বিজ্ঞাপন

ফ্যাসিবাদ উৎখাতের পর্ব শেষ, এখন দেশ গড়ার পালা : জহির উদ্দিন স্বপন

ফ্যাসিবাদ উৎখাতের পর্ব শেষ, এখন দেশ গড়ার পালা : জহির উদ্দিন স্বপন

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ফ্যাসিবাদ উৎখাতের পর্ব শেষ, এখন আমাদের দেশ গড়ার পালা। আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। এখন সময় রাষ্ট্র পুনর্গঠন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার।

শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ‘বুলেটের মুখে বাংলাদেশ, ফ্যাসিবাদের হলো শেষ’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আমরা বিএনপি পরিবার ও বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন(বিপিজেএ)।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই আন্দোলনের কৃতিত্ব দেশের জনগণের হলেও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দূর থেকে আন্দোলনের নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, তারেক রহমান কখনো গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নিজের বলে দাবি করেননি। বরং তিনি সব সময় বলেছেন, এই বিজয় জনগণের। আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে তিনি গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করেছেন।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আরও বলেন, আন্দোলনের সময় তারেক রহমানের দেওয়া ‘যদি তুমি ভয় পাও, তবে তুমি শেষ; যদি তুমি রুখে দাঁড়াও, তবে তুমি বাংলাদেশ’ এবং ‘দেশ যাবে কোন পথে, ফয়সালা হবে রাজপথে’ এই স্লোগানগুলো আন্দোলনে নতুন গতি এনে দেয়। শেষ পর্যন্ত ৫ আগস্ট রাজপথেই গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত ফয়সালা হয়েছে।

তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর এখন আর সংঘাতের রাজনীতি নয়, বরং দেশ গড়ার রাজনীতি প্রয়োজন। গণতান্ত্রিক চর্চা, কার্যকর সংসদীয় ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, আন্দোলন কারও কাছে পেশা হতে পারে, কিন্তু আমাদের কাছে আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং একটি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। সেই লক্ষ্য অর্জনের পর এখন উন্নয়ন ও রাষ্ট্র গঠনের কাজে সবাইকে মনোযোগী হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণে আলোকচিত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফটোজার্নালিস্টদের ধারণ করা প্রতিটি ছবি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের দলিল হয়ে থাকবে।

শেষে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, সংগ্রামের ইতিহাস সংরক্ষণ করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলাও আমাদের সবার দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো ব্যক্তি বা একক দলের অর্জন নয়, এটি ছিল সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত আন্দোলন। তিনি বলেন, রাজপথে যারা জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন কিংবা নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন সবাই এ আন্দোলনের অংশীদার।

তিনি বলেন, বিএনপি কিংবা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কখনোই গণঅভ্যুত্থানের একক দাবিদার হওয়ার কথা বলেননি। তাই জুলাই আন্দোলনকে ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করে এর প্রকৃত চেতনা ধরে রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের সময় সাংবাদিকদের সাহসী ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। অনেক সাংবাদিক জীবনঝুঁকি নিয়ে সত্য তুলে ধরেছেন এবং একে অপরকে সহযোগিতা করেছেন। তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গঠনে কাজ করার আহ্বান জানান।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে আলোকচিত্র প্রদর্শনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ প্রদর্শনী শুধু ঢাকায় সীমাবদ্ধ না রেখে বিভাগীয় শহরগুলোতেও আয়োজন এবং তা ডকুমেন্টারি ও প্রামাণ্যচিত্রে সংরক্ষণের আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, জুলাই ও ৭১ সাংঘর্ষিক নয়, বরং একে অপরের পরিপূরক। গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।

কবি হাসান হাফিজ আরও বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে সাংবাদিকদের ওপর নিপীড়ন-নির্যাতন চালানো হয়েছে। তিনি সাগর-রুনি হত্যাসহ সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি এটি গত ১৬ বছরের আন্দোলন-সংগ্রাম, নিপীড়ন, ভোটাধিকার হরণ, গুম-খুন ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি হয়েছে দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। জুলাই আমাদের অহংকার, জুলাই আমাদের বিশ্বাস এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

কাদের গনি চৌধুরী আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করেই একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী ও বুদ্ধিজীবীদের সত্য, মানবতা ও গণতন্ত্রের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজেএ) সভাপতি একেএম মহসীন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গত ১৭ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ফটোসাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সত্য তুলে ধরেছেন। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর প্রকৃত আন্দোলনকারী ও ফটোসাংবাদিকদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি।

তিনি বলেন, ৫ আগস্ট না এলে অনেকেই ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী হিসেবেই থেকে যেতেন। কিন্তু যারা রাজপথে জীবন বাজি রেখে আন্দোলন করেছেন, তারাই আজ অবহেলার শিকার।

একেএম মহসীন আরও বলেন, জুলাই যোদ্ধা হিসেবে সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রকৃত আন্দোলনকারী ফটোসাংবাদিকদের মতামত নেওয়া হয়নি। তিনি প্রকৃত ভূমিকা রাখা সাংবাদিকদের পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানান।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ফটোসাংবাদিকদের 'ফটো জার্নালিস্ট' হিসেবে স্বীকৃতি, রাষ্ট্রীয় পুরস্কারের অন্তর্ভুক্তি এবং পেশাগত মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

এছাড়া তিনি বিএনপি পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আহত সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানো এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্যোগে সহযোগিতা করার জন্য তাদের ভূমিকা প্রশংসনীয়। একই সঙ্গে তিনি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতি ফটোসাংবাদিকদের জন্য বিশেষ মর্যাদা ও কল্যাণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথিসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন স্মরণীয় মুহূর্ত নিয়ে আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।

এসএএ/এসএএস