চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের খেলার মাঠ সংস্কার ও উন্নয়ন কাজে ‘রডের বদলে বাঁশ’ ব্যবহারের অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে অভিযোগকারীকে সঙ্গে নিয়ে সরেজমিনে মাঠ পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। আমি মেয়র হওয়ার পর চট্টগ্রামের প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। এরইমধ্যে ১১টি খেলার মাঠের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। শিগগিরই জাম্বুরি খেলার মাঠ উদ্বোধন করা হবে এবং বাকি মাঠগুলোর জন্য ডিপিপি প্রস্তুত করা হচ্ছে।’
সম্প্রতি এইচ এম শাহীন নামে এক ব্যক্তি নিজেকে চট্টগ্রাম কলেজের শিক্ষার্থী দাবি করে ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। সেখানে প্রায় ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ের এই উন্নয়ন প্রকল্পে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ এনে সিটি কর্পোরেশন ও মেয়রের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয় বলে জানায় চসিক।
চসিকসূত্রে জানা যায়, বিষয়টি নজরে আসার পর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আজ শনিবার সকালে অভিযোগকারীকে সঙ্গে নিয়ে মাঠের প্রতিটি অংশ তন্ন তন্ন করে খোঁজেন মেয়র। তবে রডের বদলে বাঁশ দেওয়ার কোনো অস্তিত্ব বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি ভিডিওতে যে সিকিউরিটি গার্ডের বরাত দিয়ে নিম্নমানের কাজের দাবি করা হয়েছিল, মেয়র সরাসরি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি এ ধরনের কোনো মন্তব্য করেননি বলে জানান।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘এই প্রকল্পটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নের নয়, বরং বিশ্বব্যাংকের ফান্ড থেকে পরিচালিত হচ্ছে। ঠিকাদার নিয়োগ থেকে শুরু করে যাবতীয় তদারকি বিশ্বব্যাংক নিজেই করে থাকে। এখানে চসিকের আর্থিক লেনদেন বা ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণের কোনো সুযোগ নেই। এই কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে এবং যুবসমাজকে মাদক ও কিশোর গ্যাং থেকে দূরে রাখতে আমি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিশ্বব্যাংককে অনুরোধ করে এই বরাদ্দ এনেছি।’
আধুনিক এই খেলার মাঠে ফ্লাডলাইট, সৌন্দর্যবর্ধন, ওয়াকওয়ে, টয়লেট সুবিধা ও চিলড্রেন পার্কসহ নানা নাগরিক সুবিধা যুক্ত করা হচ্ছে। মেয়র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি বিশেষ মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ভালো কাজের ওপর কালিমালিপ্ত করতে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
মেয়র আরও বলেন, ‘রডের বদলে বাঁশ দেওয়ার প্রমাণ দিতে পারলে আমি এখনই ঠিকাদারের অ্যাগ্রিমেন্ট বাতিল করে শতভাগ টাকা ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা করব। কিন্তু প্রমাণ ছাড়া এভাবে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে চসিক ও মেয়রের সম্মানহানি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মিথ্যা প্রচারণাকারীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এদিকে প্রকল্পের নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি জানান, সারাদেশে তাদের অর্ধশতাধিক প্রজেক্ট সুনামের সঙ্গে চলছে। ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের প্রমাণ কেউ দিতে পারলে সম্পূর্ণ ঢালাই নিজ খরচে নতুন করে করে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন তিনি।
মাঠ পরিদর্শনকালে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমানসহ চসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রকল্পের ঠিকাদাররা উপস্থিত ছিলেন।
জেডএস
