বিজ্ঞাপন

বাঘের বিনিময়ে একমাত্র জেব্রার সঙ্গী আনতে চায় চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা

বাঘের বিনিময়ে একমাত্র জেব্রার সঙ্গী আনতে চায় চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা

মারামারি ও প্রসবকালীন জটিলতাসহ নানা কারণে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনা চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ছয়টি জেব্রার মধ্যে পাঁচটিরই মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে চিড়িয়াখানাটিতে রয়েছে মাত্র একটি মাদি জেব্রা। একা থাকা জেব্রাটির জন্য সঙ্গী আনতে দেশের কোনো সাফারি পার্ক বা চিড়িয়াখানা থেকে জেব্রা সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।

এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। দেশের কোনো সাফারি পার্ক বা চিড়িয়াখানার সঙ্গে প্রাণী বিনিময়ের মাধ্যমে জেব্রা সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের জায়গার তুলনায় বর্তমানে চিড়িয়াখানায় বাঘের সংখ্যা অনেক বেশি। অতিরিক্ত বাঘের বিনিময়ে দেশের কোনো সাফারি পার্ক বা চিড়িয়াখানা থেকে জেব্রা সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে এক জোড়া বাঘের বিনিময়ে তিন জোড়া জেব্রা আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

কর্তৃপক্ষ আরও বলছে, বর্তমানে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় ১৭টি বাঘ রয়েছে। অতিরিক্ত বাঘের বিনিময়ে জেব্রা সংগ্রহ করা গেলে চিড়িয়াখানায় জেব্রার সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি একা থাকা মাদি জেব্রাটিও সঙ্গী পাবে।

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০১৮ সালের ৬ মার্চ নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে চারটি মাদিসহ ছয়টি জেব্রা আনা হয়েছিল। তবে ওই বছরই দুটি জেব্রার মৃত্যু হয়।

চিড়িয়াখানার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২১ অক্টোবর মারামারিতে আহত হয়ে একটি জেব্রার মৃত্যু হয়। একই বছরের নভেম্বরে প্রসবকালীন জটিলতায় মারা যায় আরও একটি জেব্রা। এরপর ২০২১ সালের ২৯ জুলাই মারামারির ঘটনায় আরেকটি জেব্রার মৃত্যু হয়। এছাড়া ২০২৪ সালের ৭ জুন এবং চলতি বছরের ২৭ মার্চ প্রসবকালীন জটিলতায় আরও দুটি জেব্রার মৃত্যু হয়। ফলে ছয়টি জেব্রার মধ্যে বর্তমানে বেঁচে আছে মাত্র একটি।

চিড়িয়াখানার কর্মকর্তারা বলছেন, এর আগে ২০২৩ সালে রংপুর চিড়িয়াখানায় দুটি বাঘের বিনিময়ে ঢাকা জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে এক জোড়া জলহস্তী আনা হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবারও প্রাণী বিনিময়ের মাধ্যমে জেব্রা সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, আগে জেব্রার জন্য যে জায়গা ছিল, সেটি খুব ছোট ছিল। এখন জায়গাটি বড় করা হয়েছে। সে কারণে নতুন করে জেব্রা আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আমরা আশা করছি, প্রাণী বিনিময়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় জেব্রা সংগ্রহ করা গেলে বর্তমানে একা থাকা মাদি জেব্রাটির জন্য সঙ্গী নিশ্চিত করার পাশাপাশি চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় জেব্রার সংখ্যা আবারও বাড়ানো সম্ভব হবে।

এমআর/এমএন