চট্টগ্রামের আনোয়ারা টানেল সংযোগ সড়কে বাসচাপায় হতাহতের ঘটনার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চরম অব্যবস্থাপনার চিত্র ফুটে উঠেছে। হাসপাতালে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত থাকলেও চালকের অনুপস্থিতির কারণে গুরুতর আহতদের দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়ায় প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স ও মাইক্রোবাস ভাড়া করে চরম দুর্ভোগ নিয়ে গন্তব্যে রওনা দিতে বাধ্য হন স্বজনেরা।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত আটটার দিকে আনোয়ারা টানেল সংযোগ চত্বরে একটি বেপরোয়া গতির যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পর পর ছয়টি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে অটোরিকশাগুলো দুমড়ে-মুচড়ে ঘটনাস্থলেই পলি দত্ত (৩৫) ও ইফা শীল (৪০) নামের দুই নারী নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন অন্তত ২১ জন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় ১৪ জনকে চমেক হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। তবে বিপত্তি বাধে তখনই। হাসপাতালের গ্যারেজে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স অক্ষত ও সচল অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকলেও জরুরি মুহূর্তে এর কোনো চালক উপস্থিত ছিলেন না।
গুরুতর আহত অটোরিকশাযাত্রী শাহাবুদ্দিনের ভাই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাসপাতালের ভেতরে অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি। কিন্তু চালক নেই! ভাইয়ের মাথা থেকে তখনো রক্ত ঝরছিল। পরে বাধ্য হয়ে দ্বিগুণ ভাড়ায় একটি প্রাইভেট হাইয়েস গাড়ি ঠিক করে চট্টগ্রাম রওনা হই।
আরেক আহত যাত্রী কাউছার আক্তারের স্বজনেরা জানান, যন্ত্রণায় ছটফট করা রোগীকে দ্রুত শহরে নিতে গিয়ে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকতে হয়। পরে বাধ্য হয়ে অন্য এক রোগীর স্বজনদের সাথে একই প্রাইভেট গাড়িতে গাদাগাদি করে চমেক হাসপাতালে পৌঁছান তারা।
জরুরি মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্স চালক রায়হানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে ঘটনাটি স্বীকার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, চালক না থাকার বিষয়টি আমি শুনেছি। তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুর্ঘটনার বিষয়ে আনোয়ারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জুয়েল মিয়া বলেন, দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাসটিকে জব্দ করা হয়েছে। নিহতদের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
আতিকুল হা-মীম/এনটি
