বিজ্ঞাপন

হত্যা মামলায় আত্মসমর্পণ করে কারাগারে নারী, সাংবাদিকদের উপর চড়াও স্বজনরা

হত্যা মামলায় আত্মসমর্পণ করে কারাগারে নারী, সাংবাদিকদের উপর চড়াও স্বজনরা

বছর দেড়েক আগে ঢাকার নবাবগঞ্জের নয়াকান্দা বাজারে মোখলেছুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে খুনের মামলায় পারভীন নামে এক নারীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। পরে আসামির ভিডিও নিতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন আসামির স্বজনরা।

রোববার (২ আগস্ট) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক শ্যাম সুন্দর রায়ের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন পারভীন। তার পক্ষে অ্যাডভোকেট আহমদ উল্লাহ আমান জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি নিয়ে ট্রাইব্যুনাল জামিনের আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। 

এরপর তাকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে বের করে ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় পৌঁছে দিতে যান দায়িত্বরত কয়েকজন পুলিশ সদস্যরা। এসময় আসামির ভিডিও নিতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন আসামির স্বজনরা। পরবর্তী সময়ে ঢাকার জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে আবার আসামির ফুটেজ নিতে গেলে স্বজনরা মব সৃষ্টি করেন। মোবাইল থেকে ভিডিও ডিলিট করতে চাপ দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে তারা সাংবাদিকদের ঘিরে ধরে তাদের ওপর চড়াও হন। 

আদালত সূত্রে জানা যায়, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি নবাবগঞ্জের নয়াকান্দা বাজারে মোখলেছুরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার স্ত্রী বিলকিছ বেগম পরদিন নবাবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে গত বছরের ৩১ অাগস্ট পারভীনসহ ২০ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) দেলোয়ার হোসেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলো- দেলোয়ার, মাহফুজ হাসান ওরফে শাওন, হিমেল দেওয়ান, মহিউদ্দিন, তোফায়েল, মোহাম্মদ ইমরান শেখ, ইউসুফ আহম্মেদ কায়েস ওরফে কয়েজ, জামাল, জামিল খা ওরফে দুলাল, সুরাইয়া, মোজাম্মেল, বিল্লাল হোসেন, জমিলা খাতুন, সোহরাব হোসেন, মোকছেদ ওরফে মোকলেছুর রহমান, মনির ওরফে মনির হোসেন, ইব্রাহীম বাবু ওরফে তানভীর ইসলাম ইব্রাহীম ও আবুল।

এদের মধ্যে পারভীন, দেলোয়ার, মাহফুজ, মহিউদ্দিন, তোফায়েল, হিমেল ইমরান পলাতক ছিল। গত ২৫ জুন অভিযোগপত্র গ্রহণ করে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য করা হয় ১০ আগস্ট।

আজ রোববার পারভীন ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়। আদেশে বিচারক বলেন, ‘এটি একটি হত্যা মামলা। অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। ইতোপূর্বে আসামি জামিনের শর্তের অপব্যবহার করে পলাতক হয়েছিল। সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আসামিকে সংশ্লিষ্ট আমলী আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিলেও সে তা করেনি। পলাতক হওয়ার দীর্ঘদিন পর আত্মসমর্পণ করেছে। জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হলো।’

মামলা দায়েরের পর গত বছরের ৯ এপ্রিল উচ্চ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পান পারভীন। উচ্চ আদালতের নির্দেশে একই মাসের ২৭ এপ্রিল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেন তিনি।

পারভীনের জামিন বাতিলে ৭ বার রিভিশন করে বাদীপক্ষ। সর্বশেষ জেলা ও দায়রা জজ আদালত তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। তবে আত্মসমর্পণ করেননি পারভীন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে আসামি জামালের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য ভিক্টিম মোখলেছুরের ভাতিজা মোসলেহ উদ্দিন পায়েলের কাছে মোটরসাইকেল চায়। পায়েল মোটরসাইকেল দিতে অস্বীকৃতি জানালে জামালের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি। জামাল তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। মোখলেছুর বিষয়টি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়ে মীমাংসা করার জন্য আসামিদের বলেন। এতে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়। পরে ১১ এপ্রিল বিকেল ৫টার দিকে নবাবগঞ্জের নয়াকান্দা বাজারে মোখলেছুরকে পিটিয়ে হত্যা করে আসামিরা।

এনআর/আরএফ

বিজ্ঞাপন