চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা হানিফ প্লাস পরিবহনের একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে ৩ হাজার ৬৬০ পিস ইয়াবাসহ বাসের চালক ও হেলপারকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল পৌনে তিনটার দিকে বাকলিয়া থানার রাজাখালী এলাকার ‘মেসার্স আলম অ্যান্ড সন্স’ দোকানের সামনে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় ইয়াবা বহনে ব্যবহৃত হানিফ প্লাস বাসটি (চট্ট মেট্রো-ব-১১-১২৯২) জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের মধ্যম পাড়ার আবু তালেবের ছেলে বাসের হেলপার মো. মুজিব (২১) এবং পটিয়া উপজেলার জঙ্গলখাইন ইউনিয়নের পাইরোল সাদার পাড়ার আলী আজগরের ছেলে বাসের চালক মো. আবু হানিফ (২৪)।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পাওয়া যায় যে কক্সবাজার থেকে ছেড়ে আসা যাত্রী পরিবহনের একটি বাসে ইয়াবার চালান চট্টগ্রামের দিকে আসছে। ওই সংবাদের ভিত্তিতে বাকলিয়া থানাধীন রাজাখালী এলাকায় একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ি তল্লাশি শুরু করে র্যাব-৭, চান্দগাঁও ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল।
বিকেল পৌনে তিনটার দিকে নীল রঙের হানিফ প্লাস বাসটিকে থামানোর সংকেত দেওয়া হয়। বাসটি ব্যারিকেডের সামনে থামলে যাত্রীবিহীন বাসের চালক ও হেলপারের কথাবার্তা অসংলগ্ন মনে হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা স্বীকার করেন যে বাসের শেষ সিটের ডান পাশে পারটেক্স বোর্ড দিয়ে তৈরি বিশেষ চেম্বারে ইয়াবা লুকানো রয়েছে।
পরবর্তী সময়ে চালক ও হেলপারের দেখানো জায়গা থেকে পলিথিন ও স্কচটেপে মোড়ানো দুটি বান্ডেল থেকে ৩ হাজার ৬৬০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা এসব ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ ৯৮ হাজার টাকা।
র্যাব-৭ চান্দগাঁও ক্যাম্পের স্কোয়াড কমান্ডার বিপুল চন্দ্র ভৌমিক ঢাকা পোস্টকে বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসামিরা স্বীকার করেছেন যে দীর্ঘদিন ধরে তারা পরিবহন পেশার আড়ালে কক্সবাজারের সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন স্থানে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করে আসছিলেন।’
গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করে উদ্ধারকৃত আলামতসহ বাকলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল কবির।
এমআর/আরএফ
