শিশুদের বংশগত (জেনেটিক) কিডনি রোগ দ্রুত শনাক্ত ও কার্যকর চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নিয়মিত স্ক্রিনিং, জেনেটিক কাউন্সেলিং এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।
সোমবার (৩ আগস্ট) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের কনফারেন্স হলে শিশু নেফ্রোলজি বিভাগের উদ্যোগে ‘শিশুদের কিডনি রোগে জেনেটিক্স’ বিষয়ক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন শিশু নেফ্রোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সনৎ কুমার বড়ুয়া। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন, কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আবদুর রব, বাংলাদেশ পেডিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ এ. চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালী, নেফ্রোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. নুরুল হুদা এবং শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা মিয়া।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, সংক্রামক ব্যাধি ছাড়া অধিকাংশ রোগের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জেনেটিক্সের সম্পর্ক রয়েছে। শিশুদের কিডনি রোগের প্রকৃত কারণ নির্ণয়, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং চিকিৎসা পরিকল্পনা প্রণয়নে জেনেটিক বিশ্লেষণ ও জেনেটিক কাউন্সেলিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকলেও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানে প্রতিনিয়ত নতুন প্রযুক্তি যুক্ত হচ্ছে। ভবিষ্যতে নেফ্রোটিক সিনড্রোমসহ কিডনির বিভিন্ন জন্মগত রোগের চিকিৎসায় জিন থেরাপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই এখন থেকেই রোগীদের নিয়মিত স্ক্রিনিং, সঠিক রোগ নির্ণয় ও দীর্ঘমেয়াদি ফলোআপ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সেমিনারে শিশুদের কিডনি রোগে বংশগত কারণ, বিরল রোগ শনাক্তে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, জেনেটিক কাউন্সেলিংয়ের প্রয়োজনীয়তা এবং বাংলাদেশের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচনা হয়।
বক্তারা বলেন, সময়মতো রোগ শনাক্ত, নিয়মিত স্ক্রিনিং, জেনেটিক কাউন্সেলিং ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহারের মাধ্যমে শিশুদের বংশগত কিডনি রোগের চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব। এ জন্য চিকিৎসক, গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
আরএমএন/এসএএস
