বিজ্ঞাপন

আমদানি র্নিভরতায় সহসাই জ্বালানি সংকট কাটবে না : খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম

আমদানি র্নিভরতায় সহসাই জ্বালানি সংকট কাটবে না : খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম

দেশে চলমান জ্বালানি সংকট দ্রুত সময়ে দূর হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডিস্ট্রিবিউটেড রিনিউয়েবল এনার্জি প্ল্যাটফর্মের (ডিআরইপি) কোঅর্ডিনেটর ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। 

তিনি বলেন, আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভর করলে শিল্প-কারখানা চালানো আগামীতে অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে। এ সংকট মোকাবিলায় বিশাল জমি ও সঞ্চালন লাইনের ঝামেলামুক্ত বিকেন্দ্রায়িত নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে (বিনজা) গুরুত্ব বাড়ানোই টেকসই সমাধান।

রোববার (২ আগস্ট) রাজধানীর পল্টনের ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত 'ডিস্ট্রিবিউটেড রিনিউয়েবল এনার্জি : দ্য ফিউচার সোলার সলিউশন ফর বাংলাদেশ' শীর্ষক এক সেমিনারে সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালার সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

সেমিনারে ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, আমরা একটি বিনজা প্ল্যাটফর্‌ম গড়ে তুলবো। এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে জ্বালানির নতুন নতুন কাঠামো নিয়ে গবেষণা করা হবে। এর মাধ্যমে আগামীতে আপনারা আরো বিশেষায়িত নবায়নযোগ্য জ্বালানি দেখতে পাবেন। এটি প্রচলিত বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো নয়, যার জন্য প্রচুর জমিরও প্রয়োজন হয় না। এটি মূলত বাসাবাড়ির ছাদ, শিল্প-কারখানা কিংবা কৃষি জমিতে ক্ষুদ্র আকারে স্থাপিত হয়। 

তিনি বলেন, এর বড় সুবিধা হলো, এর জন্য বিশাল সঞ্চালন লাইনের প্রয়োজন পড়ে না। আর উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি ডিস্ট্রিবিউশন লাইনের মাধ্যমে গ্রিডে দেওয়া যায় অথবা সরাসরি ব্যবহার করা যায়। বিদ্যমান সক্ষমতা ও সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৬৫৫ মেগাওয়াট বিকেন্দ্রায়িত নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদিত হচ্ছে। 

এ উদ্যোগকে 'নীরব বিপ্লব' উল্লেখ করে ড. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, আগামী দিনে পরিবহন খাতে ইলেকট্রিক ভেহিকেল (ইভি), কৃষি খাতে সৌর সেচ ও মিনি গ্রিড এবং বাসাবাড়িতে ইলেকট্রিক চুলার ব্যবহার আরও বাড়বে। হাসপাতাল ও শিল্প-কারখানায় ব্যাটারি এবং স্মার্ট গ্রিড প্রযুক্তির ব্যবহার একটি 'নীরব বিপ্লব' হিসেবে কাজ করছে, যা জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। 

তিনি বলেন, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে গঠিত এ প্ল্যাটফর্মে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান- অ্যাকশনঅ্যাইড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ), সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (ক্লিন) ও সোলশেয়ার যৌথভাবে কাজ করছে। এ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে চীন বা ভিয়েতনামের মতো উন্নত দেশগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশেও সৌর বিদ্যুতের প্রসারে নীতি গবেষণা, আইনি কাঠামো বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ড. মোয়াজ্জেম তার বক্তব্যে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত এবং উন্নয়ন সহযোগীদের এ বিকেন্দ্রায়িত উৎপাদন কাঠামো প্রসারে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

ইআরএফ ও ডিস্ট্রিবিউটেড রিনিউএবল এনার্জি প্লাটফর্ম (ডিআরইপি) যৌথভাবে এ সেমিনারের আয়োজন করেছে। এতে সহযোগী আয়োজক হিসেবে ছিলেন অ্যাকশনঅ্যাইড বাংলাদেশ, বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউএবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআরইএ), সিপিডি, ক্লিন ও সোলশেয়ার।

সেমিনারে সিপিডির পক্ষে 'কারেন্ট স্ট্যাটাস অব ডিস্ট্রিবিউটেড রিনিউয়েবল এনার্জি ইন বাংলাদেশ' বিষয়ের ওপর প্রেজেন্টেশন দেন সহযোগী গবেষক মো. মেহেদী হাসান শামীম, বিএসআরইএ'র পক্ষে 'চ্যালেঞ্জেস ফেইজড বাই ইপিসি অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাক্টরস' বিষয়ে প্রেজেন্টেশন দেন কোম্পানির সেক্রেটারি এসএম মুনির, ক্লিনের পক্ষে 'রোল অফ অ্যাওয়ারনেস ইন অ্যাডাপশন অ্যান্ড রিটেনশন অব ডিআরই টেকনোলজিস' বিষয়ক প্রেজেন্টেশন দেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হাসান মেহেদী, সোলশেয়ারের পক্ষে 'রোল অব স্টোরেজ ইন ফিউচার অফ ডিআরই' বিষয়ক প্রেজেন্টেশন দেন পরিচালক ইস্তিয়াক আহমেদ এবং অ্যাকশন এইডের পক্ষে 'ফিন্যান্সিং চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড প্রায়োরিটিজ অরডিয়ারি এক্সপ্যানশন' বিষয়ক প্রেজেন্টেশন দেন ম্যানেজার আবুল আজাদ।

এমএমএইচ/আরএফ