বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় আগামী বছর (২০২৭ সাল) হজ পালনে ৩টি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’- এই তিনটি ধাপ নির্ধারণ করলেও এজেন্সিগুলো তাদের ব্যবসার স্বার্থে আরও কয়েকটি ধাপ যুক্ত করেছে। তবে সবচেয়ে সাশ্রয়ী প্যাকেজে-৩ বা ‘সি’ নির্ধারণে প্রায় সবগুলো এজেন্সি সর্বোচ্চ ৫ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছে। যদিও সরকার এই প্যাকেজটি ৫ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৫ টাকায় নির্ধারণ করেছে।
এ ছাড়া, প্যাকেজ-২ বা ‘বি’ এর জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৫৮০ টাকা। আর প্যাকেজ-১ বা ‘এ’ এর জন্য ৭ লাখ ৯১ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। তবে, অনেকগুলো এজেন্সি এর বাইরে ‘এ+’ বা ‘বি+’ যুক্ত করে প্যাকেজের সংখ্যা বাড়িয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। প্লাসযুক্ত এসব প্যাকেজে বাড়তি কিছু সুবিধা যুক্ত করে নির্ধারিত ফিও বাড়িয়ে প্রস্তাব করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাজধানীর চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হওয়া তিন দিনব্যাপী (৩০ জুলাই থেকে ১ আগস্ট) ‘জাতীয় পর্যায়ে হজ ও ওমরা ফেয়ার ২০২৬’-এ হজ এজেন্সিগুলোর স্টল ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। এই মেলায় ১৫৪টি স্টল বসেছে।
মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা গেছে, মেলা উপলক্ষ্যে প্রায় সবগুলো এজেন্সির পক্ষ থেকে বিশেষ ছাড় রাখা হয়েছে। কোনো কোনো এজেন্সি প্যাকেজে সেবার মান বাড়িয়ে প্রস্তাব করছে। আর কোনোটি বিশেষ ছাড় হিসেবে ওমরাহ ভিসা ফ্রি দেওয়ার প্রস্তাব করছে। কোনো কোনো এজেন্সি আবার হজ সামগ্রিক ফ্রি দেওয়ার অফার করছে।
মেলায় হজ প্যাকেজের পাশাপাশি অনেকগুলো এজেন্সি ওমরাহ প্যাকেজেও ছাড় নিয়ে এসেছে। এক্ষেত্রে বেশিরভাগ এজেন্সিকে ‘থার্ড ক্যারিয়ার’, ‘ডিরেক্ট’ ও ‘ভিআইপি’— এই তিনটি প্যাকেজ অফার করতে দেখা গেছে। এতে সর্বনিম্ন খরচ ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রস্তাব করা হচ্ছে। আর ওমরার জন্য ফ্লাইট সৌদিয়া, বিমান বাংলাদেশ ও ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সে টিকিট বুকিং দেওয়া হবে বলে জানানো হচ্ছে।
মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আজ প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেসরকারি বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, হজযাত্রীদের আবাসনের ক্ষেত্রে ‘ডি’ ক্যাটাগরির পরিবর্তে ‘সি’ ক্যাটাগরির সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। এতে হাজিরা তুলনামূলক উন্নত সুযোগ-সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে ‘ডি’ ক্যাটাগরির ভাড়ায় ‘সি’ ক্যাটাগরির সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়েও সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। অনেক মানুষ জমিজমা বিক্রি করে বা দীর্ঘদিন সঞ্চয় করে হজে যান। তাই তাদের আর্থিক চাপ কমাতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
তিনি বলেন, সামর্থ্যহীন মানুষের হজ পালনে সহায়তার জন্য প্রয়োজনে সরকারি ভর্তুকির বিষয়টিও বিবেচনা করা হতে পারে। এ নিয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
মানবিক মূল্যবোধ, ধর্মীয় চর্চা ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও মানবিক আচরণ ফিরিয়ে আনতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এক্ষেত্রে হজযাত্রী এবং হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ধর্মসচিব আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, হজ ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রতারণা হলে দায়ী এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হজে যারা যাবেন, তাদের মানবিক হতে হবে। একইসঙ্গে, যারা হজযাত্রীদের সেবায় নিয়োজিত থাকবেন, তাদেরও সহানুভূতিশীল আচরণ করতে হবে।
লাগেজ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগে এ বিষয়ে বাংলাদেশের কিছু করণীয় ছিল। এখন লাগেজ হ্যান্ডেলিংয়ের দায়িত্ব সৌদি আরবের একটি কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ওই কোম্পানি আবার ভারতের একটি প্রতিষ্ঠানকে এ দায়িত্ব দিয়েছে। ফলে এ বিষয়ে বাংলাদেশের সরাসরি কোনো ভূমিকা নেই।
সভাপতির বক্তব্যে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি ও দালাল নিরীহ মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদের হয়রানি করে। অনেককে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হোটেলে রাখা হয় না, প্রয়োজনীয় সেবাও দেওয়া হয় না। কোনো বৈধ এজেন্সি যদি হজযাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা করে, তাহলে হাব ও ধর্ম মন্ত্রণালয় যৌথভাবে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এমএমএইচ/এসএএস
