমূহ নিজস্ব খাত থেকে যোগান দেবে। এ যৌথ বিনিয়োগ দেশের জলবায়ু-সহনশীল কৃষি খাত, পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ ও পুষ্টি মান উন্নয়নে বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পিকেএসএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের প্রচলিত ক্ষুদ্রঋণের সীমা পেরিয়ে প্রবৃদ্ধিনির্ভর অর্থায়নের ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, গ্রিন প্রকল্পের মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোগ খাতকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তিতে রূপান্তরিত করতে পিকেএসএফ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ডিজিটাল ফাইন্যান্সিং, অ্যাগ্রো-ইকোলজিক্যাল কৃষি, কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোগ, স্থানীয় পর্যায়ে অ্যাগ্রো-প্রসেসিং ও প্রাথমিক কৃষি পণ্যের সঙ্গে মূল্য সংযোজন, নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থা, সৌরশক্তির বহুমুখী ব্যবহার এবং সার্কুলার ইকোনমির প্রসারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি ও ব্লু ইকোনমির অফুরন্ত সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

উন্মুক্ত আলোচনায় সহযোগী সংস্থাসমূহের নির্বাহী প্রধান ও প্রতিনিধিরা মাঠপর্যায়ের নানা দূরদর্শী প্রস্তাব তুলে ধরেন। প্রতিনিধিরা উপকূলীয় অঞ্চলের নারীদের হস্তশিল্প ও কুটির শিল্পভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও সরাসরি বাজার-সংযোগ ঘটিয়ে দেওয়া, শিল্প দূষণ ও কার্বন নিঃসরণ মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সমাধান গ্রহণ, হাওরাঞ্চলের কৃষকদের সুরক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা চালু এবং জলবায়ু ঝুঁকি কমাতে কৃষকদের জন্য উপযোগী বিমা ও বিশেষ ঝুঁকি তহবিল গঠনের জোর সুপারিশ জানান।

এসআর/আরএফ

বিজ্ঞাপন