চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনালসহ (সিসিটি) প্রতিষ্ঠানটির কোনো স্থাপনা দেশি-বিদেশি মালিকানায় ইজারা না দেওয়ার দাবিতে বন্দর অভিমুখে পদযাত্রা করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রাম।
সোমবার (৩ আগস্ট) নগরীর আগ্রাবাদের বাদামতলী মোড় থেকে পদযাত্রাটি শুরু হয়। তবে বারিক বিল্ডিং মোড়ে পৌঁছানো পর পুলিশ বাধা দিলে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ করা হয়।
পদযাত্রার আগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার। সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু।
সমাবেশে বক্তব্য দেন শ্রম সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য তপন দত্ত, বন্দর সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শ. ম. জামাল উদ্দিন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ-মার্ক্সবাদী) চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সদস্য দীপা মজুমদার, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিমসহ বিভিন্ন শ্রমিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা।
তপন দত্ত বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র ও আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার। বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন থাকলেও জাতীয় সম্পদ বিদেশি বা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া উচিত নয়। এমন সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, বন্দরের সঙ্গে লাখো শ্রমিক, কর্মচারী, পরিবহন শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের জীবিকা জড়িত। উন্নয়নের নামে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হলে জনগণ তা মেনে নেবে না।
কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের মানুষের সম্পদ। শ্রমিকদের মতামত উপেক্ষা করে বন্দরের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য হবে না। রাষ্ট্রীয় মালিকানা বজায় রেখে বন্দরের আধুনিকায়ন করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম বলেন, শ্রমিকদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টা হলে শ্রমিক সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে তার প্রতিরোধ করবে।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ও জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বন্দরের কোনো স্থাপনা দেশি-বিদেশি মালিকানায় ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বাতিল করে অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন, দুর্নীতি দূরীকরণ এবং দক্ষ জনবল নিয়োগের মাধ্যমে বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
সমাবেশে প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার আগামী ১৫ আগস্ট সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই হলে ‘বন্দর রক্ষা নাগরিক কনভেনশন’ আয়োজনের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, শ্রমিক, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এ কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে।
সমাবেশ শেষে ‘বন্দর বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’, ‘এনসিটি-সিসিটি ইজারা দেওয়া চলবে না’ এবং ‘জাতীয় সম্পদ রক্ষায় জনগণ ঐক্যবদ্ধ’সহ বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা বন্দর অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেন। তবে বারিক বিল্ডিং মোড়ে পুলিশের বাধার মুখে কর্মসূচি শেষ হয়।
এমআর/আরএফ
