চট্টগ্রামের আনোয়ারায় বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ইফা শীল ও পলি দত্ত নামের দুই নারী শ্রমিক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছিলেন। ওই একই সিএনজিচালিত অটোরিকশার যাত্রী ছিলেন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা কাউসার আক্তার। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে শুক্রবার ভোরে মৃত এক পুত্রসন্তান প্রসব করেন তিনি। চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) এখনো জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে এই নারী শ্রমিক।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের ঝিওরি গ্রামে নিথর সেই নবজাতককে দাফন করা হয়। সন্তানকে মাটির নিচে শুইয়ে রেখেই শোকে পাথর হয়ে যাওয়া স্বামী মো. আরিফ দ্রুত ছুটে যান হাসপাতালের আইসিইউর বাইরে। সেখানে তখনো ফেরেনি কাউসারের জ্ঞান।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট বছর ধরে কোরিয়ান ইপিজেডের (কেইপিজেড) একটি কারখানায় পোশাক শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন কাউসার আক্তার। তাদের সংসারে মো. রাফি (১০) ও তাবাসসুম (৫) নামের দুটি সন্তান রয়েছে। মায়ের আকস্মিক এই পরিণতিতে শিশু দুটি এখন দিশেহারা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে কাউসারের শ্বশুর মো. নুরুন্নবী (৬০) বলেন, দুর্ঘটনায় আমার পুত্রবধূর মাথায় প্রচণ্ড আঘাত লেগেছে। এখনো তার জ্ঞান ফেরেনি। ছোট মেয়ে তাবাসসুম কিছুক্ষণ পরপর কান্নাকাটি করে মাকে খুঁজছে। পেটের সন্তান তো বাঁচানো গেল না, আমি শুধু চাই আমার বউমা যেন সুস্থ হয়ে সন্তানদের কোলে ফিরে আসে।
এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মজনু মিয়া জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে আনোয়ারা উপজেলার কর্ণফুলী টানেল সংযোগ সড়ক চত্বরে কেইপিজেডের শ্রমিকবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাঁচটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি ব্যাটারিচালিত রিকশাকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে সড়কের পাশের একটি দোকানে ঢুকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই নারী শ্রমিকের মৃত্যু হয় এবং অন্তত ২০ জন আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠান।
তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত গাড়ি ও বাসটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
জেআই
