বিজ্ঞাপন

বাঁশখালীতে বন্যাদুর্গতদের টেকসই পুনর্বাসনে বাড়ি বাড়ি ডিসি জাহিদ

বাঁশখালীতে বন্যাদুর্গতদের টেকসই পুনর্বাসনে বাড়ি বাড়ি ডিসি জাহিদ

কারও মাটির ঘর পুরোপুরি ভেঙে গেছে, কারও ঘরের একাংশ এখনো কোনোভাবে দাঁড়িয়ে আছে। বিকল্প আশ্রয় না থাকায় সেই অর্ধভাঙা ও জরাজীর্ণ ঘরেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার।

তাদের টেকসই পুনর্বাসনের পরিকল্পনা করতে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বাড়ি বাড়ি গিয়ে ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বন্যাদুর্গত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের বর্তমান অবস্থা, প্রয়োজন ও প্রত্যাশার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর জন্য নিরাপদ ও টেকসই নতুন ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

সাম্প্রতিক বন্যায় বাহারছড়া ইউনিয়নের ওই দুটি ওয়ার্ডের অনেক বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টানা ৭ থেকে ১০ দিন পানি জমে থাকায় মাটির তৈরি ঘরগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে। অনেক ঘর সম্পূর্ণ ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। কোনো কোনো ঘরের দেয়াল ও ছাদের একাংশ এখনো দাঁড়িয়ে থাকলেও সেগুলো বসবাসের জন্য নিরাপদ নয়।

ক্ষয়ক্ষতি দেখে পুনর্বাসনের আশ্বাস জেলা প্রশাসকের | ছবি– সংগৃহীত

তবে বিকল্প আশ্রয়ের ব্যবস্থা না থাকায় কয়েকটি পরিবার ঝুঁকি নিয়ে সেসব অর্ধভাঙা ঘরেই বসবাস করছে। সামান্য বৃষ্টি বা ঝোড়ো বাতাসে ঘরগুলো ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি বাড়ির অবস্থা ঘুরে দেখেন। তিনি পরিবারের সদস্যসংখ্যা, তাদের বর্তমান আবাসন পরিস্থিতি এবং কী ধরনের ঘর প্রয়োজন- এসব বিষয়ে খোঁজ নেন। নতুন ঘরের আকার, নকশা ও নির্মাণসামগ্রী কেমন হলে পরিবারের সদস্যরা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে পারবেন, সে বিষয়েও তাঁদের মতামত জানতে চান।

শুধু ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেই পরিদর্শন শেষ করেননি জেলা প্রশাসক। পুনর্বাসন পরিকল্পনাকে বাস্তবসম্মত করতে স্থানীয় কাঠমিস্ত্রিদের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। 

নতুন ঘর নির্মাণে কী পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন হতে পারে, কোন ধরনের কাঠ ও অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করলে ঘর দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং কত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব, এসব বিষয়ে তাঁদের কাছ থেকে বিস্তারিত ধারণা নেন।

প্রস্তাবিত ঘরগুলো যাতে শুধু সাময়িক আশ্রয় না হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য নিরাপদ ও টেকসই আবাসন হয়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেন জেলা প্রশাসক। একই সঙ্গে নতুন ঘরের নকশা ও কাঠামো সংশ্লিষ্ট পরিবারের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে কি না, তা যাচাই করেন।

পুনর্বাসনের সার্বিক পরিকল্পনা নিয়ে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গেও আলোচনা করেন জেলা প্রশাসক। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা ও প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি যাচাই করে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশনা দেন তিনি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জরাজীর্ণ ও অর্ধভাঙা ঘরে বসবাস করা অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য নিরাপদ ও টেকসই নতুন ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পরিদর্শনের সময় চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিনসহ জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এএসএস/বিআরইউ