বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেলে আটকে পড়া মাল্টার পতাকাবাহী জাহাজ উদ্ধার

চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেলে আটকে পড়া মাল্টার পতাকাবাহী জাহাজ উদ্ধার

চট্টগ্রাম বন্দর চ্যানেলের কর্ণফুলী নদীর মোহনায় আটকে পড়া মাল্টার পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ সিএনসি ইউরেনাসকে রাতভর অভিযানে উদ্ধার করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। পরে জাহাজটিকে ‘বি’ (ব্রাভো) অ্যাঙ্করেজে নোঙর করানো হয়। এ সময় বন্দরের নৌযান চলাচল ও পণ্য খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর প্রায় ২টা ১৫ মিনিটে কর্ণফুলী নদীর চ্যানেলে প্রবেশের সময় ২০১৭ সালে নির্মিত, ১৭০ মিটার দীর্ঘ মাল্টার পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ এমভি সিএনসি ইউরেনাসের স্টিয়ারিং বিকল হয়ে যায়। এতে জাহাজটি ২ নম্বর লাল বয়ার সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে নদীর মোহনার রিটেইনিং ওয়ালে আটকে পড়ে।

চীনের শিকৌ বন্দর থেকে আসা জাহাজটিতে ১ হাজার ২৮২ টিইইউএস পণ্য এবং শিপ মাস্টারসহ ২৪ জন নাবিক ছিলেন। জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট এপিএল (বাংলাদেশ)।

ঘটনার পরপরই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জরুরি উদ্ধার অভিযান শুরু করে। অভিযানে বন্দরের সিনিয়র পাইলট, টাগবোট ‘কান্ডারী-২’, ‘কান্ডারী-৪’, ‘কান্ডারী-৬’ ও ‘কান্ডারী-১১’, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর টাগবোট ‘শিবসা’, টানেল টাগবোট এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের টাগবোট ‘প্রমত্ত’ অংশ নেয়। নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের সদস্যরাও চ্যানেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরাসরি উদ্ধারকাজে যুক্ত ছিলেন।

উদ্ধারকারী দল রাতভর নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চালায়। প্রয়োজন হলে জাহাজের ড্রাফট কমাতে সাময়িকভাবে কিছু কন্টেইনার খালাসের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল।

অবশেষে গভীর রাতে সমন্বিত প্রচেষ্টায় জাহাজটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে ‘ব্রাভো’ অ্যাঙ্করেজে নিয়ে নোঙর করানো হয়। পুরো উদ্ধার অভিযান চলাকালে বন্দর চ্যানেল সচল ছিল এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রায় ৯২ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহন পরিচালনা করে। তাই দ্রুততম সময়ে জাহাজটি উদ্ধার করায় বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা এবং জাতীয় বাণিজ্য সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা সম্ভব হয়েছে।

আরএমএন/আরএফ