চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন চূড়ান্ত পেশাগত এমবিবিএস পরীক্ষা, নভেম্বর-২০২৫-এর সার্জারি প্রথম পত্রের মৌখিক, ব্যবহারিক ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা ঘিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষার্থীদের নম্বর চূড়ান্ত করার গোপন নম্বরিং কক্ষে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করেন বিএনপি-সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) নেতা ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটের চিকিৎসক ডা. ঈসা চৌধুরী। তার উপস্থিতিতেই ছাত্রদলের ছয়জন নেতার নম্বর পরিবর্তন বা টেম্পারিং করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ থেকে ৭ জুলাই চট্টগ্রামের বেসরকারি মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজে সার্জারি প্রথম পত্রের মৌখিক, ব্যবহারিক ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কলেজটির সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. ইউনুস হারুন চৌধুরী, অর্থোপেডিক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মো. সাইফুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ এয়াকুব হোসেন ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. ইমরুজ উদ্দিন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ৭ জুলাই লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষে পরীক্ষকদের গোপন নম্বরিং কার্যক্রম চলাকালে ডা. ঈসা চৌধুরী ওই কক্ষে প্রবেশ করেন। এরপর তার উপস্থিতিতেই ছাত্রদলের ছয়জন নেতার নম্বর পরিবর্তন বা টেম্পারিং করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে কয়েকজন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী কলেজের ডিন (সার্জারি) অধ্যাপক ডা. মাসুদ করিমের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে আসে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। গত ২৭ জুলাই চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. সুলতানা রুমা আলম এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ডা. অজয় দেব মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন এবং অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের কিছুই জানায়নি। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গোপন নম্বরিং কক্ষে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর অনিয়ম। বিষয়টি আমাদের কাছে আসার পরই উপাচার্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এখন বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. সুলতানা রুমা আলম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অভিযোগের বিষয়ে ডা. ঈসা চৌধুরী ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমি সেখানে রোগী দেখতে গিয়েছিলাম। পরিচিত কয়েকজনের সঙ্গে এমনিতেই কথা বলেছি। নম্বর ট্যাম্পারিংয়ের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ ধরনের অপপ্রচার করা উচিত নয়। আমাদের ড্যাবের একজন এবং আওয়ামী লীগের সমর্থক কয়েকজন চিকিৎসক বিষয়টি নিয়ে অপপ্রচার করছেন।
এমআর/জেআই
