বিজ্ঞাপন

কাঁচামাল-এলসি জটিলতায় চট্টগ্রামে এস আলমের চিনিকল বন্ধ

কাঁচামাল-এলসি জটিলতায় চট্টগ্রামে এস আলমের চিনিকল বন্ধ

কাঁচামালের সংকট ও এলসি জটিলতায় চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় অবস্থিত এস. আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড বন্ধ হয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ইছানগর বাংলাবাজার এলাকায় অবস্থিত কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকেই শ্রমিক ও কর্মচারীদের চাকরি কার্যত শেষ হয়ে যায়।

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, কাঁচামালের সংকট, এলসি (লেটার অব ক্রেডিট) খুলতে জটিলতা এবং আর্থিক সংকটসহ বিভিন্ন কারণে কারখানাটি বন্ধ হয়ে গেছে। কারখানাটিতে ৩৮৩ জন শ্রমিক ও কর্মচারী কর্মরত ছিলেন।

এদিকে, শ্রমিকদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের বৈঠকে আগামী এক মাসের মধ্যে চাকরি হারানো শ্রমিকদের বকেয়া বেতন, ওভারটাইমসহ সব পাওনা একযোগে পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

কারখানার কর্মচারী মনির আহমেদ বলেন, শ্রমিকদের ভবিষ্যতের কথা না ভেবেই হঠাৎ করে কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে ৩৮৩ জন শ্রমিক ও কর্মচারী বেকার হয়ে পড়েছি। পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব, বুঝতে পারছি না। শুনেছি, কাঁচামালের অভাব ও আর্থিক সংকটের কারণেই কারখানাটি বন্ধ করা হয়েছে।

কারখানার আরেক শ্রমিক নজরুল বলেন, চাকরি হারিয়ে আমরা দিশেহারা। নতুন কোথাও চাকরির সুযোগ নেই। পরিবার নিয়ে মানবেতর অবস্থায় পড়েছি। এত শ্রমিককে একসঙ্গে বেকার করে দেওয়ায় আমাদের সামনে বড় সংকট তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এস আলম গ্রুপের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো গত কয়েক বছর ধরেই কাঁচামাল আমদানি, ব্যাংকিং সহযোগিতা এবং এলসি খোলার জটিলতায় ভুগছে। এসব কারণে এর আগেও গ্রুপটির চট্টগ্রামের একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়।

এর আগে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এস আলম গ্রুপের চিনি, ইস্পাত ও বিদ্যুৎসহ অন্তত ছয়টি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। তখনও কর্তৃপক্ষ কাঁচামাল আমদানিতে বাধা এবং ব্যাংকিং সংকটকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। এতে প্রায় ১০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী ক্ষতিগ্রস্ত হন।

স্থানীয়রা জানান, এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ দীর্ঘদিন ধরে কর্ণফুলী এলাকার অন্যতম বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল। কারখানাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শুধু শ্রমিকরাই নন, পরিবহন, সরবরাহ ও ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অনেক মানুষও আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

শ্রমিকরা দ্রুত কারখানাটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ গ্রহণ, বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের সব বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন।

এমএন